বুকার জয়ী লেখক সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। উল্টো এই হামলার জন্য লেখককেই দোষারোপ করেছে দেশটি।  

সোমবার রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় প্রথমবার রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কান্নানি আনুষ্ঠানিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তেহরান ‘স্পষ্টভাবে’ অস্বীকার করছে।  ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে অভিযুক্ত করার অধিকার কারও নাই। খবর বিবিসি অনলাইনের। 

তবে নাসের কান্নানি এও বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি লেখার মাধ্যমে রুশদির ধর্মকে অবমাননাকে সমর্থন করে না। 

তেহরানে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হামলার জন্য আমরা সালমান রুশদি এবং তার সমর্থকদের ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ কিংবা নিন্দার যোগ্যও মনে করি না। 

তিনি বলেন, ইসলামের পবিত্র বিষয়ের অবমাননা এবং ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মুসলিম এবং স্বর্গীয় ধর্মের সমস্ত অনুসারীদের চূড়ান্ত সীমা রেখা (রেড লাইন) লঙ্ঘন করে সালমান রুশদি নিজেই নিজেকে মানুষের রাগ এবং ক্ষোভের মধ্যে নিয়ে গেছেন। 

তিনি জানান, মিডিয়াতে আসা তথ্য ছাড়া রুশদির ওপর হামলাকারী সম্পর্কে আর কোনো তথ্য ইরানের কাছে নেই। 

প্রসঙ্গত, ৭৫ বছর বয়সী রুশদি নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। তবে এখন তার অবস্থার উন্নতির দিকে এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা ছাড়াই এখন শ্বাস নিতে পারছেন। হামলার পর পর বলা হয়েছিল, তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ১৯৮৮ সালে তার লেখা দ্য স্যাটেনিক ভার্সেস উপন্যাস প্রকাশের পর থেকেই তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন। 

এদিকে রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন দেশটিকে অভিযুক্ত করেন এবং ইরানের এই আচরণকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করেন। 

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার ব্যাপারে নানান মন্তব্য করছে এবং এটিকে ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডেইলি জাম-ই-জাম হামলায় রুশদির এক চোখ হারানোর বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশ করেছে এবং বলেছে ‘শয়তানের একটি চোখ অন্ধ হয়ে গেছে।’