দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিজঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা থেকে সেনা সরাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। ওই এলাকা নিরস্ত্রীকরণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মস্কো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করল। খবর বিবিসির।

রুশ এক কর্মকর্তা বলেন, নিরস্ত্রীকরণের পদক্ষেপ ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।

ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই। এমন সময় এ কেন্দ্রকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়। যেখানে হামলার জন্য একে অপরকে দুষছে মস্কো ও কিয়েভ।

কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন ইউক্রেনের কর্মীরা। এটি মার্চ থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের রয়েছে। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিকেই রাশিয়ার সেনারা ওই এলাকা দখলে নিতে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জাপোরিজঝিয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতির অর্থ হলো আত্মহত্যা।

এর আগে লভিভে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছেন যে, ইউরোপের বৃহত্তম এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা যেন নিরস্ত্রীকরণ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গুতেরেস বলেন, এ স্থাপনাকে কোনোভাবেই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করে এরদোগান বলেন, আমি ‘আরেকটি চেরনোবিলের’ বিপদ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।

এদিকে জেলেনস্কি ওই কেন্দ্রে রাশিয়ার ‘সুচিন্তিত’ হামলার সমালোচনা করেছেন।

মস্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এ কেন্দ্রকে সেনা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন নেতাই রাশিয়াকে ওই এলাকা নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানান।

কিন্তু রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সংবাদমাধ্যম বিভাগের উপপরিচালক ইভান নেচায়েভ তাদের এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তাদের আহ্বানের বাস্তবায়ন ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।

আবেদনটি এসেছে মূলত ইউক্রেনের কর্মীদের কাছ থেকে, যারা ওই কেন্দ্রে কাজ করছেন রাশিয়ার নির্দেশনায়। তারা সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কেননা, ওই কেন্দ্রের আশেপাশে দুই সপ্তাহ ধরে হামলার ঘটনা ঘটছে।

নানা আশঙ্কা সত্ত্বে জানা যাচ্ছে, ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা এখনো চেরনোবিলের চেয়ে নিরাপদ রয়েছে। আর চেরনোবিলে ঘটেছিল ইতিহাসের বাজে পারমাণবিক দুর্ঘটনা।