সম্ভাবনার নির্দিষ্ট অনুভূতির বিচ্ছুরণ ঘটায় একেকটি বিমানবন্দর। অ্যাডভেঞ্চার এবং নতুন অভিজ্ঞতার দিগন্ত খুলে দেয় এগুলো। তাই একেকটি নানন্দিক বিমানবন্দর তৈরির পর স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে- এর পরের চমক কে দেখাবে?

বিশ্বে এখন প্রচুর রোমাঞ্চকর নকশার বিমানবন্দর রয়েছে। তবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরে একটি নতুন টার্মিনাল শিগগিরই হয়তো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা উপাধি পেতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। একটি পুরোনো ডককে বাদ দিয়ে সেখানে নতুন করে প্রতিস্থাপনের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। বিমান স্থপতিদের সহযোগিতায় এর নকশা করা হয়েছে। ভ্রমণকারীদের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের সব বিমান চালনাসংক্রান্ত নকশাকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জার্মান ভাষায় প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে, 'রউমফেচরেক' বা মহাকাশ কাঠামো (স্পেস ফ্রেম)। এটি প্রায় সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠের বিমানবন্দর টার্মিনাল। বিশাল 'ভি' আকৃতির কাঠের কলামগুলোর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যা মূল ভার বহন করছে। মূলত ওই এলাকার আলপাইন ল্যান্ডস্কেপ এবং সুইস স্থাপত্যের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ছাদের নকশা এর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এটা কেবল আকর্ষণীয়ই নয়, স্থায়িত্বের ক্ষেত্রেও অনুপম। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য স্থানীয় সম্পদ হিসেবে কাঠ ব্যবহারের মাধ্যমে অতীতকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এখানে উড়ন্ত বিমানগুলো স্পষ্টভাবে ভবিষ্যতে দেখতে পাবে।

সিএনএন জানায়, দুই পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পরে প্রকল্পটি গ্রহণ হয়। টার্মিনালটির মেরুদণ্ড এমন একটি কাঠামো দ্বারা গঠিত, যা কেবল লোড বহন করে না, বরং স্থানটিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং অভিযোজিত করে। এটি অনন্য বায়ুমণ্ডল তৈরি করে এবং তার স্থান এবং যুগের সঙ্গে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় প্রদান করে।

ল্যাবরেটরি বাসেলের স্থাপত্যের অধ্যাপক হ্যারি গুগার এ প্রতিযোগিতার জন্য জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন, জুরি বোর্ড এমন একটি যুগান্তকারী প্রকল্পকে অনুমোদন করতে পেরে আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। তিনি আশা করেন, এই প্রকল্পটি বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে টেকসই কাঠের দ্বারা নির্মাণ করাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে।

নতুন ডক এ দুটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত করা হবে। এটি হবে দোকান এবং রেস্তোরাঁয় পূর্ণ একটি সাততলা কেন্দ্রীয় হাব। টার্মিনালটি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করার সময় যাত্রীদের বিনোদন দেওয়ার জন্য আলো-ভরা অলিন্দ এবং রেস্তোরাঁয় পূর্ণ।

যাত্রীরা প্রস্থান, আগমন, অপেক্ষা এবং সিঁড়ি, এস্কেলেটর এবং লিফটের মধ্য দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় অনেক দৃশ্য দেখতে পাবেন। এখানকার বড় জানালা দিয়ে যাত্রীরা বিমানের উড্ডয়ন সহজেই দেখতে পাবেন।

বিমানবন্দরগুলো বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাও পরিবর্তিত হয়। ফলে বিমানবন্দরগুলোর কাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে থাকে। টার্মিনালটির নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিগের প্রতিষ্ঠাতা এবং এর সৃজনশীল বিভাগের পরিচালক জার্ক ইনগেলস বলেন, 'জুরিখ বিমানবন্দরের নতুন প্রধান টার্মিনালের জন্য আমরা এই জটিল চ্যালেঞ্জের সম্ভাব্য সহজতম উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে একটি বড় কাঠের কাঠামোগত নকশায় স্থানিক অভিজ্ঞতা, স্থাপত্য সমাপ্তি এবং সাংগঠনিক নীতির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।'

এই টার্মিনালে শেনজেন এলাকার পাশাপাশি বাইরে বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ করবে। এটি ১০ বছরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।