ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম নেতা মুক্তাদা আল-সদর রাজনীতি ছেড়ে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বাগদাদে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে।

সোমবার সদর এই ঘোষণা দেওয়ার পর তার অনুগতরা সরকারি একটি প্রাসাদে হামলা চালায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। খবর বিবিসির। 

মুক্তাদা আল-সদর জানিয়েছেন, একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ক্ষয়িষ্ণু শাসন ব্যবহার সংস্কারে অন্যান্য শিয়া নেতা ও দলগুলোর ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

পরে সদর জানান, সব পক্ষের অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অনশন ধর্মঘট করবেন।

আল-সদর ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় দেশের প্রভাবের অবসান চান। তাই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে জোট গড়তে অস্বীকার করেন। যার ফলে নির্বাচনের পর নয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন সরকার গড়তে পারছে না কেউ।

অচলাবস্থার মধ্যে রাজপথে চলা প্রতিবাদের পক্ষে জুনে পার্লামেন্ট থেকে সরে যান তিনি। তখন তার সমর্থকরা পার্লামেন্টসহ সরকারি দপ্তরগুলো দখল করে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসব নিয়ে দিনে দিনে যে উত্তেজনা তৈরি হয় তাই শেষ পর্যন্ত সোমবার নতুন সহিংসতায় গড়ায়।

ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রিন জোনের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সদরের পিস ব্রিগেডের যোদ্ধাদের কিছু সংঘাত হয়েছে, কিন্তু ইরানপন্থি মিলিশিয়ারাও সম্ভবত এতে জড়িয়ে পড়েছিল।

পুলিশ ও চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন, অন্তত ১৭ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছে।

ইরাকের সামরিক বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে বিক্ষোভকারীদের গ্রিন জোন ছেড়ে যেতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রত্যেকটি শিয়া শিবির এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে নতুন সংঘাত শুরু হতে পারে, এমন সম্ভাবনায় উদ্বিগ্ন ইরাকের বহু মানুষ।