এমন এক সময়ে লিজ ট্রাস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যখন দেশটিতে মূদ্রাস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। আর এতে সাধারণ মানুষ বিরাট সংকটের মুখে পড়েছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমে ইউরোপে জ্বালানি গ্যাসের ঘাটতির কারণে যে সংকট তৈরি হবে, সেটিই নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য  বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পরই লিজ ট্রাস জ্বালানির ব্যয় মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখতে একটি বড় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিস জনসনের বিদায়ের পর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোটে জয়ী হয়েছেন লিজ ট্রাস। তিনিই হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী।

জনসন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের মধ্যে নেতৃত্ব খুঁজে নিতে কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় দুই লাখ সদস্য ভোট দেন। মোট ভোট পড়ে ৮২.৬ শতাংশ। এতে লিজ ট্রাস পান ৮১ হাজার ৩২৬ ভোট (৫৭.৪ শতাংশ) এবং সুনাক পান ৬০ হাজার ৩৯৯টি (৪২.৬ শতাংশ)। আজ সোমবার স্থানীয় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের একটি সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত দলীয় নেতাদের অভিনন্দন জানান লিজ ট্রাস। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জনসন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করেছেন, জনগণকে করোনার টিকা দিয়েছেন।

জ্বালানি খরচ বেড়ে অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকতে থাকা যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন লিজ ট্রাস। কর কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ‘বলিষ্ঠ পরিকল্পনা’ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।