প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভারত সফর করছেন ঠিক তখনই বাংলাদেশের মানুষ ও সে দেশের শিক্ষক সমাজকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারতে পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস (দার্শনিক ও অধ্যাপক, স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি প্রয়াত সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন)। কলকাতায় এ দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। 

চার দিনের ভারত সফরে সোমবার দিল্লিতে পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ১২টার দিকে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের রেল ও টেক্সটাইল প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম জারদোশ এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান। 

শেখ হাসিনা দিল্লি পৌঁছানোর পরই কলকাতার সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, আমি জানি আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে এসেছেন। সম্ভবত ৫ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত তিনি থাকবেন। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আমাদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, প্রণাম ও সালাম জানাই।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের শিক্ষকদেরও আমাদের প্রণাম ও সালাম। কারণ সংস্কৃতির দিক থেকে তাদের আর আমাদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

বিদেশের মাটিতে মমতাকে কোন সভায় যেতে দেওয়া হয় না বলেও নাম প্রকাশ না করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মমতা বলেন, গোটা বিশ্বের অনেক জায়গায় আমাকে বক্তৃতা দিতে ডাকলেও আমি যেতে পারি না। কারণ যেতে দেওয়া হয় না। তাতে কিছু যায় আসে না।

শেখ হাসিনার এই ভারত সফরে সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার সঙ্গে একান্তে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত তা হচ্ছে না। মাসখানেক আগে শেখ হাসিনা নিজেই মমতা ব্যানার্জিকে চিঠি দিয়ে দিল্লি সফরে তার সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

সেখানে শেখ হাসিনা লিখেছিলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমার নির্ধারিত নয়াদিল্লি সফরকালে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা রাখি।

এর আগে গত ২০১৭ সালেও দিল্লি সফরে এসে মমতার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছিলেন শেখ হাসিনা। দুই নেত্রীর একান্ত বৈঠকে উঠে এসেছিল তিস্তা পানি বণ্টনসহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক বিষয়। শেষবার ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সে সময় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির আমন্ত্রণে ভারত-বাংলাদশের মধ্যে ইডেনে অনুষ্ঠিত গোলাপি টেস্ট দেখতে কলকাতায় এসেছিলেন ছিলেন শেখ হাসিনা। সে সময় কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে মমতার সঙ্গে একান্তে কথা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।