আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সীমান্তে দেশ দুটির সেনাদের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। লড়াইয়ে নিজেদের অন্তত ৪৯ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্মেনিয়া। অন্যদিকে আজারবাইজান সেনা হতাহতের কথা জানালেও সংখ্যা প্রকাশ করেনি। 

এদিকে এই লড়াইয়ের জেরে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আরও একটি যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে দেশ দুটি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ফ্রান্স উভয় পক্ষকে সংযত হতে বলেছে।

২০২০ সালে বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ ছিটমহল নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এটাই তাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত। খবর আল-জাজিরার ও রয়টার্সের। 

আর্মেনিয়া বলেছে, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে আজারবাইজান সীমান্তবর্তী জেরমুক, গোরিস ও কাপানসহ কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণ করে। আজারবাইজানের এই ‘বড় ধরনের উসকানির’ জবাব দিয়েছে আর্মেনিয়া। 

অন্যদিকে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সীমান্তবর্তী দাশকেসান, কেলবাজার ও লাচিন জেলায় ‘বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালানোর জন্য আর্মেনিয়াকে দায়ী করে বলেছে, ট্রেঞ্চ মর্টারসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আর্মেনিয়ার সেনা অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। রয়টার্স বা আল-জাজিরা এই সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্যই স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। 

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান দেশটির কয়েকটি শহরে আক্রমণের জন্য আজারবাইজানকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, নাগোর্নো-কারাবাখের ‘স্ট্যাটাস’ নিয়ে বাকু কোনো আলোচনা করতে চায় না, তাই তারা হামলা চালিয়েছে। এই ছিটমহলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত। তবে এর অধিকাংশ বাসিন্দা জাতিগতভাবে আর্মেনীয়।

এদিকে এই সংঘর্ষের পর এক বিবৃবিতে ওয়াশিংটন অবিলম্বে দেশ দুটিকে যেকোনো ধরনের  সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ এই সংঘাতের খবরে যুক্তরাষ্ট্র ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা অনেক আগেই পরিষ্কার করে বলেছি, এই সংঘাতের সামরিক কোনো সমাধান নেই। 

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ান ফেডারেশনের ভূমিকা, ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূমিকাকে অতিমূল্যায়ন করা কঠিন। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে স্বাভাবিকভাবেই রুশ প্রেসিডেন্ট সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।