'মাতৃভূমি রক্ষায়' সেনা সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বুধবার তিনি এই নির্দেশ দেন। ফলে এখন দেশটির রিজার্ভ সেনাদের ডাকা হবে। বিবিসি জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম রাশিয়া এ ধরনের 'সেনা সমাবেশ' করতে যাচ্ছে।

পুতিন বলেন, 'মুক্ত করা ভূখণ্ডের' মানুষকে রক্ষার জন্য জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে 'আংশিক' সেনা সমাবেশ করতে আদেশ দিয়েছি। 

তিনি বলেন, এ নির্দেশের পর যেসব নাগরিক সংগঠিত হবে, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মতো মর্যাদা দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশের অখণ্ডতা হুমকির মধ্যে পড়লে রাশিয়া এবং এর জনগণকে রক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুতিন বলেন, যারা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে চায়, তাদের জানা উচিত, পাল্টা বাতাস তাদের দিকেও যেতে পারে। এমনটি ঘটলে মস্কো তার হাতে থাকা অস্ত্রের বিশাল মজুতের শক্তি দিয়েই জবাব দেবে। এটি কোনো ফাঁকা বুলি নয়।

এমন এক সময় পুতিন এই ঘোষণা দিলেন যখন ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় পর্যুদস্ত রুশ বাহিনী। হামলার মুখে রুশ বাহিনী পিছু হটতে এবং দখলকৃত কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু জানান, আংশিক 'সেনা সমাবেশের' অংশ হিসেবে ৩ লাখ রিজার্ভ সেনাকে ডাকা হবে। অতীতের সামরিক অভিজ্ঞতা আছে- এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। এ সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। শোইগু বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়া অভিযান শুরুর পর থেকে তাঁদের ৫ হাজার ৯৩৭ জন সেনা নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করছে। রাশিয়া তেমনটি করছে না।

এদিকে পুতিনের আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এ ধরনের নির্দেশ রাশিয়ার দুর্বলতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিংক। বুধবার ব্রিংক টুইটারে লিখেছেন, 'লজ্জাজনক গণভোট ও সেনা সমাবেশ রাশিয়ার দুর্বলতা ও ব্যর্থতার প্রকাশ। যুক্তরাষ্ট্র কখনও ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন করা ভূখণ্ডকে রাশিয়ার বলে স্বীকৃতি দেবে না। যতদিন প্রয়োজন আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি।'

স্কাই নিউজের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাজ্যের ফরেন অফিস মিনিস্টার গিলিয়ান কেগান বলেছেন, 'পুতিনের হুমকি অবশ্যই গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত। কারণ, আপনি জানেন, আমরা নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি নিশ্চিত নই, তিনিও (পুতিন) নিয়ন্ত্রণে আছেন। এটি স্পষ্টতই একটি উস্কানি।'

এর আগে পুতিনের 'সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা'র সমালোচনা করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছেন, 'পুতিন কেবল তখনই তাঁর সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করবেন, যখন তিনি এটা স্বীকার করবেন, এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নতুন করে সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। এটি কেবল ইউরোপের জন্য নয়, বরং পুরো দুনিয়ার শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য একটি বিপর্যয় ডেকে নিয়ে এসেছে।' পুতিনের মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শলৎজ বলেন, 'এই কারণেই আমরা রাশিয়া নির্ধারিত কোনো শান্তি গ্রহণ করব না। আর ইউক্রেনের অবশ্যই রুশ আক্রমণ প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে।'

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন সাম্রাজ্যবাদের যুগ ফিরিয়ে এনেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা যা দেখছি তা হলো, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশের যুগে ফিরে আসা। তবে ফ্রান্স এটি প্রত্যাখ্যান করে শান্তির জন্য কাজ করে যাবে।' খবর এএফপি, বিবিসি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের।