দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছে দেশের প্রাচীনতম বাণিজ্য সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। আন্তর্জাতিক লেনদেনে ভারসাম্যের যে ঘাটতি রয়েছে, তা এখনও বড় ঝুঁকি তৈরি করেনি। রপ্তানি বাণিজ্যও যথেষ্ট ভালো। প্রবাসে কর্মী পাঠানোর সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিতে অন্তত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে এমসিসিআই। এগুলো হচ্ছে- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ভূরাজনীতি ও পরিবেশবিষয়ক কমপ্লায়েন্স।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম। রাজধানীর মতিঝিলে এমসিসিআই মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিম, পরিচালক আবেদিন হোসাইন খান এবং মহাসচিব ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এমসিসিআই সভাপতি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রতিবারই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে রাজনীতিবিদরা দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ব্যাখ্যায় এমসিসিআই সভাপতি বলেন, করোনা পরিস্থিতি শেষ হতে না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। আবার তাইওয়ান-চীন উত্তেজনা চলছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেলে তাইওয়ানের পক্ষ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি এই ভূরাজনীতির কারণে এক ধরনের অনিশ্চয়তা আছে অর্থনীতিতে। এতে রপ্তানি কমে যেতে পারে। শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে এবং সার্বিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে ( জিডিপি) নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে উদ্বেগ আছে বিশ্বব্যাপী। যদিও বাংলাদেশ এর জন্য খুব কমই দায়ী। তারপরও পরিবেশসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ ঠিক না থাকলে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।

এমসিসিআই সভাপতি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি বাণিজ্যে কিছু চ্যালেঞ্জে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাধিকার বাণিজ্যের পরিবর্তে শুল্ক্ক আরোপ হবে। এ চ্যালেঞ্জ ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা দিয়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। এ মুহূর্তে ব্যবসা-বাণিজ্যে কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সসহ সব ধরনের লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং নবায়নে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করেন এমসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, এখনও সনদ ইস্যু ও নবায়নে দুর্নীতি হয়। টেবিলের ওপরে এবং নিচের কারবার রয়ে গেছে। এতে হয়রানি বাড়ে, সময় নষ্ট হয়। রপ্তানি বাণিজ্যে লিড টাইম বেড়ে যায়। সব ধরনের লাইসেন্সের মেয়াদ অন্তত পাঁচ বছর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, শিল্পের কাঁচামালসহ অন্য সাধারণ পণ্য চীন ও ভারত থেকেই বেশি আমদানি করা হয়। দেশ দুটির মুদ্রার সঙ্গে টাকা বিনিময় করা গেলে আমদানিতে ডলারের ওপর চাপ কমবে। চলতি হিসাবের লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি কমবে।