হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ। এ দিন থেকেই পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের শুরু।

মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার ঢাকে কাঠি পড়া। মহালয়া দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। মহালয়া মানেই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকে আগমনের আমন্ত্রণ জানানো। আর এই ‘চণ্ডী’তেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা এবং দেবীর প্রশস্তি। শারদীয় দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ হলো এই মহালয়া। 

এদিন স্থাপন করা হয় ঘট, করা হয় বিশেষ পূজা। অন্যদিকে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে মহালয়ার সকালে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে চলে তর্পণ। তর্পণের জন্য রোববার সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের ভিড় জমেছিল ভারতের গঙ্গাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ঘাটগুলোতে।

মহালয়া শব্দটির অর্থ- মহান যে আলয় বা আশ্রয়। দেবী দুর্গাই হলেন সেই মহান আলয় বা আশ্রয়। এদিনই আক্ষরিক অর্থে দুর্গাপূজা শুরু হয়। কথিত আছে মহালয়ার দিন অসুর ও দেবতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। একই সঙ্গে শাস্ত্রমতে এদিনই দেবীপক্ষের আগের কৃষ্ণা প্রতিপদে মর্ত্যধামে নেমে আসেন পিতৃপুরুষরা। অপেক্ষা করেন উত্তরসূরিদের কাছ থেকে জল পাওয়ার জন্য। মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জলদানই তর্পণ। 

কলকাতার দক্ষিণেশ্বর থেকে বাগবাজার, কুমারটুলি, আহিরিটোলা কিংবা বাবুঘাটসহ সকাল থেকেই ভিড় জমেছে কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে। বিভিন্ন জেলার ঘাটগুলোতেও একই রকম চিত্র। কোনও কোনও ঘাটে সকাল থেকেই তর্পণের জন্য পড়েছে লম্বা লাইন।

কলকাতা পুলিশ জানায়, এদিন তর্পণের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক ছিল পুলিশ। ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নদীপথে চলছে টলহদারি, প্রস্তুত রাখা হয়েছে রিভার ট্রাফিক পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যদেরও।