চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাড় হয়েছে ৮৬ কোটি ৪২ লাখ ইউএস ডলার। আগের অর্থবছরের এই দুই মাসে ১১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থ ছাড় কমেছে ২৪ শতাংশের বেশি।

তবে একই সময়ে ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি অনেক বেড়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের দুই মাসে এটি বেড়েছে ৩১৬ শতাংশের মতো।

রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় ও প্রতিশ্রুতির এসব তথ্য জানা গেছে। এতে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান। ৩২ কোটি ৯১ লাখ ডলার দিয়েছে দেশটি। আর প্রতিশ্রুতি সবচেয়ে বেশি এসেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে। সফট লোন উইনডো খ্যাত সংস্থাটি গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে মোট ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্নেষণের দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিশ্বব্যাংকের (আইডিএ) অর্থছাড় কিছুটা বেড়েছে। ৯ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। তবে অনেক কমে গেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ছাড়। এডিবি গত জুলাই-আগস্ট সময়ে দিয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যেটি আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৫ কোটি ৭১ লাখ ডলারের বেশি।

এ ছাড়া এই অর্থবছরের দুই মাসে চীন ১৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার, ভারত ৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার, রাশিয়া ৪১ লাখ ডলার দিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে এসেছে ১ কোটি ৩১ লাখ ডলারের মতো।

গত ২০২১-২২ অর্থবছর বিদেশি ঋণ ও অনুদান প্রথমবারের মতো ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ছিল দুই বিলিয়ন ডলার বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ৭ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও অনুদান দেয় উন্নয়ন সহযোগীরা।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে সরকার। অভ্যন্তরীণভাবে প্রধানত ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হয়। আর বৈদেশিক উৎস থেকে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। বিদেশি সংস্থা ও দেশগুলো কিছু অনুদানও দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিৃবতিতে দেওয়া তথ্য অনুসারে, ঘাটতি অর্থায়নের গড়ে ২৬ শতাংশ আসে বৈদেশিক উৎস থেকে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচির জন্য এবং বাজেট সহায়তা হিসেবে এই অর্থ দিয়ে থাকে উন্নয়ন সহযোগীরা।