কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম দুই ফেবারিট ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। কিন্তু উয়েফা নেশনস লিগে দুই দলের রথই উল্টো পথে ছুটছে। জয়ের স্বাদ ভুলতে বসেছে ফ্রান্স। জার্মানির বিপক্ষে সোমবার রাতের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলের লিড নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ঘরের মাঠ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হয় ৩-৩ গোলের ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যায় জার্মানি। ইংলিশ ডিফেন্ডার হ্যারি মাগুইরে বক্স থেকে পাস দিতে গিয়ে জার্মানির জামাল মুসেইলাকে দিয়ে বসেন। ওই পাস ধরে মুসেইলা বক্সে ঢুকতেই তাকে প্রতিহত করতে দৃষ্টিকটু ফাউল করেন হ্যারি। গুন্ডোগানের পেনাল্টিতে লিড নেয় চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

এরপর ৬৭ মিনিটে কাই হাভার্টেজ গোল করেন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আক্রমণের ধার বাড়াতে হয় ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের। ৭১ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন লুক শ’। ৭৫ মিনিটে ম্যাসন মাউন্ট দলকে সমতায় ফেরান। এরপর ৮৩ মিনিটে হ্যারি কেন পেনাল্টি থেকে দলকে লিড এনে দেন। কিন্তু পজিশন হারিয়ে ম্যাগুইরের এদিক-সেদিক ছোটাছুটির সুযোগে হাভার্টেজ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে দলকে সমতায় ফেরান।

হ্যারি মাগুইরের এই বাজে ফর্ম যে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্যানইউতে তিনি গত বছর খুবই বাজে রক্ষণ সামলেছেন। নয়তো রেড ডেভিলসরা সেরা চারে লিগ শেষ করতে পারতো। ইংল্যান্ডের জার্সিতেও ভয়ানক অফ ফর্ম তার। সমর্থক থেকে ফুটবল বিশ্লেষকরা মাগুইরেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন। কারণ ইংল্যান্ডের বিশ্বমানের ডিফেন্ডারে অভাব নেই। কিন্তু একরোখা কোচ সাউথগেট আস্থা অভিজ্ঞতার ওপরে।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এই ড্র’র পেছনে আমাদের খেলার ধরনের কোন দায় আছে বলে মনে করি না। ভুল যা হয়েছে তা স্বতন্ত্র, দলীয় নয়। আমি জানি আপনারা হ্যারির কথা বলবেন, কিন্তু ওরা অনেক ফুটবল খেলছে। আর ভুলের বাইরে এই দুই ম্যাচে হ্যারি অনেক ভালো কিছু দেখিয়েছেও। দলে কে থাকবে, কে থাকবে না এই বিতর্ক সব সময় ছিল, থাকবে। তবে আমরা সেরা এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরই বেছে নেব।’