ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানের হামলায় গর্ভবতী নারীসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও সশস্ত্র ড্রোন পাঠিয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে সেখানে ইরানের কুর্দিবিরোধী দলগুলোর ঘাঁটি ছিল। 

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, তারা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের’ ওপর হামলা চালিয়েছে যারা (ইরানের) সাম্প্রতিক ‘দাঙ্গাকে’ সমর্থন করেছিল।

এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হিজাববিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাশা আমিনি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণী পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়ার পর দেশটিতে হিজাববিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সহিংসতায় কয়েকডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে কট্টর রক্ষণশীল এই দেশটিতে।

কুর্দি মানবাধিকার গোষ্ঠী হেনগাও সোমবার বলেছে, ১৮ জন কুর্দি বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৯৮ জন আহত হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। মূলত ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলের পাশাপাশি অন্যত্রও ভিন্নমতকে দমন করার চেষ্টা করছে।

ইরান হিউম্যান রাইটস নামে আরেকটি মানবাধিকার গ্রুপ বলছে, দেশব্যাপী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা কর্মী এবং সরকারপন্থি মিলিশিয়াসহ ৪১ জন মারা গেছে।

বুধবার ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড বাহিনী জানায়, তারা কোমলার প্রধান ঘাঁটি ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিকেআই) এবং কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে) ‘নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণকারী ড্রোন’ দিয়ে গত চার দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে।

কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর ওপর হামলা যেকোনো অজুহাতেই একটি ভুল অবস্থান। ইরাকের ফেডারেল সরকারও এই হামলার নিন্দা করেছে। এছাড়া ইরাকে জাতিসংঘের মিশন ইরানকে সতর্ক করেছে, রকেট কূটনীতি একটি বেপরোয়া কাজ যার পরিণতি ধ্বংসাত্মক।