ইরানে পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের পুলিশ কমান্ড গতকাল বুধবার সতর্ক করে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া আটক বিক্ষোভকারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির পুলিশ কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুরা এবং কিছু দাঙ্গাবাজ যে কোনো অজুহাত ব্যবহার করে জাতির শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বস্তি বিঘ্নিত করতে চাইছে।

ফার্স বার্তা সংস্থার খবরে পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রতিবিপ্লবী এবং বৈরী মহল দেশের যে কোনো স্থানে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে পুলিশ কর্মকর্তারা সর্বশক্তি দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করবেন।

এদিকে, ২০ বছরের তরুণী হাদিস নাসাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর খোলা চুল পেছনে বেঁধে সাহসিকতার সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তাঁর পেট, ঘাড়, হূৎপিণ্ড ও হাতে গুলি করা হয়েছে।

হাদিসের দাফনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সদ্য খনন করা কবরে তাঁর ছবির পাশে লোকজন কাঁদছে। সেই ভিডিও টুইট করেছেন মাসিহ আলিনেজাদ নামের ইরানের একজন সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী। হাদিসের ডাকনাম 'পনিটেইল গার্ল'। অন্য অনেক ইরানি নারী, যাঁরা সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ করার জন্য চুল খুলে পুলিশ অফিসারদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাঁদেরই একজন হাদিস।

এদিকে ইরানের প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে দেশটিতে চলমান গণবিক্ষোভের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বিক্ষোভ ইরানি নারীদের একটি যুগান্তকারী বিপ্লব। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।