যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়ানের আঘাতে প্রায় ২ হাজারেও বেশি বাংলাদেশি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে কায়ো কোস্টা দ্বীপের কাছে ঘূর্ণিঝড়টি প্রথম আঘাত হানে। এতে ফ্লোরিডার পশ্চিমাঞ্চলের ফোর্ট মায়ার্স, সেন্ট পিটার্সবার্গ, নেপলস, সারাসোটা ও কেপ কোরালসহ প্রায় ১০টি অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ব্যবসা ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার সভাপতি মোহাম্মদ রহমান জহির সমকালকে জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ফ্লোরিডার পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ফ্লোরিডার পশ্চিমাঞ্চলের ফোর্ট মায়ার্সসহ প্রায় ১০-১২টি অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির ব্যবসা ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়ির ছাদ পর্যন্ত পানি উঠেছে যা সর্বকালের রেকর্ড।

ফোর্ট মায়ার্সের একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জানান, এখানকার বাংলাদেশিরা গ্যাস স্টেশন, কনভিনেন্স স্টোর ও গ্রোসারি ব্যবসায় জড়িত। গত ৩ দিনে আয়ানের আঘাতে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাড়িঘর ডুবে গেছে। অনেকের বাড়ির ছাদ পর্যন্ত পানি উঠেছে। এ এলাকার বাংলাদেশিসহ লাখ লাখ মানুষ চরম দুরবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ফ্লোরিডার নেপলস শহর এখনও ৪ ফুট পানির নিচে। বিদ্যুৎবিহীন বেশ কয়েকটি শহর।

ফোর্ট মায়ার্সে বসবাসরত বাংলাদেশি বখতিয়ার রহমান জানান, ১৫০ মাইল বেগে ঘূর্ণিঝড় 'ইয়ান' এর আঘাতে স্থানীয়দের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ভেঙে গেছে। তবে দুরবস্থায় পড়লেও বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিরাপদে আছে। অনেকে বাড়িঘর ফেলে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে উঠেছেন।

কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার (ফেমা) কর্মকর্তারা বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৩০০ ফেডারেল রেসপন্স ওয়ার্কার প্রস্তুত রয়েছেন। সেরাসোটার মেয়র এরিক বলেন, বিদ্যুৎ দ্রুতই ফিরে আসবে।

ইমার্জেন্সি ক্রুরা দিনরাত কাজ করছেন। শেল্টার সেন্টার বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি, জেনারেটর প্রস্তুত, অনেককেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ৮০ হাজার নাগরিক বিদ্যুৎবিহীন থাকবেন ওরলান্ডো সিটিতে। শহরজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। শহরের নানা জায়গার বাংলাদেশিদের ফোন দিয়ে জানা গেল, সবাই আতঙ্কিত। সেরাসোটাতে ৯৬ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই।

বিষয় : ঘূর্ণিঝড় ইয়ান

মন্তব্য করুন