মিসর থেকে বিকল ইঞ্জিনসম্পন্ন দুটি বিমান ভাড়া নেওয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিমানের এমডির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁদের তলব করা হয়। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ওই ৯ জনের মধ্যে বিমানের প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন। তাতে আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর বাকি ৮ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বিমান বালাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ও বর্তমান ৯ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য শোনা ও রেকর্ড করা হবে। এর আগে একই অভিযোগে গত ২০ সেপ্টেম্বর তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা বাকি ৮ কর্মকর্তা হলেন- ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ আজাদ রহমান, প্রধান সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার জিএম ইকবাল, জেনারেল ম্যানেজার (লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স) আজরা নাসরীন রহমান, জেনারেল ম্যানেজার (কস্ট অ্যান্ড বাজেট) খায়রুল আলম, কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মনজুর ইমাম, চিফ অব টেকনিক্যাল হাসান ইমাম, জেনারেল ম্যানেজার (করপোরেট প্ল্যানিং) বেলায়েত হোসেন ও সাবেক পরিচালক এমএম আসাদুজ্জামান।
দুদক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। লিজ নেওয়ার প্রথম বছর শেষে দুটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়। ইঞ্জিন দুটি ১২ থেকে ১৫ বছরের পুরোনো এবং এর উড্ডয়নযোগ্যতার মেয়াদকাল কম থাকায় এগুলো এক পর্যায়ে পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়।
পরে উড়োজাহাজ সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় সেটিও নষ্ট হয়। এতে পাঁচ বছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সরকারি অর্থের ক্ষতি হয়। একাদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিটির পাঠানো প্রতিবেদনের আলোকে অনুসন্ধান করছে দুদক। লিজ চুক্তি এবং দরপত্রের স্পেসিফিকেশনে কোনো দুর্বলতা আছে কিনা, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে অনুসন্ধান টিম অভিযোগ সংক্রান্ত নথি চেয়ে বিমান বাংলাদেশের কাছে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে যেসব নথি চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে চুক্তি, বিমান ভাড়া সংক্রান্ত প্ল্যানিং ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন, ইঞ্জিন বিকল এবং এর মেইন্টেন্যান্সের প্রতিবেদন ও আর্থিক ব্যয় বিবরণী।