পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠা ইরানে আজ বুধবার ১৯তম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। চলমান বিক্ষোভে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। নিহত-আহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চলমান বিক্ষোভে শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। 

এদিকে, ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভের প্রতিবাদে আরেক দফা পাল্টা বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে ইরানে। রাষ্ট্রীয় সমর্থনে এই পাল্টা বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারপন্থী এই বিক্ষোভ আজ বুধবার উত্তর তেহরানে শুরু হয়। 

এর আগেও দুই দফা সরকারপন্থী এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন তারা ইরানে নৈতিক পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান এই বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা ও রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও গণবার্তার মাধ্যমে এর নিন্দা জানিয়েছিল। 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর অ্যাটর্নি জেনারেল আলী সালেহি বলেন, তেহরানে চলমা ‘দাঙ্গায়’ গ্রেপ্তার হওয়া ৪০০ জনকে এ ধরনের কাজ আর না করার প্রতিশ্রুতি সাপেক্ষে এখন পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানে নৈতিকতা রক্ষা পুলিশের কাছে আটক হন মাহসা আমিনি। সে সময় হিজাবের নিচ দিয়ে তার কিছু চুল দেখা যাচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে একটি বন্দিশালায় নেওয়া হয়। সেখানে নির্যাতনের পর তিনি কোমায় চলে যান। তিন দিন পর হাসপাতালে মারা যান তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে এবং তাদের একটি গাড়িতে আমিনির মাথা ঠুকে দিয়েছে বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির পুলিশ বাহিনী। তারা বলেছে, কোনো নির্যাতন করা হয়নি। মাহসার হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।

ইরানে চলমান এই বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের ১৫০টির বেশি শহরে সমাবেশ হয়েছে। ইরানে বেশ কয়েক বছর এমন অস্থিরতা দেখা যায়নি। 

এর নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, ইরানের চরম শত্রুরা ‘দাঙ্গা’র নেপথ্যে ‘কলকাঠি নাড়ছে’। নারী অধিকারের দাবিতে চলমান এ বিক্ষোভে পবিত্র কোরআন পোড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। 

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত সোমবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় হোয়াইট হাউসের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথাও বলেছেন।

অন্যদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা। কানাডা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।