তরুণ প্রজন্ম সম্ভবত ইরানে সত্যিকার অর্থেই একটি পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। তাদের হাত ধরেই দেশটিতে নতুন এক বিপ্লব শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুইডেনে নির্বাসিত ইরানের নারী অধিকারকর্মী লালেহ মাঘোনাকি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখনই সরকারবিরোধী কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালায় কর্তৃপক্ষ। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় আকার-ইঙ্গিতে কথা বলি এবং সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পরে দেশটির জনগণ এখন সবচেয়ে বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তারপরও তরুণ প্রজন্ম সত্যিকার অর্থে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শিক্ষিত ও প্রচণ্ড সাহসী।

এদিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজিস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরে গত রাতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ফ্রান্স-ভিত্তিক কুর্দিস্তান হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, আজ রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর মারধরে অন্তত ৩৭ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি শহর থেকে ১৯ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, চার সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২০০'র অধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশটির কুর্দিস্তান প্রদেশের বানেহ শহরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাকে করে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া ও পেছন থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হচ্ছে।

এদিকে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতির জন্য আবারও আমেরিকাকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, সামরিকায়ন ও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্ররা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে।