নিউজিল্যান্ড থেকে কোন ম্যাচ জিতে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে লড়াই করেছিল সাকিবের দল। ব্রিসবেনে সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার। কিন্তু সামান্য পরীক্ষা করতে গিয়ে এই ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

বল হাতে শুরুটা খারাপ করেনি বাংলাদেশ। সেট হওয়া ওপেনার হযরতুল্লাহ জাজাই (১৬ বলে ১৫) এবং রহমানুল্লাহ গুরবাজকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ এবং সাকিব আল হাসান। রান পাননি চারে ও পাঁচে নামা ডারউইস রাসুলি (১২) এবং নাজিবুল্লাহ জাদরান (৫)।

তবে তিনে নামা ইব্রাহিম জাদরান দলের রানটা এগিয়ে নেন। তিনি ৩৯ বলে তিনটি চার ও দুই ছক্কায় ৪৬ রান করেন। ১৬.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৩ রান তুলে চাপেই ছিল আফগানিস্তান। কিন্তু মোহাম্মদ নবী ১৭ বলে পাঁচ ছক্কা  ও এক চারে ৪১ রান করে দলের সংগ্রহ দাঁড় করান ৭ উইকেটে ১৬০।

জবাব দিতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে নাজমুল শান্ত ও মেহেদি মিরাজ ১৯ রান যোগ করেন। শান্ত ৯ বলে করেন ১২ রান। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে ইনজুরিতে পড়া লিটনের বিশ্রামে তিনে নামা সৌম্য ৪ বল খেলে ১ রান করে আউট হন। চারে নামা সাকিবও ৪ বলে ১ করে ফেরেন। পাঁচে ও ছয়ে নামা আফিফ এবং ইয়াসির রাব্বি গোল্ডেন ডাক মারেন। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ৩১ বলে ১৬ রান করে আউট হন ওপেনার মেহেদি মিরাজ। দলের রান তখন ৭ উইকেটে ৪৮ রান।

সেখান থেকে ৯ উইকেটে ৯৮ রান তোলার কৃতিত্ব মোসাদ্দেক হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানের। সাতে নামা নুরুল হাসান ৮ বলে ১৩ করে ফেরার পর মুসা ২৫ বলে এক ছক্কা ও দুই চারে ২০ রান করেন। মুস্তাফিজ ২৫ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ইনজুরি থেকে ফেরা পেসার ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তাসকিন আহমেদও ভালো করেছেন। তিনি ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। একাদশে ফেরা মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ৩১ রান খরচা করে উইকেট শূন্য থাকেন। সাকিব আল হাসান ছিলেন খরুচে। তিনি ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। নবীর ঝড়ের শিকার হয়েছেন তিনি। ১৯তম ওভারে দেন ১৯ রান।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দিয়েছেন তরুণ বাঁহাতি আফগান পেসার ফজল হক ফারুকি। তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। অন্য পেসার ফরিদ মালিক ৩ ওভারে ৩১ রান দিলেও গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট নেন। স্পিনার মুজিব উর ৩ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন। লেগ স্পিনার কাইস আহমেদ ৩ ওভারে দেন মাত্র ৪ রান। মোহাম্মদ নবীর ৪ ওভারে ২২ রান নিয়ে ১ উইকেট দেয় বাংলাদেশ।