‘অঘটন’ তকমা পাওয়া অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ সম্ভবত শেষ অঘটন দেখিয়ে দিল। জিতলেই সেমিফাইনাল। হারলে বিদায় ঘণ্টা। এমন লড়াইয়ে সহজ প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৩ রানে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতি আসরের মতো এবারও ‘চোকিং’ করেছে। 

সুপার টুয়েলভের শেষ দিনের প্রথম ম্যাচের পানে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার এই হারে এখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার জয়ী দল উঠে যাবে সেমিফাইনালে। অলৌকিক কিছু ঘটেও যেতে পারে এই আশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের তাসকিন এবং পাকিস্তানের শান মাসুদ। যা এখন বাস্তব।

এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিয়েছে। ওই লড়াইয়ে নামিবিয়ার কাছে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। মূল পর্বে ইংল্যান্ড হেরেছে আয়ারল্যান্ডের কাছে। পাকিস্তানকে হারিয়ে চমক দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। তবে টস হেরে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৫৮ রান তুলেও নেদারল্যান্ডস চমক দিতে পারবে এই আশা খুব বেশি কেউ করেনি। 

ডাচদের টপ অর্ডারের চার ব্যাটারই ভালো করেছেন। ওপেনিং জুটিতে ৫৮ রান তোলে তারা। মাইবার্গ ৩০ বলে ৩৭ রান করেন। অন্য ওপেনার ম্যাক্স ওডড ফেরেন ৩১ বলে ২৯ রান করে। তিনে নামা টপ কুপার ১৯ বলে ৩৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে রানের গতি বাড়িয়ে নেন। তিনি দুটি করে চার ও ছক্কা তোলেন। দলের পক্ষে ২৬ বলে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন আসরে দারুণ ছন্দে থাকা কলিন আকারম্যান। তিনি তিনটি চার ও দুটি ছক্কা তোলেন। 

জবাব দিতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুর ছয় ব্যাটার সেট হয়েও ম্যাচ জেতানোর মতো রান করত পারেননি। কুইন্টন ডি কক ১৩ বলে ১৩ রান করেন। অন্য ওপেনার বাভুমা করেন ২০ বলে ২০ রান। তিনে নামা রাইলি রুশো ১৯ বলে ২৫ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৪ রানে হারায় ৩ উইকেট।

নিয়মিত উইকেটের ওই পতন আর থামেনি। চারে নামা এইডেন মার্করাম ফিরে যান ১৩ বলে ১৭ রান করে। ডেভিড মিলার ১৭ বলে করেন ১৭ রান। হেনরিক ক্লাসেন ১৮ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন। তাদের কেউ একজন ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে পারলেই জয় নিয়ে গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে সেমিতে যেত প্রোটিয়ারা। কিন্তু কেশব মহারাজের ১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের বেশি করতে পারেনি দলটি।

জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে ৪৮ রান দরকার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। হাতে ছিল ছয় উইকেট। দল হিসেবে যা সহজেই পাড়ি দেওয়ার কথা প্রোটিয়াদের। কিন্তু ১৬তম ওভারে দুই উইকেট হারায় দলটি। ১৮তম ওভারে হারায় আরও এক উইকেট। ওই তিন ওভার থেকে নিতে পারে মাত্র ১২ রান। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৬। যা পারেনি প্রোটিয়ারা। ডাচদের হয়ে ব্রেন্ডন গ্লোভার ২ ওভারে ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।