আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন কলেজ শিক্ষার্থী তানজিদ হাসান অনিক ওরফে নাঈম। লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দাদাবাড়ি থেকে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার গয়লায় নানাবাড়িতে। যাত্রা শেষে নানা হারু শেখের ঠিকানায় তিনি পৌঁছেছেন বেশ দেরিতে। পথে তিনি ট্রেনযাত্রী থেকে হয়ে গেছেন নিথর দেহ। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরের বামনগ্রামে ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের পাশে পড়েছিল তাঁর মরদেহ। বুধবার মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি।

নিহতের বাবা আবদুল মোমিন শেখ রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, নানাবাড়িতে থেকে সিরাজগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিল নাঈম। সম্প্রতি সে লালমনিরহাটে বেড়াতে যায়। মঙ্গলবার সেখান থেকে ফিরছিল। লালমনি এক্সপ্রেসে ওঠার আগে আমার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিল। সিরাজগঞ্জে দু-এক দিন থাকার পর ঢাকায় আসার কথা ছিল তার। সময়মতো ট্রেন পৌঁছালে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে থাকার কথা থাকলেও তা ঘটেনি। সন্ধ্যার দিকে তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে তার পকেটে থাকা ফোন দিয়ে একজন জানান, রেললাইনের পাশে ওর মরদেহ পড়ে আছে। আমার ছেলে সুস্থ শরীরে ট্রেনে ওঠার পর কীভাবে সে মরদেহে পরিণত হলো? ওই ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তা প্রহরী, রেলওয়ে পুলিশ ও অ্যাটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

গয়লার কাউন্সিলর তাজউদ্দিন সেখ বলেন, নাঈম অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী ছিল। ওর কোনো শত্রু থাকার কথা না। আবার অতটা অসচেতনও নয় যে, ট্রেন থেকে পড়ে যাবে। এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে রেলওয়ে পুলিশকে। তারা না পারলে সিআইডি বা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করতে হবে।

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই ছানোয়ার হোসেন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'নিহতের মাথার বাম পাশে জোরালো আঘাত ও কোমরের ডান দিকে ছিলা দাগ পাওয়া গেছে।' পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ঘটনাটি একদিকে দুঃখজনক, অন্যদিকে বিব্রতকর। ছেলেটি কীভাবে মারা গেল- তা পুলিশকেই খুঁজে বের করতে হবে। বিষয়টি তদন্ত করতে হবে।