করোনা মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বালিয়ামারী সীমান্ত হাট খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এ হাট খুলে দেওয়া হয়। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। করোনা মহামারির কারণে এতদিন বন্ধ ছিল কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এ হাট। আগের নিয়মে সপ্তাহের সোম ও বুধবার বসবে হাট।

হাট চালুর সময় ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো পাহাড় আমপাতির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবিডি সিরা ও টিডি তরিৎ সাংমা। বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন রাজীবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো, ইউএনও অমিত চক্রবর্তী, ওসি মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রমুখ।

বর্ডার হাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুরুজ্জামান বলেন, 'করোনা মহামারির কারণে বর্ডার (সীমান্ত) হাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা বেকার হয়ে পড়েছিলাম। এতে অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করতে হয়েছে আমাদের।'

বালিয়ামারী সীমান্ত হাট চালুর বিষয়ে গত ১৬ নভেম্বর দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা সভা হয়। পরে দুই দেশের প্রতিনিধি দল সীমান্ত হাট পরিদর্শন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক প্রস্তুতি শেষে বুধবার সকালে সীমান্ত হাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ হাটে দুই দেশের ৩৭ ধরনের পণ্য বেচাকেনা করা যাবে বলে দাবি সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত চক্রবর্তীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২৫ জন বিক্রেতা ও ৫৮৭ জন ক্রেতা এবং ভারতের ৫০ জন বিক্রেতা ও ২৫১ জন ক্রেতা রয়েছেন। তাঁদের সবাইকে হাটে আসা-যাওয়ার জন্য অনুমতিপত্র দেওয়া আছে।

এর আগে ১৬ নভেম্বর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বালিয়ামারী সীমান্ত হাটে দুই দেশের জেলা প্রশাসক পর্যায়ে সভা হয়। হাট এলাকা পরিদর্শন করেন ভারতের ২০ সদস্য এবং বাংলাদেশের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বালিয়ামারী এবং ভারতের কালাইয়েরচর সীমান্তের ১০৭২ নম্বর পিলারের ১৯ নম্বর সাব-পিলারের পাশে দুই দেশের ৭৫ মিটার করে চার বিঘা জমিতে ২০১১ সালের ২৩ জুলাই হাটটি চালু করা হয়। তখন থেকে সপ্তাহের প্রতি বুধবার সকাল ১০ থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বসত এই হাট। এরপর ২০১৯ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দুই দিন হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সপ্তাহের সোম ও বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত হাট বসত। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনার ধাক্কায় বন্ধ হয়ে যায় সীমান্ত হাটটি।