২৫ বছরেও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বক্তব্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগণের সংস্কৃতি ও পরিচয় হুমকির মুখে পড়েছে এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এক বিবৃতিতে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘের আদিবাসী মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিশেষ রেপোর্টিয়ার ফ্রান্সিসকো ক্যালি জায় বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে শান্তিচুক্তিটি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সই হয়। কিন্তু এ চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদিবাসী জনগণ দুর্বল ও প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে এবং নিজস্ব উন্নয়ন-অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী অবৈধভাবে দখলকৃত জমি ফেরত দেওয়া এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠনের বিধান পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প সরিয়ে ফেলা হয়নি। আদিবাসী শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের নিজস্ব জায়গা ফেরত দেওয়া হয়নি।
ফ্রান্সিসকো ক্যালি জায় বলেন, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তার খবর ও তথ্য আমরা ধারবাহিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে পেয়ে থাকি। জেএসএস সদস্য, আদিবাসী মানবাধিকারকর্মী এবং আদিবাসী নারী ও মেয়ে শিশুরা পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। উন্নয়ন, পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব বনায়নের নামে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বার্থান্বেষী মহল আদিবাসীদের জমি দখল করে আসছে। এসব করার মাধ্যমে তারা শান্তিচুক্তিকে অসম্মান করছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীদের ওপর সহিংসতা বেড়ে যাওয়া ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরাজ করায় আমরা উদ্বিগ্ন। চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি আদিবাসী নারী-শিশুর ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। আদিবাসীদের জমি থেকে উচ্ছেদের হাতিয়ার হিসেবে নারী-শিশুর ওপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। উপরন্তু আদিবাসী নারী ও মেয়ে শিশুরা তাদের পুরুষদের দ্বারাও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
জাতিসংঘ মনে করে, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সততা, আন্তরিকতা, সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা অপরিহার্য। জাতিসংঘ ও জাতীয় পর্যায়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ সরকারকে রক্ষা করতে হবে। আমরা শান্তিচুক্তির পূর্ণ, অর্থবহ ও কার্যকর বাস্তবায়ন চাই।