বাংলাদেশের সংকট মূলত সাংবিধানিক। এ সংকট কাটাতে সংবিধান সংস্কার জরুরি। জনগণই ঠিক করবে সংবিধানের কোন অংশ কতটা সংস্কার করতে হবে।

শুক্রবার রাষ্ট্রচিন্তার আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'সংবিধান সংস্কার করবে কারা: জাতীয় সংসদ না কি সংবিধান (সংস্কার) সভা?' শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্টজন এ মত দেন। রাষ্ট্রচিন্তার সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর রাজী। আলোচকদের মধ্যে ছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম।
আর রাজী বলেন, বাংলাদেশের সংকট এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে, যার সমাধান কেবল দলবদল বা সরকার বদলের প্রচলিত রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আবু সাঈদ খান বলেন, সংশোধনীর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। গণ পরিষদ আর জাতীয় সংসদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। বাহাত্তরের সংবিধানের অনেক স্পিরিটের আবেদন এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
আসিফ নজরুল বলেন, সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে সংকটকে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। তাই অবশ্যই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। হাসনাত কাইয়ুম বলেন, এ মুহূর্তে জনগণকে মুক্তি দিতে হলে সংবিধান সংস্কারের বিকল্প নাই। জনগণের আবেগ অনুভূতি ও মর্যাদাকে ধারণ করে এমন গণতান্ত্রিক শক্তিদের সমন্বয়ে সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কার জরুরি।
শাহদীন মালিক বলেন, সামরিক অভ্যুত্থানের পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী দেশকে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল করেছে। আমাদের নাগরিক সত্তাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে যে জমিদারি প্রথা বলবৎ আছে, তা বদলানো জরুরি। সভাপতির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, সংবিধান সংশোধন সমগ্র জনগণের বিষয়।