রাজধানীর জুরাইনের ধোলাইপাড় এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়েছিল ১১ বছরের শিশু মো. ইয়াশ। মুহূর্তে বাসের ধাক্কায় সে ছিটকে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ধোলাইপাড়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটি স্থানীয় আলোর মেলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

শ্যামপুর থানার ওসি মফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে উঁচু দেওয়াল আছে। শিশুটি কোনো কারণে ওই দেওয়ালে উঠে রাস্তায় লাফিয়ে পড়ে। তখনই গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনের সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সঙ্গে জুরাইনের মুন্সীবাড়ি এলাকার শাহাদাত হোসেন সড়কের বাসায় থাকত ইয়াশ। তার বাবা জহির উদ্দিন মালয়েশিয়া প্রবাসী। আজ বিকেলে সে খেলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। খেলতে খেলতেই সে ধোলাইপাড়ের ডেল্টা হাসপাতাল এলাকায় চলে যায়। সেখানেই বিকেল ৫টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তখন বাসটি ঢাকায় ঢুকছিল। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা নাজির উদ্দিন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। ইয়াশের বাবা পাঁচ বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। তার দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ইয়াশ ছিল ছোট।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্নিষ্ট থানা পুলিশ।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় রুবিনা আক্তার নামে এক নারীর। গাড়িটি তাকে চারুকলা অনুষদ থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ঢাবির চাকরিচ্যুত শিক্ষক আজহার জাফর শাহ। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।