এক দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ লম্বা সময় ধরে ভালো করছে দেশের মাটিতে। এ বছর দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এবার দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়কে দারুণ অর্জন হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচই ব্যাকফুটে থেকে জিতেছে বাংলাদেশ। যেখানে মেহেদী হাসান মিরাজের ভূমিকা বেশি ছিল। তবে এ দুই ম্যাচেই মুস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে শেষ উইকেটে মিরাজের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে তুলতে ব্যাট হাতে সঙ্গ দিয়েছেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডেথ ওভারে মারাত্মক বোলিং করেন। ৪৮তম ওভারটি মেডেন নেওয়ার পাশাপাশি নার্ভ শক্ত রেখে ৫০তম ওভারটি করেন পরিণত বোলারের মতোই। মিরাজের সেঞ্চুরির ম্যাচটি জিতিয়েছেন মূলত বাঁহাতি এ পেসার।

দেশের মাটিতে দলের এই পারফরম্যান্সে খুশি সুজন। মুস্তাফিজের মুনশিয়ানা ও মিরাজের পরিপক্কতা জয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি। “দুটি ম্যাচেই আমরা যেভাবে জিতলাম, এতে আমাদের ‘ক্যারেক্টার’ ফুটে ওঠে। মিরাজ, মাহমুদউল্লাহ কালকে (বুধবার) মুস্তাফিজ ছিল অসাধারণ। প্রথম ম্যাচে শেষ জুটিতে পঞ্চাশের বেশি রান করে জিতিয়েছে। কালকে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আমরা কেউ আশা করিনি বা বাংলাদেশের কেউ হয়তো আশা করেনি, এত রান করতে পারব। ভেবেছিলাম, ২২০-২৩০ রান করতে পারলেও অনেক ভালো হবে। সেখান থেকে ২৭১ করতে পারা আমাদের দারুণ চরিত্রই ফুটিয়ে তোলে। মিরাজ অনেক পরিণত হয়েছে। আমরা সব সময় মিরাজকে বোলিং অলরাউন্ডার চিন্তা করি, এখন ওকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার ভাবতে হবে সত্যি কথা বলতে।” 

২০১৫ সালে মুস্তাফিজের মারাত্মক বোলিংয়ে ভারতকে প্রথমবারের মতো সিরিজে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও সেই বোলিং দেখা না গেলেও জয়ে অবদান অনেক। বাঁহাতি এ পেসারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা সুজনের। 'কালকে (বুধবার) আমাদের নার্ভ শক্ত ছিল। মুস্তাফিজকে স্যালুট জানাই, যেভাবে সে ৪৮তম ওভারে একটা বল ব্যাটে স্পর্শ করতে দেয়নি এবং রোহিত শর্মাকে স্ট্রাইক পেতে দেয়নি। শেষ ওভারটিও যেভাবে সে নার্ভ ধরে রেখেছে এবং আমাদের জিতিয়েছে, এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।' শনিবার চট্টগ্রামে একই ছন্দ নিয়ে খেলা গেলে ভারতকে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।