শরণার্থী পুর্নবাসন প্রকিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২৪ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ বৃহস্পতিবার রাতে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন।

বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ ছাড়বেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে ২৪ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।

ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম) এর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে ৬২ জন রোহিঙ্গাকে তৃতীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনে কাজ করছে ঢাকা ও ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬২ জনের তালিকা করার কথা বলা হলেও তাদেরকে কয়েকটি ধাপে পাইলট প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন করাহবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দু’বার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। এবার প্রথম কোনো তৃতীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ৬২ জন রোহিঙ্গার যে তালিকা করেছে তাদের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য দেওয়া ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কাজ কয়েক মাস আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তালিকা তৈরি করছে। এখানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়েটা ভেলস নয়েস। কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী এক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৩০০-৮০০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি