গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

আজ রোববার বেলা ১২টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সাথে গোপনে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অপরাধে’ নুরুল হক নুরকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

সমাবেশ শেষে বিকেল ৩টায় সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইল ও মোসাদের সহযোগিতায় নুরুল হক নুর তার রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে রাষ্ট্রের মধ্যে ঘৃণা, বিদ্বেষ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনবলে প্রতিষ্ঠিত বৈধ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই কারণে নুরুল হক নুর রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ করেছে। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৪ (ক), ১২০ (খ) ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, ‘একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখছি।’

এর আগে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় ওই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, ভাস্কর্য শিল্পী রাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্যসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে তারা বলেন, নুর হজ করার কথা বলে বিদেশে গিয়ে দুবাইয়ে অস্বীকৃত ইসরাইল রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। মোসাদ এজেন্টের সঙ্গে নুরুল হকের ছবি ও তার স্বীকারোক্তিমূলক কথোপকথন ইতোমধ্যেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বক্তারা।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ছবিটি প্রসঙ্গে গত ৩ জানুয়ারি নুরুল হক নুর সমকালকে বলেছিলেন, ‘ছবিটি এডিট করা। আমার ছবি এডিট করে বসানো হয়েছে।’

তিনি তখন হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, ‘আমি এখন সৌদিতে। ভাইরাল হওয়া ছবির ফোকাস এক রকমের, কোমর থেকে লাইটের ফোকাস অন্যরকম। একটা অস্পষ্টতা আছে। বোঝা যাচ্ছে, ছবিটি এডিট করা। ছবিটি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট তন্ময় আহমেদ ও নিঝুম মজুমদার।’