ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

গাজায় আগ্রাসন

ত্রাণে বাধা নয়, ইসরায়েলকে নির্দেশ আইসিজের

ত্রাণে বাধা নয়, ইসরায়েলকে নির্দেশ আইসিজের

খাবারের অভাবে শিশুসহ অসংখ্য মানুষ হাড্ডিসার। ফাইল ছবি: এএফপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২০:৪৪

গাজার হাসপাতালে ইনকিউবেটর চেম্বারে অসহায়ভাবে শুয়ে আছে এক শিশু। তার শরীরে চামড়া ও হাড় ছাড়া দৃশ্যত আর কিছুই নেই। চরম দুর্বল, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুটির নড়াচড়া করার মতো শক্তিও নেই। গাজার উত্তরে কামাল আদওয়ান হাসপাতালে প্রবেশ করতেই এমন অসংখ্য শিশু দেখা যায়। এসব শিশুর প্রত্যেকের শরীর এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, পিঠ ও বুকের হাড় গণনা করা যায় খুব সহজেই। খাবারের অভাব ও পানিশূন্যতায় মৃত্যুও হয়েছে অনেক শিশুর। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গোটা গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। 

এমন বাস্তবতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে বাধাহীন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গতকাল বলেছেন, গাজায় কোনো বিলম্ব এবং বাধা ছাড়াই ইসরায়েলকে জরুরি প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিষেবা ও মানবিক সহায়তা দিতে হবে। এদিকে সাহায্য বন্ধ করার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে ইসরায়েল।

রায়ে আইসিজে বলেছে, গাজা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির সম্মুখীন নয়, বরং দুর্ভিক্ষ শুরু হচ্ছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, এরই মধ্যে ২৭ শিশুসহ ৩১ জন অনাহার, অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় মারা গেছে।
এদিকে গাজার দেইর আল বালাহ শহরের আল আকসা শহীদ হাসপাতালটি প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করেছে চিকিৎসকদের একটি আন্তর্জাতিক দল। সেখানকার পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে– তা তাদের হতবাক করেছে।

পর্যবেক্ষক দলটি জানিয়েছে, আল আকসা শহীদের মতো হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ একেবারেই কম। বিপুল সংখ্যক রোগীর যত্ন নেওয়ার মতো চিকিৎসকও নেই। নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের বেশির ভাগ শয্যায় ভর্তি রয়েছে শিশুরা। এসব শিশু ব্যান্ডেজে মোড়ানো এবং অক্সিজেন মাস্ক পরা।
  
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যুদ্ধের আগে হাসপাতালটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ১৬০ শয্যার। অথচ এখন রোগী প্রায় ৮০০। এর পরও হাসপাতালের ১২০ জন কর্মীর অনেকেই আর কাজে আসতে পারছেন না।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দক্ষিণ গাজার রাফায় হামলা চালাতে প্রস্তুত তাঁর বাহিনী। তবে সেখানে হামলা চালানোর মতো নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় রয়েছে কিনা– তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্দিহান বলে মনে করেন ইসরায়েলি ভাষ্যকার নাদাভ ইয়াল। 

ইসরায়েলি প্রতিবন্ধকতার কারণে গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ক্রমশই কমে আসছে বলে জানিয়েছে গাজায় জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। সংস্থাটির মুখপাত্র তামারা আলরিফাই বলেছেন, ইসরায়েল সরকার ইউএনআরডব্লিউএকে সব সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা উত্তর গাজায় প্রবেশের পাঁচটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। গাজায় প্রতিদিন গড়ে ১৫৫ ট্রাক প্রবেশ করে। কিন্তু প্রয়োজন ৫০০টিরও বেশি ট্রাক। 

এদিকে গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন নিহত এবং ১১২ জন আহত হয়েছেন। ফলে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬২৩-এ।

উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে লেবাননের ছয় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাসহ ৪২ সেনা নিহত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ অস্ত্রের ডিপো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় ৩৬ সিরীয় সেনা নিহত হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জর্ডান। 

ইসরায়েলি বাধা উপেক্ষা করে গতকাল রমজানের তৃতীয় জুমায় আল আকসা মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন। এ দিন ১ লাখ ২৫ হাজার ফিলিস্তিনি নামাজ আদায় করেন বলে জানিয়েছে শহরের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ। 

 


 

আরও পড়ুন

×