ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

গাজায় আগ্রাসন

ইসরায়েলে সমরাস্ত্র সরবরাহ বন্ধে চাপে বাইডেন-সুনাক

ইসরায়েলে সমরাস্ত্র সরবরাহ বন্ধে চাপে বাইডেন-সুনাক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ০৫:৪৬

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৭ ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন নিজ দলের প্রগতিশীল সিনেটররা। গাজায় বেসামরিকদের নিরাপত্তায় ইসরায়েল পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশটিতে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের তিনটি বিরোধী দল এবং ক্ষমাতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন এমপি বলেছেন, ব্রিটিশ সরকারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার। 

গাজা উপত্যকায় চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৭ ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনাকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাইডেন। যদিও ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার শুরু থেকেই দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে এসেছেন তিনি। একদিকে বাইডেন তেল আবিবকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছেন, অন্যদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছেন। 

ত্রাণকর্মী নিহতের পর কড়া ভাষায় ইসরায়েলের নিন্দা করেছেন স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি গাজার হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশ্বের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নেতানিয়াহুকে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইসরায়েল শুধু হামাস নয়, পুরো ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমরা এমন লোকের কথা বলছি– যাদের খাবার নেই, পানি নেই, চিকিৎসাসামগ্রী নেই, জ্বালানি নেই। এটা ভয়ানক, এটা অমার্জনীয় এবং এটা এখনই শেষ হতে হবে। গাজায় এখন যে ভয়াবহতা ঘটছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পরে না। 

স্যান্ডার্সের আগে ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন, এলিজাবেথ ওয়ারেন ও ক্রিস মারফিসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য হোয়াইট হাউসে চিঠি লিখে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা লঙ্ঘন করেছে তেল আবিব। 

এদিকে যুক্তরাজ্যের লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টিও এ দাবিকে সমর্থন করেছে। 

এ ছাড়া ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক তিনজন বিচারপতি। ১৭ পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে সই করেছেন ৬০০ জনের বেশি আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আসতে পারে। 

এদিকে নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থি জোট সরকার ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বুধবার নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গ্যান্টজ আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় আগ্রাসন শুরুর পর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের পর তিনি এ আহ্বান জানান। বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানান। 

এদিকে যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় বোমা হামলার অভিযান শুরুর আগে এআই-চালিত ডাটাবেস ব্যবহার করে হামাসের ৩৭ হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেছিল। এ ক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার নামে পরিচিত এআই সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। হামলার সঙ্গে জড়িত গোয়েন্দা সূত্রগুলো দাবি করেছে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা বিশেষ করে সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহ ও মাসে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছিল। 

আরও পড়ুন

×