ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

রাফাহয় ব্যস্ত ইসরায়েলি বাহিনী, অন্য অংশ পুনর্দখল হামাসের

রাফাহয় ব্যস্ত ইসরায়েলি বাহিনী, অন্য অংশ পুনর্দখল হামাসের

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা উত্তর গাজা উপত্যকার টাল আজ-জাতার শিবির ছাড়ছে। ছবি: রয়টার্স

সমকাল অনলাইন

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ২১:৪৭

ফিলিস্তিনের গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহয় স্থল অভিযান ও আক্রমণ চালাতে ব্যস্ত ইসরায়েলি বাহিনী। আর সেই সুযোগে হাজারো হামাস যোদ্ধা সংগঠিত হচ্ছেন মধ্যাঞ্চলের নেটজারিম করিডোর ও দক্ষিণের খান ইউনিসে। তাদের মর্টার ও স্নাইপার হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ইসরায়েলি সেনারা। হচ্ছে হতাহতও। নেটজারিমে প্রতিদিনই হামাস মর্টার দিয়ে হামলা চালাচ্ছে বলে উঠে এসেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রতিবেদনেও। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ওয়াই নেট এ খবর দিয়েছে। 

গাজার মধ্যাঞ্চল দিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মাণ করা নেটজারিম করিডোর এলাকা এখন হামাসের নিয়ন্ত্রণে। অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারের পর ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে হামাস। করিডোর এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সশস্ত্র সাহায্য ট্রাকও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হামাস, এমন ঘটনাও ঘটেছে। 

নেটজারিম করিডোর বা রুট ৭৪৯ গাজা উপত্যকার মধ্য দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে যাতায়াতের সড়কপথ। আইডিএফ সামরিক উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করে। সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরটি গাজা-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে এখন ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। করিডোরটি দুই কিলোমিটার দীর্ঘ থাকলেও যুদ্ধ শুরুর পর নিজেদের সামরিক যান চলাচল ও হামলার সুবিধার্থে এটি সম্প্রসারণ করে ইসরায়েল। কারণ, এই রুট গাজাকে দুই ভাগে বিভক্ত করায় করিডোর এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গত এপ্রিলের শুরুর দিকে গাজার দক্ষিণের শহর খান ইউনিস থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় আইডিএফ। এর পর সেখানে ফিরে আসতে থাকে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। এরই মধ্যে হাজারো হামাস যোদ্ধা সংগঠিত হয়েছেন ইসরায়েলি সেনাহীন এলাকাটিতে। গড়ে তুলেছেন শক্ত অবস্থানও।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে রাফাহ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ফিলিস্তিনি পূর্ব রাফাহ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। শনিবার আইডিএফ বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাফাহ ছেড়ে গাজাবাসী উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসিতে চলে গেছে।

প্রথমে শুধু পূর্ব রাফাহ খালি করার নির্দেশ দিলেও পরে উত্তরে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদেরও এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। বর্তমানে পূর্ব রাফাহয় ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে শুধু রাফাহ নয়, জাবালিয়া, বেইত লাহিয়া থেকেও হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাচ্ছে।

গাজাজুড়ে গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক ডজন বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে। শুধু দেইর আল বালাহের আল-আকসা হাসপাতালে অন্তত ৪৫টি মৃতদেহ দেখা গেছে। গতকাল মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৫ হাজার ৩৪। 

এদিকে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে আবারও উত্তাল ইসরায়েলের রাজপথ। শনিবার হাজার হাজার ইসরায়েলি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করে। দ্রুত জিম্মিদের মুক্ত করতে নেতানিয়াহুর প্রতি দাবি জানায় তারা। অবশ্য বিক্ষোভে বাধা দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করলে জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় আটক করা হয় অন্তত তিনজনকে। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, হামাস ১২৮ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিলে গাজায় যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে। শনিবার বাইডেন বলেন, ইসরায়েল বলেছে, যুদ্ধবিরতি হামাসের ওপর নির্ভর করছে। যদি তারা যুদ্ধবিরতি চায়, আমরা এটি করতে পারি।’

অবশ্য, হামাসের শর্ত– যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে অবশ্যই গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এটা মানছে না ইসরায়েল। আর এ কারণেই মিসরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেঙে যায়।

আরও পড়ুন

×