ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

প্রাণহানির দায় নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধে মমতা-অমিত

প্রাণহানির দায় নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধে মমতা-অমিত

ফাইল ছবি

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২১ | ১২:০৪

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের ওপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহতের ঘটনা নিয়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। কোচবিহার জেলার এ হত্যাকাণ্ডের দায় কার- তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুমুল বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের 'বাড়াবাড়ি করলে শীতলকুচির মতো আরও ঘটনা ঘটবে' বলে দেওয়া হুমকি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনাকে মমতা 'গণহত্যা' আখ্যা দিয়ে অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন। শিলিগুড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, শীতলকুচিতে নন্দীগ্রামের মতোই গণহত্যা চালানো হয়েছে। ২০০৭ সালের প্রসঙ্গত সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ওপর ভর করেই ২০১১ সালে বিধানসভায় ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের নির্বাচনে সেই নন্দীগ্রামেই প্রার্থী হয়েছেন মমতা। রোববার শিলিগুড়িতে তিনি বলেন, 'নন্দীগ্রামের গণহত্যা আমি দেখেছি। এটিও (শীতলকুচির ঘটনা) গণহত্যার শামিল।'

শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বারবার প্রশ্ন তুলে মমতা বলছেন, কেন গুলি চালানো হলো- কমিশনকে এর ব্যাখ্যা দিতেই হবে। পায়ের দিকে নয়; বুক ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড?

এদিকে গুলির ঘটনায় সাফাই গেয়ে নির্বাচন কমিশন গতকাল টুইট করে জানিয়েছে, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর আগে তারা ৭২ ঘণ্টার জন্য কোচবিহারে রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। রোববার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল মমতার। নিষেধাজ্ঞার কারণে পারেননি। মমতার অভিযোগ- তথ্য বিকৃত করার জন্যই তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন যা করছে, তা নজিরবিহীন।

রোববার বসিরহাটে নির্বাচনী জনসভায় মমতার আক্রমণের জবাব দিয়ে অমিত শাহ বলেন, দিদির উস্কানিতেই কোচবিহারে গুলির ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগে ওখানে এক সভায় নারীদের কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে বলেছিলেন দিদি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি আরও বলেন, শীতলকুচির ওই ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। বাধ্য হয়ে তারা গুলি চালায়।

অমিত শাহর চেয়ে এক ধাপ ওপরে সুর চড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ গতকাল তৃণমূলকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, 'বাড়াবাড়ি করলে রাজ্যের অন্য জায়গাতেও শীতলকুচির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। সবে শুরু হয়েছে। যারা ভেবেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বন্দুকটা দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছে; তারা বুঝে গেছে- ওই গুলির গরম কেমন। সারা বাংলায় এটা হবে।' দিলীপের এ মন্তব্যকে গণহত্যায় প্ররোচনা বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

শীতলকুচিতে শোকের ছায়া: শীতলকুচিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চার হত্যার বিচার দাবিতে ফুঁসছে পুরো এলাকা। ওই এলাকায় কারও বাড়িতেই রান্নার আয়োজন দেখা যায়নি।

মোদির বিরুদ্ধে এফআইআর: নির্বাচনী প্রচারে অন্যতম ইস্যু নারীদের সুরক্ষা। অথচ ভোটের মধ্যেই ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা; বিশেষ করে তরুণীরা। তাও আবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সুরেই। এ অভিযোগে মোদির বিরুদ্ধে শনিবার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় এফআইআর করেছে বেঙ্গল সিটিজেন ফোরাম নামে একটি সংগঠন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিটি জনসভায় যেভাবে মমতাকে তাচ্ছিল্যের সুরে 'দিদি' সম্বোধন করছেন, তা অপমানজনক। তাকে অনুকরণ করার লোকজন এখন বাংলার তরুণীদের কটূক্তি করে উত্ত্যক্ত করছে। কাজেই তার (মোদি) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভও করেন ফোরাম সদস্যরা।

উল্লেখ্য, আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দুটি নির্বাচনী জনসভায় মমতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ১২৬ বার 'দিদি... ও দিদি' বলে ডেকেছেন মোদি।

আরও পড়ুন

×