ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই ভেস্তে যেতে পারে টিকা সংকটে

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই ভেস্তে যেতে পারে টিকা সংকটে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২১ | ১২:৫৮

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, বিভিন্ন দেশ সরকারিভাবে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর যে সংখ্যা ঘোষণা করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ৩৪ লাখ লোকের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হলেও আসলে তা ৬০ থেকে ৮০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে বলে সংস্থাটি মনে করছে।

এদিকে কভিড-১৯ টিকা রপ্তানিতে ভারত সরকারের স্থগিতাদেশের কারণে মহামারির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই ভেস্তে গিয়ে পরিস্থিতি শুরুর অবস্থায় চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ডব্লিউএইচওর ডাটা ডিভিশনের পরিচালক সামিরা আসমা বলেছেন, ২০২০ সালেই বিশ্বে কভিডে সম্ভবত ৩০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন। যদিও সরকারি হিসাবে তখন পর্যন্ত ১৮ লাখের কথা বলা হয়েছে। 

শুক্রবার সংস্থাটি এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। মহামারির আগে প্রতিবছর যত মানুষ মারা যেতেন এবং কভিডকালে যত লোকের মৃত্যু হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে সংস্থাটি এ হিসাব করেছে। অনেকে দেশে পরীক্ষা ছাড়াই এ রোগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

'ভেস্তে যেতে পারে' কভিডের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই:

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার জোট কোভ্যাপের টিকার ঘাটতি পূরণে ধনী রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি মহামারির শুরুর অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।

দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড টিকা পাওয়ার ভরসায় ছিল কোভ্যাক্স। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে ভারত টিকা রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এতে পরিকল্পনার চেয়ে ১০ কোটি ডোজ টিকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড-১৯ টিকার বিপুল মজুদ গড়ে তোলা ধনী দেশগুলোর এখন তাদের বড় পরিসরে মজুদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টিকা বিনিময় করা উচিত। তা না হলে মহামারি দীর্ঘায়িত হবে। কারণ, বিশ্ব এখনও ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও এর অভিযোজন ঠেকাতে লড়াই করে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অপফামের স্বাস্থ্য নীতি ব্যবস্থাপক অ্যানা ম্যারিয়ট বলেন, 'এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। টিকার উৎপাদন ও সরবরাহে হাতেগোনা ওষুধ কোম্পানির একক নিয়ন্ত্রণ ও কোভ্যাপের মাধ্যমে দাতব্য কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল বর্তমান উদ্যোগ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ মারা যাচ্ছে।'

তার মতো অনেকেই বলছেন, উন্নত দেশ ও অঞ্চলগুলোর উচিত তাদের 'বাগাড়ম্বর' ফলপ্রসূ করা এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে টিকার মজুদ ভাগাভাগি করা। সেরামের ওপর অতি নির্ভরশীলতা কোভ্যাপকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মনে করেন ওয়েলকাম গ্লোবাল হেলথ ট্রাস্টের আন্তর্জাতিক নীতি ব্যবস্থাপক উইল হল।

তিনি বলেন, রপ্তানিতে ভারতের স্থগিতাদেশ বাড়ানোর ফলে এখন ধনী দেশগুলোর টিকার মজুদ ভাগাভাগি করার বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, বৈশ্বিকভাবে ভাইরাসটিকে দ্রুত পরাস্ত করতে না পারলে পরিস্থিতি আগের জায়গায় চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ, এটি যত ছড়াবে, তত অভিযোজনের সুযোগ বাড়বে। একপর্যায়ে এমন পরিস্থিতি হতে পারে, যখন টিকা বা চিকিৎসা কোনোটাই কাজে আসবে না।

কোভ্যাক্সের লক্ষ্য হচ্ছে তাদের এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া ৯০টিরও বেশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের অন্তত ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা, যা মূলত দাতব্য সহায়তা হিসেবে পাওয়া। এই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটি ডোজ টিকা বিতরণ করেছে মূলত আফ্রিকার দেশগুলোতে, যার বেশিরভাগই অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড-১৯ টিকা। কোভ্যাপের যৌথ নেতৃত্বে থাকা গ্যাভি জোটের এক মুখপাত্র বলেন, সরবরাহ ঘাটতি পোষাতে তারা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বুধবার জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ তারা ফাইজার, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের দুই কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করবে, যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেওয়া হবে কোভ্যাপের মাধ্যমে। এর বাইরে বাইডেন প্রশাসন আরও ছয় কোটি ডোজ টিকা অন্যান্য দেশে সরবরাহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

গ্যাভির মুখপাত্র বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউটের ওপর কোভ্যাপের নির্ভরশীলতার বড় কারণ হলো মূলত এর বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা, কম দামে টিকা সরবরাহের সামর্থ্য এবং দ্রুততার সঙ্গে লাখ লাখ ডোজ টিকা উৎপাদনের আশ্বাস। কোভ্যাক্সের পরিকল্পনা ছিল ১০ থেকে ১২টি টিকার বৈচিত্র্য দিয়ে সাজানো। কিন্তু বছরের শুরুতে অনুমোদিত টিকার সংখ্যা ছিল খুবই কম এবং ধীরে ধীরে বাজারে আসছে। তাদের কাছে খুবই কম বিকল্প ছিল।

আরও পড়ুন

×