ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সেনাশাসনে মিয়ানমারে কিয়াতের দাম কমেছে ৬০ শতাংশ

সেনাশাসনে মিয়ানমারে কিয়াতের দাম কমেছে ৬০ শতাংশ

ছবি: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৬:৫০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৬:৫০

মিয়ানমারের মুদ্রা কিয়াতের মান কমেছে। সেপ্টেম্বরের শুরু হওয়া এই দরপতনের কারণে দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানির দম বেড়েছে। 

আট মাস আগে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে অস্থিরতা চলছে। মন্দা শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। ডলারের বিপরীতে ৬০ ভাগ দরপতনে সে অবস্থাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর এনডিটিভির।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হার্সি বলেন, এই দরপতন দেশটির জেনারেলদের হতবাক করবে। কারণ তারা অর্থনীতির বিস্তৃত ব্যারোমিটার হিসেবে কিয়াতের রেট নিয়েই ব্যস্ত। এই দরপতন তাদের সে অনভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

ডলারের ঘাটতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে, কিছু কিছু মানি চেঞ্জার তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। মানি চেঞ্জাররা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেছে,  এই মুহূর্তে মুদ্রার মানের অনিশ্চয়তার কারণে নর্দার্ন ব্রিজ এক্সচেঞ্জ সার্ভিসের শাখাগুলো সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। 

তবে যারা এখনো টিকে আছেন ব্যবসায়ে তারা প্রতি ডলারের বিপরীতে ২ হাজার ৭০০ কিয়াত দিচ্ছেন। পয়লা সেপ্টেম্বর এজন্য তাদের পরিশোধ করতে হতো ১ হাজার ৬৯৫ কিয়াত, যা ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী ক্ষমতাসীন অং সান সুচির সরকারকে উৎখাত করার সময় ১ হাজার ৩৯৫ কিয়াত ছিল।

সোমবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অর্থনীতি চলতি বছর ১৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। আংশিকভাবে মহামারির কারণে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় সংকোচন দেখা দেবে এবং দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়বে।

ক্রমবর্ধমান এই অর্থনৈতিক চাপ মিয়ানমারের জন্য আরও বেশি সঙ্কট সৃষ্টির আলামত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতা দখলের পর থেকে এমনিতে দেশজুড়ে সেনাশাসকদের গণঅসন্তোষ ও বিক্ষোভের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। জনগণ ক্রমে সাহসী হয়ে উঠছে। অর্থনীতির এই নাজুক অবস্থা চলতে থাকলে দেশটিতে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়ে যেতে পারে। কারণ সশস্ত্র মিলিশিয়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এরই মধ্যে বেশ সাহসী হয়ে উঠেছে।

মিয়ানমারের একটি ব্যাংকের একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত খারাপ হবে, মুদ্রার হার তত খারাপ হবে। 

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পরের কয়েক মাসে অনেকে ব্যাংক থেকে সঞ্চয় তোলার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াত। কেউ কেউ স্বর্ণ কিনত।কিন্তু ইয়াঙ্গুনের একজন গহনা ব্যবসায়ী বলেন, অনেক হতাশ মানুষ এখন তাদের স্বর্ণ বিক্রির চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গুরুতরভাবে হ্রাস পাবে। বৈদেশিক মুদ্রা কতটুকু অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে জবাব পাওয়া না গেলেও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালের শেষে মজুদ ছিল মাত্র ৭.৬৭ বিলিয়ন ডলার।

 জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় চলতি সপ্তাহে বলেছে, মিয়ানমারে এখন প্রায় তিন কোটি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, অভ্যুত্থানের আগে যে সংখ্যা ছিল ১০ লাখ।

৪৮ কেজির একটি চালের বস্তার দাম অভ্যুত্থানের আগে ছিল ৪৮ হাজার কিয়াত। বর্তমানে ওই পরিমাণ চালের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ।আর জ্বালানির দাম দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ কিয়াত।

আরও পড়ুন

×