সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে স্কয়ারের এমডি তপন চৌধুরী

ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারই নতুন বিনিয়োগের বড় চ্যালেঞ্জ

 প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

 আবু হেনা মুহিব

অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। স্থিতিশীল রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ। পরিস্থিতি খুব অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা তেমন একটা নেই। ফলে এখনই বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়। তবে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। এই উচ্চ সুদহারসহ কিছু সমস্যার সমাধান হলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপরিবার স্কয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী।

সম্প্রতি সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে অনুকূল পরিস্থিতি পেয়েছেন, সেই সুযোগে মোটামুটি ভালোই বিনিয়োগ হয়েছে। এই বিনিয়োগ আরও বাড়বে। নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো উদ্যোক্তাদের মাঝেও কিছুটা দ্বিধা ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সরকার গঠনের পর সেই দ্বিধা কেটে গেছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় ব্যবসা-বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নীতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ফলে উদ্যোক্তারা এখন নিশ্চিন্তে বিনিয়োগে যেতে পারেন। দেশে এ রকম চমৎকার অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ এর আগে কমই ছিল বলে মনে করেন স্বনামধন্য এই শিল্পপতি।

সাক্ষাৎকারে বিনিয়োগ পরিবেশসহ সম্ভাবনাময় বিকাশমান শিল্প, শ্রমশক্তি, অবকাঠামো, ব্যাংক ঋণ, বিদেশে বিনিয়োগ ও শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিতে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকা এবং ব্যবসা পরিচালনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটি সমস্যা সমাধানে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

নতুন সরকার সম্পর্কে তপন চৌধুরী বলেন, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যা-ই থাকুক না কেন, সবাই একটা স্থিতিশীল পরিবেশ চান। উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। জ্বালাও-পোড়াও কেউ দেখতে চায় না। কয়েক বছরে অবশ্য সেরকম কিছু হয়নি। ব্যবসার পরিবেশ ছিল অনেক ভালো। ফলে বিনিয়োগ বেড়েছে, মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি বেড়েছে, বেড়েছে মাথাপিছু আয়। এতে সরকার, সাধারণ মানুষ এবং উদ্যোক্তা সব পক্ষেরই অবদান আছে। এখন এই নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। শিল্প, বাণিজ্যসহ অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নতুন মন্ত্রী এসেছেন। তারা নতুন উদ্যমে কাজ করবেন। আশা করা যায়, বিনিয়োগ পরিবেশ আরও ভালো হবে। এখন উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব, এই সুযোগে আরও বেশি বিনিয়োগ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেও নতুন নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানান।

শিল্প বিকাশে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও প্রচেষ্টা সম্পর্কে তপন চৌধুরী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় একটা জায়গায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। সেটা হলো, উদ্যোক্তারা যে কোনো সমস্যা সরকারকে, এমনকি সরকারপ্রধানকে পর্যন্ত জানাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেই পরামর্শ এবং তার মতামত দেন। বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাক খাতের প্রতি তার অপরিসীম আগ্রহ রয়েছে। কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাত হিসেবে লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিকের রুটিরুজির জায়গা এই পোশাক কারখানা। একই সঙ্গে বিদেশি অর্থ উপার্জনের প্রধান উৎস। ফলে এ খাতের প্রতি তিনি খুবই সহানভূতিশীল।

বস্ত্র ও পোশাক খাতের শক্তিশালী অবস্থান সম্পর্কে এ খাতের বড় উদ্যোক্তা স্কয়ার ডেনিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, একটা সময় বাংলাদেশকে তৈরি পোশাক উৎপাদনে সব কাঁচামাল আমদানি করতে হতো। একটা পর্যায়ে ৩০ শতাংশের মতো কোনোভাবে দেশের ভেতর থেকেই জোগান দেওয়া হতো। বাদবাকি ৭০ শতাংশ আমদানি হতো। সেই চিত্র এখন আর নেই। খুব ভালোভাবেই বদলে গেছে সেই চিত্র। শক্তিশালী পশ্চাৎসংযোগ শিল্প গড়ে উঠেছে এখন। তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামালের জোগান এখন অধিকাংশই দেশের ভেতর থেকেই হচ্ছে। স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং, ফিনিশিং সব কিছুই হচ্ছে দেশে। তুলা ছাড়া সব কিছুর জোগানই হচ্ছে অভ্যন্তরীণভাবে। এ দেশের উৎপাদিত বস্ত্রও এখন বিশ্বমানের। এই অর্জন সত্ত্বেও তৈরি পোশাকের স্থানীয় মূল্যসংযোজন কম হচ্ছে বলে একটা অভিযোগ আছে।

তৈরি পোশাকে মূল্য সংযোজন বলতে বোঝায় রফতানি মূল্য থেকে আমদানি করা কাঁচামালের মূল্য বাদ দিয়ে বাকি যে পরিমাণ স্থানীয়ভাবে জোগান দেওয়া হয়। অর্থাৎ স্থানীয় কাঁচামাল ও সেবাকে মূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই অভিযোগ সম্পর্কে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সদ্য বিদায়ী সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় ভালো মানের বস্ত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্রেতা বিদেশি বস্ত্র আমদানির শর্ত দেন। ক্রেতারাই বলে দিচ্ছেন, কোন ফেব্রিক্স কোন দেশ থেকে আনতে হবে। এতে বস্ত্র আমদানি করতে বাধ্য হন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। তবে দর, মান ও সময়মতো সরবরাহ- এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের বস্ত্র খাতের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে মনে করেন তিনি। স্কয়ার টেক্সটাইল এবং স্কয়ার ডেনিম থেকে তারা নিজেরাই খুব উন্নতমানের বস্ত্র উৎপাদন করছেন। এরকম অনেক উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানেই সেই সক্ষমতা আছে বলে জানান তিনি।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরীর মতে, বিনিয়োগে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চহারের সুদে ব্যাংক ঋণে ব্যবসা পরিচালনা করা আসলেই বড় চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামোগত দুর্বলতা দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে অন্যতম সংকট জমির স্বল্পতা। অবশ্য এ সমস্যা নিরসনে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। কারখানার জন্য একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে। হয়তো জমির সমস্যা আর থাকবে না। কিছু কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগও হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তবে বস্ত্র খাতের জন্য খুব সহায়ক হচ্ছে না এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল। কারণ, এ খাতের কারখানা স্থাপনের জন্য বড় আকারের জমির প্রয়োজন হয়। অর্থনৈতিক অঞ্চলে সে ব্যবস্থা নেই। এ কারণে এই খাতে নতুন বিনিয়োগের তুলনায় বিদ্যমান কারখানাগুলোর সম্প্রসারণ হচ্ছে বেশি। তিনি জানান, এ খাতে গত ৫ বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে সাত হাজার কোটি টাকা।

ক্লিন ইমেজের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত তপন চৌধুরী বলেন, এখন উদ্বেগের বিষয় হলো গ্যাসের দাম। অত্যন্ত ব্যয়বহুল জ্বালানি হলো এলএনজি। এলএনজি আমদানি বাড়ছে। ফলে সরকারকে একটা পর্যায়ে গ্যাসের দাম সমন্বয় হয়তো করতে হবে। কিন্তু গ্যাসের দাম বৃদ্ধি শিল্পের জন্য সহায়ক হবে না। তিনি বলেন, এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এ ক্ষেত্রে সরকারকে ভর্তুকি দিতেই হবে- যেটা অবশ্য সরকার এখনও দিচ্ছে। বিটিএমএর পক্ষ থেকে সরকারকে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাস্তবতা হচ্ছে গ্যাসের দর তো বাড়াতেই হবে, তবে তা যেন একবারে না বাড়িয়ে বছরে ৩ থেকে ৪ ধাপে বাড়ানো হয়। যেটা শিল্পের জন্য মোটামুটি সহনীয় হবে। উদ্যোক্তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় যেন পান। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ কী নীতি অনুসরণ করছে সেটা দেখতে পারে সরকার। তিনি জানান, ভারত কৃত্রিমভাবে গ্যাসের মূল্য কমিয়ে রেখেছে। এ কারণে বস্ত্র খাতে তারা অনেক শক্তিশালী।

দেশের শ্রমশক্তির প্রশংসা করে তপন চৌধুরী বলেন, এ দেশের সিংহভাগ শ্রমিকই ভালো। শিল্পের উন্নয়নে তাদের অনেক বড় অবদান আছে। তারা ত্যাগী। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা সামান্যতেই অনেক খুশি থাকেন। তাদের তুলনা হয় না। উদ্যোক্তারাও এসব শ্রমিকের ওপর খুশি। কাজ আর পরিবার নিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ জীবন। একটা সাধারণ মেয়ে কী সুন্দর করে বড় বড় মেশিনে কাজ করছে। আবার বিদেশি ক্রেতারা কারখানা পরিদর্শনে এলে তাদেরও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে এই শ্রমিকরা। এই চিত্র বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'আই অ্যাম সো হ্যাপি, সো হ্যাপি উইথ দ্যাম। '

তপন চৌধুরী মনে করেন, এ মুহূর্তে দেশি বস্ত্র খাতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে চোরাচালান। অবৈধ সুতা প্রবেশের কারণে দেশি বস্ত্র খাত মার খাচ্ছে। শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়ে আসা সুতা দামে সস্তা হওয়ায় উন্নতমানের দেশি সুতা বিক্রি কম হচ্ছে। অনেক কারখানায় সুতা অবিক্রীত পড়ে আছে। বেকায়দায় আছে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ। তিনি বলেন, এসব নিয়ে তারা সোচ্চার আছেন।

বিস্ময় প্রকাশ করে তপন চৌধুরী বলেন, এর মধ্যে নেপালের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) কথা বলা হচ্ছে। এটা খুব আত্মঘাতী হবে বলে আমার ধারণা। কারণ, নেপালে বাংলাদেশ খুব সামান্যই রফতানি করে। তাদের সঙ্গে কেন অবাধ চুক্তি হবে। চোরাচালানকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আড়ালে অন্য দেশের সুতা ও কাপড়ে সয়লাব হবে বাংলাদেশ। এটা কিছুতেই মঙ্গলজনক হবে না।

ভারতের তুলার ওপর বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দর বাড়লে সঙ্গে সঙ্গেই তারা দর বাড়িয়ে দেয়। আবার দর কমলে পুরনো চুক্তির কথা বলে। তারপরও তুলার মোট চাহিদার একটা বড় অংশ আসে ভারত থেকে। তাদের তুলার একটা সুবিধা হচ্ছে দর কিছুটা কম। তিনি মনে করেন, তুলা নিয়ে এই ভারতনির্ভরতা কমাবে অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকান উন্নত মানের সুতা।

সাড়ে চার দশকের যাত্রায় স্কয়ার গ্রুপ এখন বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পপরিবার। ১৯৫৮ সালে পাবনা জেলার অজপাড়ায় ছোট একটি ওষুধের দোকানের মধ্য দিয়ে ব্যবসা শুরু। এখন বিভিন্ন পণ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান অনেক মজবুত। ওষুধ, প্রসাধনী, বস্ত্র ও পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যপণ্য, খাদ্যপণ্য, হাসপাতাল ইত্যাদি খাতে বড় বিনিয়োগ আছে স্কয়ারের। বছরে লেনদেন ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। কর্মসংস্থান হয়েছে ২৮ হাজার মানুষের। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বিনিয়োগ করছে স্কয়ার গ্রুপ। কেনিয়ায় ওষুধের কারখানা স্থাপন করেছে গত বছর। বিশাল এই সাফল্যের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা তপন চৌধুরীর প্রয়াত বাবা স্যামসন এইচ চৌধুরী। তার নিরলস পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় স্কয়ার বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিল্প গ্রুপ।

দেশের উদ্যোক্তাদের পক্ষে বিদেশে বিনিয়োগ করা প্রসঙ্গে তপন চৌধুরী বলেন, সক্ষম এবং সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে- এ রকম উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। কেন সরকার বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দিতে কার্পণ্য করে এটা তার বোধগম্য নয়। কারণ, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধের মতো কিছু কিছু খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বমানের। বিভিন্ন দেশে কারখানা করে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান এবং বিদেশি মুদ্রা দেশে আনার একটা বড় সুযোগ হতে পারে বিদেশে বিনিয়োগ। সহায়ক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দিলে দেশেরই লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন।