কবি ও চিত্রশিল্পী শামসেত তাবরেজীর তৃতীয় চিত্রকর্ম প্রদর্শনী 'নামের নকশা'র উদ্বোধন হয়ে গেল গত বৃহস্পতিবার। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কলাকেন্দ্রে চলছে এ প্রদর্শনী। শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফিরোজ এহতেশাম

সমকাল: আপনার চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর শিরোনাম 'নামের নকশা'। ইংরেজিতে এর নাম দিয়েছেন 'নেইমিং ইজ এ কন্সপিরেসি', যার অর্থ করলে দাঁড়ায়- 'নামের ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত'। এমন নামের কারণ কী? এই নামসর্বস্ব দুনিয়ায় নামের রাজনীতি নিয়ে কেন মাঠে নামলেন?

শামসেত তাবরেজী: কথায় আছে নামেই কাটে। মানে নামের মধ্যে ক্ষমতা-সম্পর্ক রয়েছে। কেননা নামেই আমরা কাউকে, কিছুকে চিনি। নাম পদ বটে, কিন্তু নামীয় বস্তুটির আকার থাকে, তাই সিম্বল বা সম্বল হয়ে থাকে। সেই নাম জগতকেন্দ্রও হতে পারে, সমাজকেন্দ্রও হতে পারে। ক্ষমতার প্রভাব যত তীব্র হয়, নামও তত তীব্র হয়। এবং সেটি যদি নিয়ন্ত্রণকারী নাম হয়, তবে দেখা যায় ফেসিনেট করবার চেষ্টা করছে। ফেসিনেট করতে গিয়েই সে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে। তাই নামের এই সর্বগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে মন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ কারণেই প্রদর্শনীর নাম (!) করেছি 'নামের নকশা'। নকশা শব্দটি মজার। নকশার এক মানে ডিজাইন (De-sign)। আবার নকশা মানে ছক বা প্লটিং ওরফে ষড়যন্ত্র। এখন মনে হয় নামের দম্ভটি ধরা গেছে।

সমকাল: এ প্রদর্শনী ও এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলুন। কেন ও কীভাবে এটির আয়োজন হলো?

শামসেত তাবরেজী: প্যান্ডেমিক আমাদের গৃহস্থ হতে বাধ্য করেছিল। প্যান্ডেমিকের আতঙ্ক কমলে কলাকেন্দ্রের আহ্বানে এই প্রদর্শনী হচ্ছে। ছবিগুলো আঁকা হয়েছে এক বছরের মধ্যে। বেশিরভাগ ছবি অ্যাক্রিলিকে পেপার ও ক্যানভাসে আঁকা। চারকোলে আঁকাও কিছু ছবি আছে। অ্যাক্রিলিক মাধ্যমেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

সমকাল: প্রথম দুটি প্রদর্শনীর সঙ্গে আপনার এ প্রদর্শনীর পার্থক্য কোথায়?

শামসেত তাবরেজী: আমি প্রায় সম্পূর্ণ বিমূর্ততা থেকে এক ধরনের আকারের দিকে এসেছি। সচেতন চিন্তা আমাকে যেদিকে নিয়ে যায় আমি সেদিকে যেতেই রাজি।

সমকাল: আপনার অনেক ছবিতে ফোকাস পয়েন্ট থাকে না। এই 'কেন্দ্রবিমুখতা' কি ইচ্ছা করেই? কেন?

শামসেত তাবরেজী: তীব্র লাল টিপের মতো ফোকাল পয়েন্ট না থাকলেও হয়। ছবি যদি আপনার অভিজ্ঞতার বিষয় হয়, তবেই তা খুঁজে পাওয়া যায়। কেন্দ্রবিমুখতাই আমার দর্শন।

সমকাল: আপনার আধা-বিমূর্ত ধারার চিত্রকর্মগুলোতে এত উজ্জ্বল রঙের কম্পোজিশনের প্রাধান্য কেন?

শামসেত তাবরেজী: দুঃখের দেশের মানুষ আমি, নানা রকমের ফেটিশ চক্রের মধ্যে বাঁচতে হয় আমাদের। এখানে কণ্ঠ থেকে রং সবই একটু চড়া না?