বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে পাচারের অর্থ ফেরত আনার সুবিধা দেওয়ায় কোনো সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকে মনে করবে, পাচারের টাকা আনলে তো যে দেশ থেকে আনবে তারা ধরবে। এ ছাড়া এখন ডলারের দর অনেক বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছে, আরও বাড়বে। হঠাৎ কেন তারা টাকা ফেরত দেবে? ফলে এর মাধ্যমে বাইরে টাকা নেওয়াকে আরও উৎসাহ দেওয়া হলো। সুবিধা না দিয়ে বরং পাচার বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার ছিল।

গতকাল সমকালের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মতামত দেন। বাজেটের অন্যান্য বিষয়ে তিনি বলেন, সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরাসরি কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বিশেষ করে আগে ছিল না, করোনার কারণে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে এ রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করা হবে, সুনির্দিষ্টভাবে তা থাকা দরকার ছিল। মোটা দাগে গতানুগতিক একটা বাজেট দেওয়া হয়েছে। গতানুগতিকতা থেকে বের হওয়া দরকার ছিল। কিছু ক্ষেত্রে নতুনত্ব এবং সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার উল্লেখ করলে হতো।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। সরকার কিছু ভর্তুকির কথা বলেছে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা বলা হলেও জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ কম ধরা হয়েছে। আবার ঘাটতি সংস্থানে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। সরকার এ পরিমাণ ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণ পেতে সমস্যা হবে। ফলে এখানে একটা সাংঘর্ষিক বিষয় আছে। কর্মসংস্থানের জন্য বেসরকারি খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু সেবা খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে না। ছোট, মাঝারি সব পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। তাদের বেশি সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, করপোরেট কর কমানো ভালো। তবে ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকায় অপরিবর্তিত না রেখে অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকা করা যেত। কেননা, মাথাপিছু আয় বেড়েছে; মূল্যস্ম্ফীতি বাড়তির দিকে। তাহলে এখনকার তিন লাখ তো আগের তিন লাখ টাকার সমান নয়। একই সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়াতে বেশি মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে। ৭৫ লাখ টিআইএনধারীর কারা ঠিকমতো দিচ্ছেন না, দেখতে হবে। এভাবে করের আওতা বাড়াতে হবে। আর যেসব দোকান ভ্যাট আদায় করে, তাদের দুই রকম খাতা আছে কিনা, অনুসন্ধান করতে হবে। এদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে।