'স্মৃতিভ্রষ্ট' ব্যাধির প্রতি আমার আজন্মকালের এক অনুসন্ধিৎসু মোহ আছে। ব্যাধি না বলে আসলে আমার বলা উচিত স্মৃতিভ্রষ্ট পরিণতির প্রতি সে আগ্রহ। ফলে সে যে সেই কবে থেকে আমি একটা 'আশায় বুক বেঁধে' থাকি ঠিক কখন যে এই ব্যাধিটি আসে। মুহূর্ত ধরে গুনে যাই- এই বুঝি আমার প্রত্যাশিত যাকে কোনো এক অনাগত কালে বলা যাবে- 'একদা' এই এলো বা হানা দিয়েছিল বলে! হে! আমার প্রিয় স্মৃতিভ্রষ্টতা। তখন; যদি সে এসে যায়, তখন নির্ঘাত এমন হবে যে, প্রিয় সব স্মৃতিসমূহই কেবল আছে আমার; বাকি সব যা আমার থাকতে নেই বলে গণ্য করো তা সব মুছে গেছে। আহ! সেই এক প্রার্থনা মত্ত থাকা ঘোরে কাল কাটাই, যেন এই ভুলে যেতে পারার মতন এমন মাদকীয়তা, এমন স্মৃতিভ্রষ্টতা সহসা এসে আমারে জেঁকে ধরে। যদিও হলে বা হয়তো, হতেও পারে ইতোমধ্যে এই উপসর্গটি ঢের বাসা পেতেছে এরই মধ্যে আমাতে কোনো এক আকারে। জানি না নিশ্চিত। যদি তা হয়, তবে তা ঠিক তেমন করে নয় আছে যেমনটি আশা করে কালাবধি বসে থাকি- 'সবকিছু ভুলে রব'। সেই বুঝি তবে মোহটা কোথায় আসলে। 'কিছু স্মৃতি ধরে থাক আর কিছু স্মৃতি চলে যাক' স্বার্থপরতার স্মৃতিভ্রষ্টতা যাহাতক হতে পারে প্রত্যাশী।
অতএব সে আমি চাই কিনা চাই- এমন অতীত আমার থাকে, আমাদের শৈশবে দাদি ভারী কাজ থেকে অবসর নিলে তিনি কখনো আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের বাচ্চাদের দেখতেন যখন আমাদের মা-চাচিরা পৌষের শেষে ধান মইয়ের দিনে ওই রাতেই ধান সেদ্ধ করে ফেলবেন বলে সেসব লয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তখন আমরা অনেকগুলো ভাইবোনে দাদি জবেতুন্নেসার পরিচর্যায় থাকতাম। জবেতুন্নেসা আমাদের লয়ে ছাপরা ঘরের, ছাপরা বারান্দার দক্ষিণধারে একটা উঁচু দেউড়ির ওপর লম্বা সলতের পেতলের নবাবি একটা বাতি জ্বালায়ে তার আলোয় আমাদের আগলে রাখতেন আর হয়লা করে গল্প করতেন। জবেতুন্নেসাকে আমরা ববু ডাকতাম। আমাদের মনে হতো এই কাজই ববুর অধিকতর প্রিয় অর্থাৎ নাতি-নাতনিদের আগলে রাখা ও গান-নাচ করে (তিনি তার মতো করে তখন নেচে দেখাতেন আমাদের তার প্রতি কৌতূহলী রাখতে) তার এই বন্দি শ্রোতাদের সঙ্গে গল্প বলে যাওয়া। এভাবে আমাদের শৈশবে তিনি বহু গল্পই করতেন। তার সব গল্পই ফিরে আসত তার একটিমাত্র পুরোনো কক্ষপথে বা গল্পের মূল শেকড়ে, সে ছিল তার জগতের আর একজন নারীর গল্প। তিনি ঘুরেফিরে তার গল্পে ফিরে যেতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখেছি সে প্রায় তখন থেকে একশ বিশ-ত্রিশ বছরের পুরোনো একটা জীবনের গল্প আমাদের দাদি জবেতুন্নেসা ফিরে যেতেন। আর আমার সে গল্প 'অনেক অনেক দিন আগের কথা' হিসেবে আপন করে নিয়ে থাকতে পারি; সে সজ্ঞানে কি অগোচরেও হতে পারে। ধানের মই ভাঙা দেড়প্রহর রাতের চক্রাকারে হাঁটতে থাকা গরুর পাল ছেড়ে এসে আমাদের দাদাভাই তার ঢোলা করে গিঁট দেয়া কাছা পুনঃগিঁট দিতে থেকে দাদির অনুকরণে নাচনা দিয়ে বলে যেত এমন কথা যে, নাতিরা যেন তাদের দাদির গপ্পো সব বিশ্বাস না করে। আমরা অর্থাৎ দাদি ববুর শ্রোতারা তখন এমন ভাব করতাম যে, ঢোলা করে কাছা দেওয়া এই 'চাষিটি' আমাদের এই গল্পের আসরে আসলে একজন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বহিরাগত। তার পরও দাদাভাই বলে যান উপযাচিত অতিথির মতন, তোমাদের দাদিবুর গল্পের ওই দাদি ছিলেন পেত্নী আছরপ্রাপ্ত এক বানানো দুঃখে দুঃখী মানুষ। আমরা জানিনা বানানো দুঃখে দুঃখী বলতে তিনি কী বোঝাতে চাইতেন আমাদের এমন গল্পের মাঝে। আমরা শ্রোতারা ততদিনে দাদির গল্পভক্ত হয়ে উঠেছি। স্বভাবতই আমাদের চূড়ান্ত অনাগ্রহ ছিল ওই ঢিলেঢালা কাছা দেয়া ধানভাঙা মইয়ের রাখাল বুড়ো আমাদের দাদা ভাইর প্রতি। দাদু চলে যেতে থেকে তার কাছা আরও শক্ত করে বেঁধে পরে নাম মনে করতে চেষ্টা করতেন দাদির গল্পের দাদির নাম 'কী যেন, কী যেন' করে। তখন আমাদের কেউ একজন চেঁচিয়ে দাদুকে গালি দেয়- 'নামও জানে না আবার, তার নাম হলো 'সুরমা-বালা' মরণের বুড়া, নামও জানে না।' দাদির অন্য শ্রোতাদের কথা ঠক বলতে পারবো না তবে আমি সেই শৈশব থেকে কোনো এক 'সুরমাবালা'র কাহিনি জানি যিনি দেখতে ছিলেন আমাদের দাদিবুর মতন। ঘন কালো আষাঢ়ের মেঘের চুল তার, আমাদের দাদিবুর দাদিবু। চোখ তার 'কবেকার' বিরাটকায় দিঘি, হেঁটে যেত পোয়াতি গাভির মতন শান্ত পায়ে। এইভাবে আমাদের দাদিবু তার কোনো এক দাদিবু কোনো এক আমাদের অজানা অতীতের কাহিনি অঙ্গভঙ্গি করে দেখাতেন ও বলতেন- কেমন করে 'পোয়াতি গাভিনের মতন' অপরূপ হেঁটে যেতেন আমাদের সেইসব দীর্ঘ কাব্যের নায়িকা, দাদিবুর দাদিবু 'সুরমাবালা'। আমরা সে হবে কখনো পৌষের মাঝারাতে এলি পাতার হোগলায় দাদিবুর প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এক মানুষের কাহিনি শুনতে থেকে 'স্মৃতি-রোগে-আক্রান্ত' আমাদের ক্লান্ত দাদির চারদিকে আমরা একের পর এক ঘুমিয়ে পড়তাম। সে কখনো হয়তো ভাদ্র পূর্ণিমার রাতগুলোতে আমন ধান রোপণের কালে কী বৈশাখ কী তা আশ্বিনে হতে পারে। হতে পারে আমিই থাকতাম তার শেষ শ্রোতা হালিয়া বদলাদের ঘুমানো তেল-চটানো বালিশে চিত হয়ে শুয়ে থেকে ঘাড় কাত করে ছাপরার পূর্বাংশ দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হয়তো বিষণ্ণ গল্পের চাঁদ-তারা দেখে থাকতাম। দাদি এসে পাশে শুতেন। গরুদের ধান মইয়ে হাঁটার শব্দ কমে যেত। ধান সেদ্ধর চুলা থেকে আগুনের শব্দ ও লাল আভা কখনো জ্বলন্ত ছাই উড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দাদি তখন আমার নির্ঘুম চোখ দুটো মৃত মনুষ্যদের যেমন পলক বুজিয়ে দিতে হয়, তেমন করে বুজিয়ে দিয়ে বলতেন, ঘুমা রে এখন আমার দাদাভাই, এমন অতীত ব্যারাম যেন তোর না হয়।
সেইসব দিনের খুব বেশি পরে নয়, আমার কথিত শৈশব থাকতেই আমাকে দাদিববুর কাহিনিসমূহ লয়ে ও ছেড়ে তবে শহরমুখী হতে হয়েছিল। আমি আমাদের শহরের পুকুরধারের বাসার জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে পুকুরের জলের দিকে থাকিয়ে থেকেছি আর ওই দাদিবুর বলা দাদিবু সুরমা-বালাকে দেখছি আষাঢ়ে মেঘের ঢেউ তোলা চুল উড়িয়ে যেমন করে দাদিবু দেখিয়ে থাকতেন। যেমন করে জল দীঘির তার আঁখি কি দীপ্ত পোয়াতি গাভিনের হেঁটে যাওয়ার ধারাবর্ণনা। এবং তারপর কোনো এক কালে নারকেলগাছ ঘেরা বাড়ির নিজ ঘর থেকে হেঁটে দক্ষিণের খোলা প্রাচীন বৃক্ষসারির নিচে যেতেন। সে হরিণঘাটা মোহনার পাশে ফাতরা জঙ্গলের অদূরে স্মরণতলী গ্রামের আলপথের ওপর সৈলাগাছের তলে বসে পড়তেন আমাদের দাদিবুর দাদিবু তার ঘরে না ফেরা কোনো এক সন্তানের আহাজারি করে।
সে অনেকদিন আগে হবে (না আমার দাদিবু বা তার দাদিবুর কাল সময়ের মতন আগে), সে অন্তত দুই দশক আগে কমছে কম, প্রথম আলো পত্রিকার সাহিত্য পাতায় একটা গল্প পড়েছিলাম, এখন না মনে আছে সেই গল্পের নাম বা গল্পকারের। অন্ধ স্মৃতিভ্রষ্ট একদা দিনমজুর বুড়োকে বসানো হয়ে থাকে তার ঘরের বাইরে বাড়ির সামনের রাস্তায় একটা জল চৌকিতে। সেই স্মৃতিভ্রষ্ট ওইখানে তাল ও খেজুরগাছের নিচে বসে একটি লোকের ফিরে আসার 'পদধ্বনি' শুনতে পেতেন কান খাড়া করে। আর যার ফিরে আসার পদধ্বনি ওই স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষটি শুনতেন, সে ছিল তার পুত্র '৭১-এ ঢাকায় এক বুদ্ধিজীবীর সহযোগী কাজের লোক। যখন তার মুনিবকে নিয়ে যাচ্ছিল আলবদররা তখন ওই কিশোর কাজের লোক মুনিবকে জড়িয়ে ধরলে আলবদররা কাজের ছেলেটাকে গুলি করে মেরেছিল। তার বহু বছর পর অন্ধ ও স্মৃতিভ্রষ্ট বাবা বাড়ির সামনের রাস্তার তাল ও খেজুরগাছের তলায় বসে থেকে তার ছেলের ফিরে আসার 'পদধ্বনি' শুনতে পেতেন। এই গল্পের সময়ে প্রথম আলোর সাহিত্যপাতার সম্পাদক ছিলেন সাজ্জাদ শরীফ ও সহকারী ছিলেন যতদূর মনে পড়ে ব্রাত্য রাইসু। তখনো ওই গল্পে থেকে আমার খুব স্মৃতিভ্রম ব্যারামের প্রতি আগ্রহ। সেই প্রার্থনা, সেই প্রত্যাশা আঁকড়ে ধরে যেন অমন গ্রামীণ ডোবার পাশে খেজুর গাছের তলে বসে কারো আগমনী পদধ্বনি শুনতে চাই! এখন মনে নেই, (এও কি স্মৃতিভ্রষ্টতা নয়, এই যে মনে নেই!) কোথায় পড়েছি এমন একটি গল্প মেয়েটির পরিধানের কাপড় নেই; ছিঁড়ে গেছে, ফলে ফিতরার কাপড় আনতে গিয়ে মরে গেছে পায়ের তলায় পড়ে। তার অর্থাৎ ওই সর্বস্বান্ত মেয়েটির কোনো ঘর ছিল না, একটা ছাপরা ছিল, তাতে কোনো কপাট ছিল না। সেই গল্পে আমি কোনো এক কপাটহীন ঘরের নারীকে জানি প্রথম যিনি একটি শাড়ি পেতে গিয়ে মরে গিয়েছিলেন। যার ঘর ছিল না। যা ছিল তা কপাটহীন। আমার এক বন্ধু আমার মদিরতায় মন্ত্রমুগ্ধকাল সামনে রেখে একটি সাদামাটা তালাহীন দরজার ছবির কথা বললে আমি একটা দোরগোড়াকে ভুল করে দেখি তার একটি ভিন্ন ছবি বানিয়ে। তারপর আমি ওইসব গল্পের অর্থাৎ দাদিবু কি তার দাদিবুকে দেখি একটা উন্মুক্ত প্রান্তরের 'দরজায়' বসে থাকে কোনো এক না ফেরা মানুষের অপেক্ষায়।
আমার নিজেরও কখনো কোনো ঘর ছিল না। সে আমার বাবারও ছিল না, তার বাবারও নয়। কোনো বাড়িও ছিল না স্বভাবতই। এই ঘর ও বাড়ি না থাকার গল্প একদিন, সে আমার কৈশোর উত্তীর্ণ যৌবনছুঁইকাল হবে তখন, শহরের নদীর ধারে (বেল পার্ক, কীর্তনখোলা) দাঁড়িয়ে যখন পুরোনো গল্পটি পুনরাবৃত্তি করি, তখন আমার মনে আছে নদীতে বয়ে যাওয়া স্রোতের কূলধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, নদী থেকে উঠে আসা বৈশাখী বাতাসে হবে তার 'কালোমেঘের চুল' উড়িয়ে তার অপূর্ব হাসির শব্দসহ নদীর স্রোতে মিলিয়ে দিয়ে পরে ঘরহীন তিনি একটা আশার স্বপ্নের গল্প শুনিয়েছে এই বলে যে, ঘরের মতন একটা ধারণার বাস্তব রূপ না থাকাই সে ভালো, তাহলে বরং কেননা তা 'কোনো এক কালে হবে' বলে মনের মতন করে তাকে সাজানো স্বপন দেখা যেতে পারে। আইনি বা পারিবারিক বলে চেতনায় সে ঘর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে ঘর নির্মাণ দূরে থাক, স্বপন বাকি সব সাজানোর কখনো প্রশ্নই ওঠেনি, যাতে একখানি 'দুয়ার' থাকলেও থাকতে পারত বলে নাম হতোও আশার ঘর। তখন কীর্তনখোলায় ভাটা না যেন জোয়ারের স্রোত ছিল। কূলে কূলধ্বনি ছিল। চরের বলাকারা অকারণে উড়ছিল নিশ্চয় তাদের দু'পাখা অকাতরে খুলে দিয়ে একটি অদৃশ্য পথের নকশার আঁকা উড়াল দিয়ে, তেমন মনে হয়েছিল। সেই থেকে কাঁচা আমের ক্ষারে গালে ক্ষত হলে যে চিরায়ত উৎকণ্ঠা চিরস্থায়ী দাগ ভীতি হতে, সম্ভাব্য পথের সেই ঢাকনা (দরজা কী?) হতে পারত বলে যে সম্ভাবনা তা না থাকার জন্যই, এক অস্পষ্ট দাগ শুধু কেবল অনুভব করা যায়। আসলে কোনো দাগ নেই। ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। সে পথে কোনো দরজা নেই। তিনি তার ওড়নাটার কোনা ধরলেন মুঠো করে, তারপর চোখের দিকে এক মুহূর্তের জন্য উঠালেন এবং বললেন ইংরেজিতে যেন সারা জীবন না থাকে এমন দাগ আমি ইচ্ছা করছি।
এরপর আমি দাদির দেয়া দেড়শ বছরের পুরোনো স্মৃতি কাঁধে লয়ে ঢাকায় এলে হরিণাঘাটা মোহনা পারের লোকজনের সঙ্গে দেখা হলে পরে ওই গল্পই করি যে, সে আমার কোনো বাড়ি নেই, যেমন ছিলও না, ফলে ঘর নেই, ফলে ঘরের অপরিহার্য কিছুও নেই দরজা বা কপাট বা অন্য কিছু, যেখানে ফিরে যাওয়া যায়। তিনি বলেছিলেন এমন বিমূর্ত ধারণার বাস্তবতা বরং না থাকাই ভালো। সেই থেকে এমন বিমূর্ত ধারণার বাস্তবতা না থাকায় বেঁচে আছি আজ অবধি।
তাহলে পরে হিসাব কষে দেখেছি দাদিবুর গল্পের দেড়শ বছরের পুরোনো হতে প্রায় দু'শ বছরের দিকে, তখন ঢাকায় হরিণাঘাটা মোহনা পারের কালাপানি পাড়ি দেয়া পুত্রের অপেক্ষায় থাকা প্রান্ত দরজায় বসে থাকা কালো মেঘের মতন চুল ও গভীর দীঘির চাওয়া সুরমবালার সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমাকে অগণিত চিত্র দেখিয়েছিলেন। সেসব চিত্রের কোনো কিছুই এখন মনে নেই। এই যে কোনো চিত্রের কথা মনে নেই তা যদি হতোও ওই স্মৃতিভ্রষ্টতা, তবে তো কোথাও কৃতজ্ঞ প্রকাশ করা যেত। যেহেতু 'মনে না থাকার মনে থাকা' স্মৃতিভ্রষ্টতা দরজায় এখনও বেদনার নাড়া হয়ে পড়ে। কবে যে সেই অপেক্ষার শেষ যখন ব্যাধিটি পুরোপুরি জেঁকে বসে। কতদিন লাগে তা কে জানে।
দাদিবু গত হলে দাদাভাই বলতেন আমাদের ডেকে যে তার পরিবারের (স্ত্রী) দাদিবুর যে সৌন্দর্যের গল্প তা আসলে তার নিজেরই এবং জবেতুন্নেসার আড়ালের নামও ওই সুরমাবালা এবং তার বলা পুরোনো কাহিনিসমূহ সত্যও হতে পারে যে তার দাদিবুর আবার দাদিবুর (আরও একজন দাদিবু বাড়ল) পুত্র কালাপানি পাড়ি দিয়েছিল আর ফিরে আসেনি; আবার নিশ্চিত করে বলাও যায় না যে আবার সে কাহিনি সত্য নাও হতে পারে। এমন সব দোলাচলের কাহিনি লয়ে পরে যে আমার দরজা আগ্রহ তার ভিত্তি আমার চুল ঢেউ খেলা দাদিবু থেকে। ফলে টনি ব্র্যাক্সটনের আনব্রেক মাই হার্ট গানের ভিডিওতে ঝরে যে দরজা খুলে যাওয়া বা রবীন্দ্রনাথের গান যে রাতে মোর দুয়ার, কী ট্রয়ে প্রাসাদের দরজা গলিয়ে প্রতিপক্ষের ঢুকে পড়ার মধ্যে যে আমার কৌতূহল যেমন অটোমান সুলতান মেমেত কেবল কনস্ট্যান্টিনেপোলের দেয়ালের দরজাই ভাঙতে চেয়েছে, ঠিক তেমন করে তেমুদিন (চেঙ্গিস খান) যখন চীন দখল করেছিলেন, তখন প্রাচীরের দরজাকে উদ্দেশ্য করেই লাখো অগ্নিতীর ছুড়েছিল, ঠিক এমন করে গল্গ্যাডিয়েটররা রোমান প্রাসাদের দরজা ভেঙেছিল। এইভাবে পূর্বে উল্লিখিত দরজা এবং আরো অগণিত দরজার প্রতি আগ্রহ থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে অন্যকোনো দরজার অস্তিত্বের কথা আমার জানা নেই যা কখনো আমি নাড়া দিতে পেরেছি বা পারব বলে বিশ্বাস বা জ্ঞাত রয়েছি। বা কোনো দরজা বন্ধ হলে নতুন দরজা (রুমি) সেও দেখি আমাকে দিয়ে নয়। অবশেষে দেখি আমি সেই দরজাবিহীনই থেকে গেছি!