ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

আর্থার সি ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকা

বছরের সেরা ছয় সায়েন্স ফিকশন

বছরের সেরা ছয় সায়েন্স ফিকশন

.

কালের খেয়া ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৫

২০০১ : এ স্পেস ওডিসি, ৩০০১ : দ্য ফাইনাল ওডিসি গ্রন্থের  ব্রিটিশ লেখক স্যার আর্থার সি. ক্লার্ক [১৯১৭–২০০৮] বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পাঠকের কাছে চিরকালের প্রিয়। ১৯৮৭ সাল থেকে ইংল্যান্ডে প্রতিবছর একটি মৌলিক কিংবা অনূদিত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিকে তাঁর নামে পুরস্কৃত করা হয়। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ভুবনে সম্মানজনক এ পুরস্কার আর্থার সি ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড নামে পরিচিত। এ বছর এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত ছয়টি বই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে– ভেনোমাস লাম্পসাকার, দ্য রেড স্কলার্স ওয়েক, প্লুটোশাইন, দ্য অ্যানোমালি, দ্য কোরাল বোনস ও মেট্রোনোম। সংক্ষিপ্ত পরিসরে ছয়টি বইয়ের সামগ্রিক রূপরেখায় আলোকপাত করা হলো।   

ভেনোমাস লাম্পসাকার
যারা ডিসটোপীয় সায়েন্স ফিকশন ভালোবাসেন, তাদের জন্য ব্রিটিশ লেখক নেড বাউমানের ভেনোমাস লাম্পসাকার প্রথম সারির পছন্দ বলে বিবেচিত হতে পারে। মানুষ তার যাপিত পরিবেশকে দূষণের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে–  এমন এক প্লটে এ উপন্যাস রচিত। এই দূষণের ফলে যেসব প্রাণ-প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায় হতে চলেছে, তাদের ঘিরেও চলছে নিষিদ্ধ বাণিজ্য। বলা হচ্ছে, গ্রন্থের প্রায় প্রতিটি চরিত্রই ঘৃণ্য প্রকৃতির, অথচ আকৃষ্ট হওয়ার মতো। 

দ্য রেড স্কলার্স ওয়েক
আলিয়েত্তে দ্য বোদার্দের লেখা এ উপন্যাস চমকপ্রদ মেলোড্রামাটিক ঘটনাপ্রবাহে পূর্ণ। এ গ্রন্থের একটি উপাধি জুটেছে। তা হলো, স্পেস অপেরা। যারা মহাজাগতিক অভিযান, সময় ভ্রমণ, ওয়ার্মহোল, এমনকি মহাজাগতিক দুস্যদলের মতো জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিসুলভ উপকরণের সঙ্গে একটা জমাট ভালোবাসার গল্পও পেতে চান, দ্য রেড স্কলার্স ওয়েক তাদের প্রথম পছন্দ হতে পারে। 

প্লুটোশাইন
বৈজ্ঞানিক অর্জনগুলো মানুষের কল্পকাহিনির কাছে ঋণী। বৈজ্ঞানিক কল্পগল্পগুলোর অনেক কাল্পনিক আবিষ্কার আজ বিজ্ঞানীরা বাস্তব করে তুলেছেন। চাঁদে যাওয়ার কথাই ধরা যাক। চাঁদে যাত্রার অভিযান নিয়ে জুলভার্স ১৮৬৫ সালে যা লিখেছেন তা ১৯৬৯-এ এসে সত্য হয়। বর্তমান সায়েন্স ফিকশনের অন্যতম অনুষঙ্গ টেরাফর্মিং। যে কোনো গ্রহ বা মহাজাগতিক পরিবেশকে পৃথিবীতুল্য করে তোলার প্রযুক্তি। এবং এই প্রযুক্তির আওতায় আসছে প্লুটো, সূর্যের প্রায় শিথিল আকর্ষণ বলয়ের গ্রহ, হিমাঙ্কের দুশো ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচের গ্রহ। এই টেরাফর্মিংয়ের গল্প যদি আসে একান্তই মানবিক কোনো গল্পের ছদ্মবেশে, কেমন হয়, তা লুসি কিজিকের লেখা প্লুটোশাইনের পাঠকরাই ভালো বলতে পারবেন। 

দ্য অ্যানোমালি
অ্যানোমালির লেখক এরভে ল্য তেলি। ফরাসি থেকে বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন আদ্রিয়ানা হান্টার। এরই মাঝে দ্য অ্যানোমালি ফরাসি সেরা সাহিত্য পুরস্কারগুলোর একটি প্রি গনক্যুয়োর অর্জন করেছে। মানুষের কল্পনার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে অ্যানোমালি। উপন্যাসে একটি বিমান তার সমস্ত যাত্রীসহ অনুলিপিত হয়ে যায়। প্রথম বিমান স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করে। দ্বিতীয়, অনুলিপি বিমানটি অনুলিপি যাত্রীসহ অবতরণ করে তিন মাস পর। উদ্ভট ধরনের ‘হোয়াট ইফ’ ধারার এ উপন্যাস শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আটক করে রাখবে পাঠকদের। 

দ্য কোরাল বোনস
সম্প্রতি পরিবেশগত ভয়াল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পৃথিবী। বিশ্বজুড়ে সংবেদনশীল লেখক-মনে এক করাল ভবিষ্যৎ প্রকৃতি ছায়াপাত করেছে। ই. জে. সুইফটের লেখা দ্য কোরাল বোনস সেই বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়ানো এক জনপদের গল্প, সেই জনপদের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়ানো একজন বিজ্ঞানী হানা ইশিকাওয়ার গল্প, এ গল্প প্রাণিবৈচিত্র্যের বিরল আবাস, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের। মানুষ তার অনেকখানে হারিয়ে ফেলেছে।   

মেট্রোনোম
মেট্রোনোম নামের বাদ্যযন্ত্রটি তাল সৃষ্টি করলেও, এ উপন্যাসের গল্পটি তালবিচ্যুত মানুষের গল্প। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কভিড মহামারি আমাদের দেখিয়েছে বন্দি থাকার মানসিক ভাঙন ও বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে। এ উপন্যাস বারো বছর ধরে দ্বীপান্তরিত দুই অপরাধী আইনা ও হুইটনির। বলা হচ্ছে, যারা ডিসটোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন ভালোবাসেন, মেট্রোনোম তাদের রোমাঞ্চকর অনুভূতি এনে দিতে পারে। 

আরও পড়ুন

×