ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

ধারাবাহিক

একদা সোভিয়েত ইউনিয়নে

একদা সোভিয়েত ইউনিয়নে

.

হাসনাত আবদুল হাই

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৬

পর্ব ১০

হোটেল ইউক্রেনা নির্মাণ শেষ হলে তিনি নিজে এসে প্রথম প্রবেশ করেন ভেতরে। ঘুরে ঘুরে দেখেন সবকিছু। তাঁর নির্দেশে মেইন হলে স্থাপিত হয় ব্রোঞ্জ স্ট্যাচু, সিলিং থেকে ঝোলানো হয় মস্ত বড় ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি আর দেয়ালে টাঙানো হয় এক হাজারের ওপর সোভিয়েত আর্টের নিদর্শন সব পেইন্টিং। তিনি নিষ্ঠুর ছিলেন কিন্তু তাঁর সৌন্দর্যবোধ ছিল। ইউরি হঠাৎ সতর্ক হয়ে ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বলে, তিনি অনেক মৃত্যুর জন্য দায়ী। খুব ক্ষমতালোভী ছিলেন। ক্রুশ্চেভ ঠিকই বলেছেন তিনি আত্মপ্রচারপ্রিয় ছিলেন।
হোসেন সাহেব, ফিসফিস করে বললেন, বুঝলেন না? তার হঠাৎ খেয়াল হয়েছে ড্রাইভার কেজিবির লোক হতে পারে। তাই ভোল পাল্টে স্ট্যালিনকে একহাত নিল।
প্রায় আধ ঘণ্টা পর আমরা শহরতলির গাছপালা, খোলা মাঠ, হ্রদের মতো জলাশয় আর ছড়ানো-ছিটানো বাড়িঘর পেছনে রেখে শহরতলিতে ঢুকলাম। এখানে বাড়িঘর ঘনবসতির কথা জানিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু কোনো বাড়ি তিন কি চারতলার বেশি না। আর প্রায় সব ইট বা পাথরের। কংক্রিট, গ্লাসের তৈরি বাড়ি বা বাণিজ্যিক ভবন চোখে পড়ল না। বাড়ির মাঝখানে খালি জায়গায় গাছপালা, বাগান। রাস্তা বেশ প্রশস্ত। মাঝখানে ট্রাফিক ডিভাইডারে উঁচু ল্যাম্পপোস্ট থেকে ঝুলছে প্ল্যাকার্ডের মতো নানা রঙের বিজ্ঞাপন। সবই শিল্পকারখানায় তৈরি পণ্য। তাদের নাম লেখা ইংরেজিতে।
ইউরিকে বললাম, ইংরেজি কেন ব্যবহার করা হয়েছে বিজ্ঞাপনে। ইউরি বলল, এসব পণ্য রপ্তানির জন্য। বিদেশিরা যেন পড়তে পারে সেজন্য ইংরেজিতে লেখা। তারপর একটু থেমে সে বলল, আমাদের হার্ড কারেন্সি দরকার।
হার্ড কারেন্সি মানে ডলার। কিন্তু সে ডলারের উল্লেখ করল না। সেটাও কি ড্রাইভারের কথা ভেবে? এই দেশে কি তাহলে ভুল করেও ভুল কথা বলা যাবে না? বললেই বিপদ? চিন্তার বিষয় বটে যখন মন খুলে কথা বলা যায় না। সমাজতান্ত্রিক দেশ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলা হলে ভুল হবে, যদিও এর অভিজ্ঞতা এসব দেশে ব্যাপক। অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও সরকারবিরোধী সামান্য কথার জন্য খেসারত দিতে হয়, এটা কে না জানে। এই যে মনের কথা বলতে না দেওয়া, একটু সমালোচনা করলেই রোষানলে পড়া, এ তো শুধু এক নায়কতন্ত্রের ট্রেডমার্ক নয়, তথাকথিত গণতন্ত্রের দেশেও কারও কারও তিক্ত অভিজ্ঞতা। সমালোচনাকে শুধু ভয় পাওয়া নয়, সহ্য করতে না পারাও সরকার পরিচালনার অংশ হয়ে যাচ্ছে ক্রমে। ফলে স্তাবকের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের আনুগত্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কর্পূরের মতো এবং বিশ্বাস সুযোগসন্ধানী। শাসকরা একটা সহজ বিষয় বোঝে না, সমালোচনা অবাধ হয়ে গেলে, তাতে গুরুত্ব না দিলে যারা সমালোচনার জন্য মুখিয়ে থাকে, তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে অচিরেই। যদি কেউ আমলেই না নেয়, গায়ে না লাগে, তাহলে সমালোচনা করে লাভ কী? এ কথা ভাববে তারা, যারা ক্ষমতায় আসীন। অবশ্য সরকারবিরোধী সমালোচনার ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। রাষ্ট্রবিরোধী বিষয়ে না। রাষ্ট্রে অনেক ক্ষমতাবানের কাছেই এই ভেদরেখা স্পষ্ট না বলেই বাকস্বাধীনতা এমন বিপন্ন। রাশিয়ার মতো একনায়কতন্ত্রের দেশে, যেখানে ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম আছে বলে দাবি করা হয়, সরকারবিরোধী আর রাষ্ট্রবিরোধী সমালোচনাকে অভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয় কি, এজন্য যে এ দেশে দুইয়ের মধ্যে তফাত আছে বলে মনে করা হয় না? কিন্তু তা করা উচিত এবং করা মোটেও কঠিন না। যেমন, কেউ যদি রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সমাজতন্ত্রের সমালোচনা করে তাহলে তা স্পষ্টতই রাষ্ট্রবিরোধী। অন্যদিকে সমালোচনা যদি হয় সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য কোনো বিশেষ পলিসি বা প্রোগ্রামের প্রসঙ্গে, তাহলে তাকে রাষ্ট্রবিরোধী মনে করা শুধু ভ্রান্ত না, স্বৈরাচারের নামান্তর। আমি এই রাশিয়া সফরে কেবল তার অর্থনৈতিক দিকটি সম্বন্ধে জানতে বিশেষভাবে আগ্রহী হবো। বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, এসব বিষয় অর্থনৈতিক মুক্তির পরবর্তী এবং উচ্চতর পর্যায়ের চাহিদা। সেজন্য দুটি বিষয় মিশিয়ে এক করে দেখার ইচ্ছা নেই আমার। কিন্তু এখনই এত কিছু ভাবছি কেন আমি? এই তো সবে শুরু।
শহরের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে ডানদিকে যে নদী সামান্য বেঁকে এগিয়ে গেছে, সেটিই মস্কোভা রিভার বা মস্কো নদী, যাকে বাদ দিয়ে মস্কো শহরের কথা ভাবা যায় না। পৃথিবীর অন্য অনেক শহরের মতো মস্কো নগরীর পত্তন হয়েছিল মস্কোভা নদীতীরে যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র উপায়ের কারণে। এখন সেই পুরোনো প্রয়োজন ফুরিয়েছে, যার জন্য মালবাহী আর কর্মব্যপদেশে নৌযানে যাত্রী মানুষের সংখ্যা স্বল্পই। মাঝে মাঝে মালভর্তি বার্জ যাচ্ছে তরতর করে আবর্জনাহীন স্বচ্ছ পানিতে দাগ কেটে। এই সকালে সাইটসিয়িংয়ে নৌবিহারে বেরিয়েছে যেসব উৎসাহী ট্যুরিস্ট, তাদেরকেও দেখা গেল ছোট আকারের লঞ্চে ক্যামেরা হাতে রোদচশমা চোখে বসে এবং দাঁড়িয়ে থাকতে। দেখলাম নদীর দুই তীর কংক্রিটে বাঁধানো, তীরের পার্শ্ববর্তী হাঁটার প্রমনেডে শখের মৎস্যশিকারী বড়শি ফেলে ছিপ ধরে বসে আছে ধৈর্যের সঙ্গে পানির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। ওপরে আকাশ নির্মল নীল, সেখানে সাদা জলশূন্য মেঘের কুণ্ঠিত দলছুট বিচরণ।
এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রার প্রায় এক ঘণ্টা পর আমরা মস্কো নদী অতিক্রম করলাম ব্রিজ দিয়ে। তার ওপাশে রাজসিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে যে বহুতল ভবন, সেদিকে হাত তুলে ইউরি বলল, হোটেল ইউক্রেনা। তোমাদের থাকার জায়গা।
আমি তাকিয়ে চমৎকৃত হলাম এবং কিছুটা পুলকিত। আকারে বিশাল, শৈলীতে মনোরম এই হোটেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে দেখে মুগ্ধ হলাম। মনে হলো এরা আমাদের ভিআইপি মর্যাদা দিচ্ছে, যদিও আমাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রায় কিছুই না। বোঝা গেল এদের কাছে সমবায় অতি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, শিল্প খাতের প্রায় সমতুল্য। শিল্প খাত এ দেশে উৎপাদন করে কিন্তু সমবায়ে রয়েছে কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের উৎপাদন এবং কৃষিসহ অনেক শিল্পপণ্যের বিতরণ ও বিক্রয়ব্যবস্থা। সমবায়ের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং ভূমিকার সঙ্গে আমাদের প্রায় মুমূর্ষু সমবায় খাতের তুলনাই হয় না। বাকশাল বিলুপ্তির পর গ্রামের সব কৃষিজমি বাধ্যতামূলক সমবায়ের অধীনে আনার যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল তার পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা সুদূরপরাহত, এ কথা এরা যে জানে না তা নয়। বাংলাদেশে সমবায়সংক্রান্ত এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও এরা নিয়মমাফিক আমাদের রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ করে, এমন ভিআইপি ট্রিটমেন্ট দিয়ে কী বার্তা দিতে চায় তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। শুধু আমাদের নয়, তৃতীয় বিশ্বের অন্য সব দেশের সমবায়ীদের সংগঠনে জড়িত কর্মকর্তা এবং নেতাদের তারা যে একইভাবে নিজেদের খরচে আমন্ত্রণ জানায়, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায়। এর ওপর রয়েছে নন-এলাইন্ড দেশের নেতা এবং সব দেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কেউকেটা, যাদের সব প্রয়োজন মেটানোর জন্য মোটা অঙ্কের বরাদ্দ রয়েছে বাজেটে বলে শুনেছি। বিপুলসংখ্যক বিদেশি ছাত্র যে বৃত্তি নিয়ে এ দেশে আসছে সে তো এখানে আসার সময় নিজের চোখেই দেখলাম।
আমার এই দীর্ঘ চিন্তাভাবনা হোটেল ইউক্রেনার চোখধাঁধানো আকার-প্রকার দেখার পর সূত্রপাত হলেও বিষয়টা অর্থাৎ এসব ব্যয়ভার বহনের কথা আমার মনে যাত্রার আগেই হয়েছিল যখন আমন্ত্রণপত্র পাই। ঠান্ডা যুদ্ধে বাধ্য হয়ে জড়িয়ে না পড়লে ব্যয় সংকোচ করে সোভিয়েত রাশিয়া খুব স্বচ্ছন্দে নিজ দেশের নাগরিকদের কল্যাণে খরচ করতে পারত। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হতো সামরিক অস্ত্রের স্টকপাইলিং করা থেকে অব্যাহতি, তাহলে এই দেশের উন্নতি যে কোথায় যেতে পারত তা ভাবাই যায় না। আমি সোভিয়েত রাশিয়ার মাটিতে পা দিয়েই তার সপক্ষে যে এসব ভাবছি, তার পেছনে দেশটির জন্য অন্ধ সমর্থন নয়, তার বিপন্নতার পরিধি কত বিস্তৃত এবং গভীর, তা বোঝার প্রয়াস বলা যেতে পারে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাফল্য এবং ব্যর্থতা বুঝতে হলে এই চিন্তা উপেক্ষা বা খাটো করে দেখার উপায় নেই। [ক্রমশ]
গাড়ি থেকে নেমে ইউরি হোটেল ইউক্রেনার ফ্যাসাডের দিকে তাকিয়ে সহাস্যে বলল, হিয়ার শি ইজ। ওয়ান অব দ্য সেভেন সিস্টারস। বাট সি ইজ দি এল্ডেস্ট।
তার স্বরে গর্ববোধ এবং তৃপ্তি। আমি মাথা উঁচু করে ক্রমে সরু হয়ে আসা দৃষ্টিনন্দন সোভিয়েত গথিক সৌন্দর্যের নিদর্শন ঈষৎ গৈরিক রঙের ভবনটি দেখতে দেখতে বললাম, ইট ইজ ভেরি ইম্পোজিং। হোটেল নয় যেন মনুমেন্ট।
ইউরি বলল, ইয়েস। ইট ইজ মনুমেন্টাল।
আমি তার ইংরেজি শুনে চমৎকৃত হলাম। হয়তো অনেকবার ব্যবহার করেছে অতিথিদের এখানে নিয়ে আসার পর। কিন্তু প্রথমবার ব্যবহারের আগে তাকে শব্দটি অর্থসহ শিখতে হয়েছে। বহুল চর্চার জন্য তাকে সেই কৃতিত্ব থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
আমি ওপরে ভবনের চূড়ায় মস্ত বড় সোভিয়েত স্টার এবং নিচে মাঝ বরাবর দেয়ালে খোদিত কাস্তে ও হাতুড়ি দেখার পর বললাম, হ্যাঁ। এই স্কাইস্ক্রেপার তোমাদের নিজস্ব শৈলীর। অন্য দেশের মতো নয়।
একটু পর বিশাল এন্ট্রান্স পার হয়ে মেইন লাউঞ্জে প্রবেশ করলাম আমরা সবাই। ইউনিফর্ম পরিহিত বেলবয় চাইকা গাড়ি থেকে আমাদের সুটকেস নামিয়ে ট্রলিতে উঠাচ্ছে। সকালের সূর্যের আলো থেকে ভেতরে ঢুকলেও চোখ বেশ ধাঁধিয়ে গেল উজ্জ্বল আলোয়। তাকিয়ে দেখি অলংকৃত সিলিং থেকে ঝুলছে বিশাল আকারের তিনটি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি। মেঝেতে কার্পেট নেই, তার স্থানে রয়েছে বাদামি রঙের মসৃণ কাঠের ফ্লোর, যেন বল নাচের জন্য তৈরি। লবির দেয়ালে কয়েকটি ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি। একটি মা ও শিশুসন্তানের, নিচে পেতলে লেখা ‘মাদার’। দ্বিতীয় ব্রোঞ্জ মূর্তির নিচে লেখা ‘কুইন অব দ্য ফিল্ডস’। প্রথম স্ট্যাচুটি স্বয়ংব্যাখ্যিক, দ্বিতীয়টি ওয়াকিবহাল যারা, তারাই জানে।
আমি লবির প্রায় নিরাভরণ কৃচ্ছের প্রতীক ডেকর দেখছি আর ভাবছি এমন মনুমেন্টাল ভবনের প্রবেশপথে মেইন লবির এই নিরহংকার সাদামাটা (ঝাড়বাতিগুলো ছাড়া) অভ্যর্থনা কী বার্তা বহন করছে, এ সময় পেছনে উঁচু কণ্ঠের স্বর শুনে ফিরে তাকাতে দেখি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সিকিউরিটি বেলবয়কে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমাদের সুটকেসগুলো দেখিয়ে কী যেন বলছে সে।
ইউরির সঙ্গে আমরাও ত্বরায় অকুস্থানে গেলাম। বেলবয় ইউরিকে কিছু বলার পর ইউরি ধমক দেওয়ার মতো স্বরে সিকিউরিটিকে বলল, ‘সেন্ট্রোসিউজ’।
সাপের ফণার মতো সিকিউরিটি গার্ডের মাথা নত হয়ে এলো সঙ্গে সঙ্গে। বেলবয় বিজয়ীর বেশে লবিতে প্রবেশ করল ট্রলি নিয়ে। জানতে পারলাম সিকিউরিটি আমাদের সুটকেস খুলে দেখাতে বলছিল।
আমি বললাম, কেন, সুটকেস খুলতে হবে কেন?
ইউরি বলল, দেখতে চায় নিষিদ্ধ কিছু আছে কিনা।
আমি বললাম, বেশ তো, খুলে দেখাতে পারতাম। সিকিউরিটি তার ডিউটি করছে।
ইউরি গম্ভীর স্বরে বলল, তোমরা সেন্ট্রোসিউজের গেস্ট। তোমাদের সুটকেস খোলা যায় না। দেখলে না এয়ারপোর্টে কাস্টমসকে বলার পর খোলেনি।
বুঝলাম এ দেশেও বিধিমালা সবার জন্য না। একটা শ্রেণির জন্য শর্টকাট রয়েছে।
রিসেপসনে নাম-ঠিকানা লেখার পর রুমের চাবি পেলাম। দেখলাম আমার রুম বারো তলায়। আমি মনে মনে বললাম, আহা! জানালা দিয়ে যেন মস্কো নদী দেখতে পাই।
ইউরি বলল, তোমরা রুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিচের রেস্তোরাঁয় ব্রেকফাস্ট করে রেস্ট নাও। সারারাত ট্রাভেল করেছ। মাঝপথে দু’বার প্লেন নিচে নেমেছে। নিশ্চয়ই ঘুমাতে পারনি। এখন একটু ঘুমিয়ে নাও। দুপুরে লাঞ্চ এখানেই করবে তোমরা। বিলে রুম নম্বর দিয়ে সই করলেই চলবে। তারপর তোমাদের মস্কো শহর দেখাতে নিয়ে যাবে ইনট্যুরিস্টস গাইড।
হোসেন সাহেব বললেন, তুমি আসবে না?
ইউরি বলল, না। আমি কাল সকালে আসব। তোমাদের নিয়ে যাব লেনিন মসোলিয়ামে। সেখানে ফ্লোরাল রিথ দেবে তোমরা। তাঁর সংরক্ষিত বডিও দেখবে ভেতরে ঢুকে। সবার জন্য অবশ্য ভেতরটা খোলা হয় না। তোমরা ভিআইপি গেস্ট।
আমি বললাম, আমরা ফ্লোরাল রিথ পাব কোথায়?
ইউরি বলল, সেটা নিয়ে ভেবো না। সব ব্যবস্থা হবে। তারপর কী মনে করতে পেরে বলল, দোতলায় ডলার শপ আছে। ইচ্ছে করলে কেনাকাটা করতে পার। নিয়ম হলো, বিদেশিরা আসার পর যত ডলার খরচ করে পাসপোর্টে তা লিখে রাখবে। এয়ারপোর্টে যাবার সময় আগের ডিক্লারেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে কাস্টমস। কিন্তু তোমাদের কিছু লিখতে হবে না, কেননা এরাইভালের সময় তোমাদের পাসপোর্টে লেখা হয়নি কত ডলার নিয়ে এসেছ। তোমাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হয়েছে, কেননা তোমরা ভিআইপি। সেন্ট্রোসিউজের অতিথি।

আরও পড়ুন

×