কবিতায় আমি বারবার ছুটে যাই ইমেজের জানালায়্তইশারালিখনের দরজায়! কোভিড পীড়িত এই মারিকালেও আমি কড়া নেড়ে চলি বাগ্‌দেবীর দরজায়্তহেঁটে যাই চিত্রকল্পের চকমকি চুল্লির ভিতর! সদ্যলেখা এই কবিতাগুলোত্তেভিন্ন এক স্বর ও সুরের খোঁজ্তেফেলে দেয়া ভাঁজপত্র খুলে জড়ো করেছি দ্যুতিময় শব্দরাশি! দূরের কানাড়া শুনে আবারও ছুটে গিয়েছি কোনো ভায়োলিন বেজে ওঠা সরাইখানায়! সঙ্গনিরোধ এই দুঃসময়ে আমি আবারও বুঝে নিয়েছি কবিতা এক ছিমছাম টংঘর, ছায়া ও ছাতিমতলা ঘেরা এক আরাধ্য আশ্রম! কবিতা এক ঝিম গানঘর, কোরক ভেজানো কোনো ঘুম সরোবর!
হাওয়ায় হারানো ভায়োলিন
হাওয়ায় উড়ছে কেবল হাহার্কাতবুক ঝিম ছড়ানো সন্ধ্যায়্তভ্রমর ও ভাঁজপত্র খুলে উঠে আসছে যত বিষাদের স্বর!
পাতাঝরা সুরের ডেরায় বেজে ওঠে দূরের কানাড়া্তকেয়া ও কামিনী বনে হেঁটে যায় এক পীতাভ ময়ূর!
আর আমি তোমার চকমকি স্যান্ডেলের ছোঁয়া পেতে ছুটে যাই কোনো শ্বেতধোঁয়া স্নানর্ঘতেকোরক ভেজানো সরোর্বতেভায়োলিন বেজে ওঠা সরাইখানায়!
দ্যাখো আমি ভায়োলিন বাজাতে বাজাতে কখন যে শুধু ভালোবাসা খুঁজে ফিরেছি! আবার ভালোবাসা খুঁজতে খুঁজতে কখন যে শুধু ভায়োলিন বাজিয়ে চলেছি!
আমি বহু দেশ ঘুরে বুঝেছি বণিকদের নিয়মগুলো সব এক্তএকই রীতিতে তারা চকচকে মুদ্রা ছুড়ে মারে! আবার রাতের গণিকাদের নিয়মও সব এক্তএকই কৌশলে তারা বিকিনির হুক খোলে!
আমি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছ্তিআমার ভায়োলিনও হারিয়ে গেছে!
কোভিড, কদম ও প্রেম
এ বর্ষায় কদম ফুলের সাথে সুগন্ধি রুমাল নিয়ে বসে আছি! হাওয়ায় ভেসে আসছে শুধু হাহার্কাতজলের রোদনে ভিজে যাচ্ছে চারির্ধাতআর আমি বৃষ্টিতে ভিজছি একা্তবসে আছি যেন মাস্কপরা আকাশের নিচে! রিকশায় আঁকা প্রজাপতি, উড়ে আসা ভাঁটফুল, পুরনো রেডিও গান বেজে চলা চায়ের টংঘর আমাকে জানিয়ে দিচ্ছে তুমিও ভিজছ খুব রাস্তায়, আসছ আমার দিক্তেভিজে যাচ্ছ জমাট বর্ষায়! এ করোনাধারা জলে বাগ্‌দেবী মনে হয় লুকিয়ে রয়েছে কোনো কোভিড ডেরায়! সোনালি দস্তানা পরা হাতে তুমি ভিজে যাচ্ছ্ততোমার শাড়িতে ছাপা আছে এক কেয়াবন যার মাঝে নেচে যাচ্ছে এক নিঝুম ময়ূরী! এ বর্ষায় কদম ফুলের ঘ্রাণ না হলেও আজ এসো; না হয় তোমার কাছ থেকে কিছুটা দূরেই বসে থাকব, হাত দুটোও গুটিয়ে রেখে বসে থাকব! শোনো, কীভাবে দূরত্ব বজায় রেখে পাশাপাশি বসে থাকতে হয় এ লকডাউনে আমি দিনরাত সেই প্র্যাকটিসই করেছি! এ বর্ষায় তবু আজ প্রেম হোক; সীমিত আকারে হলেও তা হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলেও তা হোক!

টংঘর কবিতা-১
এই দূর ধূলিপথ্তেছায়া ও ছাতিমতলা পার হয়ে্ত
আমাকে ডাকছে শুধু
চায়ের টংঘর, ডাহুকের মৃদু স্বর, হুইসেলে জংশনের সুর!
টংঘর কবিতা-২
দ্যাখো ছাতিমতলায় কোনো লকডাউন নেই্ত
ছায়া এসে গান গায় পথিকের ধূলিচেরা মনে!

ও হাওয়া
ও হাওয়া্ত
তবে কি এটা স্বপ্ন থেকেই পাওয়া?
হালকা রথে তোমার কাছে যাওয়া!
আমার শুধু শুকনো পাতা ধাওয়া্ত
রাতপহরে রূপার তরী বাওয়া!

ও হাওয়া্ত
বুঝিবা এটা ভ্রান্তি থেকেই পাওয়া?
হিজল পাতা বরষা জলে নাওয়া!
ছাতিম কাঠে নীল ময়ূরীর মায়া্ত
শাওন দিনে আলতো এ গান গাওয়া!
ও হাওয়া্ত
বলছ এটা গল্প থেকেই পাওয়া?
হাতটি তাহার অল্প ধরতে চাওয়া!
কাঠের বাসর গোলপাতাতে ছাওয়া্ত
বাদল দিনে তাহার কাছে যাওয়া!

বিষয় : চিত্রকল্পের চুল্লির ভিতর

মন্তব্য করুন