পর্ব-২

পূর্বে প্রকাশিতের পর

বাংলাদেশের একাত্তরসহ প্রায় সব আন্দোলন-সংগ্রামের দিকে তাকালেই দেখা যায় যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির নেতৃত্বেই আন্দোলনগুলো হয়েছে; শক্তিটা এসেছে কৃষক শ্রেণির কাছ থেকে। আর দুটি শ্রেণি যৌথভাবে যখন সংগ্রাম করে, তখন তারা সফল হয়।
১৭৯৩ সালের পর বাঙালি মধ্যবিত্ত হিন্দু শ্রেণি চলে যায় ইংরেজদের পক্ষে। যেহেতু তারা উপনিবেশকালের প্রথম একশ বছর ছিল সবচেয়ে সুবিধাভোগী শ্রেণি, তাই হিন্দু কৃষক শ্রেণির ব্যাপারে তাদের আগ্রহ ছিল না। জমিদার তো আর প্রজার জন্য আন্দোলন করতে পারে না। অতএব হিন্দু কৃষক শ্রেণি একেবারেই নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ল। বাঙালি হিন্দু কৃষক শ্রেণির এই বোঝাটা তাদের সবচেয়ে প্রতিবাদহীন নির্যাতিত গোষ্ঠীতে পরিণত করে। ১৯৭১ সালে সেই কারণেই তারা ছিল সবচেয়ে নির্যাতিত। কিন্তু যারা জমিদার হলো তাদের তো জমিদারি চালানোর পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। জমিদারি কীভাবে চালাতে হয় বা চালাতে হলে কী কী করতে হয় তারা তা জানত না। তাদের হাতে কিছু ছিল উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া টাকা আর বেশিরভাগই ব্যবসার টাকা- সেসবের ওপর ভিত্তি করেই জমিদারি কেনে তারা। কিন্তু জমির খাজনা আদায় করার দক্ষতা ছিল না তাদের। ইংরেজরা তাদের গ্রামের কৃষকদের থেকে খাজনা আদায়ের জন্য বহু আইন ও সুবিধা দিয়েছিল, যার সবই ছিল নির্যাতনমূলক। তার পরেও সে সক্ষম হয়নি। মূলত জমিদারি ব্যবস্থা থেকে ইংরেজদের হাতে তেমন কিছুই আসছিল না। তখন ১৮১১ সালে ইংরেজরা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে ইংরেজরা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপরে কিছুটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আর মধ্যস্বত্বভোগীরা যেহেতু কলকাতাকেন্দ্রিক ছিল না, গ্রামে তাদের ক্ষমতার বলয় অনেক বড় আকার ধারণ করল। তারা ইংরেজদেরও জানত, কৃষকদেরও জানত। তাই তাদের পক্ষে ঐতিহাসিকভাবে সবল হওয়াটা অনেক বেশি সহজ হয়ে গিয়েছিল।
যে শ্রেণি জমিদারি কিনেছিল, অর্থাৎ কলকাতাকেন্দ্রিক বাবু সমাজ- তারা মূলত চাকরি, ওকালতি এসব ব্যাপারে বেশি আগ্রহী ছিল। অর্থাৎ তারা ছিল শিক্ষিত মানুষ। ইংরেজরা যখন বঙ্গ দখল করে, তখন শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত মুসলমান ছিলই না প্রায়। মধ্যস্বত্বভোগের মাধ্যমে তাদের একটি অংশ শিক্ষিত হয়ে উঠল এবং চাকরি-ওকালতির দিকে যাত্রা শুরু করল। যখন তারা চাকরি ও নাগরিক সুবিধা চাইতে শুরু করল, তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল প্রতিষ্ঠিত এলিট শ্রেণি, অর্থাৎ বাঙালি হিন্দুরা। এই সুবিধার অবস্থান থেকে বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। ১৮৫৭ সালের কাছাকাছি এসে এটা খুব পরিস্কার যে, গ্রামে যেমন বিদ্রোহ চলছে, শহরে তেমন চলছে চাকরি করার আন্দোলন। বাঙালি মুসলমান সমাজের সুবিধাটা ছিল মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে গ্রামের কৃষক ও ইংরেজদের সঙ্গে তার অধিক যোগাযোগ। তাই তার পক্ষে চাপ প্রয়োগ করাটা সহজ ছিল। অন্যদিকে ইংরেজরা জানত যে, দুই মধ্যবিত্ত শ্রেণি তার ওপরে নির্ভরশীল, কিন্তু কৃষক নয়। অতএব, ইংরেজদের নীতি একক ছিল না কোনো অবস্থাতেই। একেক গোষ্ঠীর সঙ্গে একেক নীতি গ্রহণ করেছে সে নিজের সুবিধার জন্য।

১৮৫৭ সালে যখন সিপাহি বিদ্রোহ হয়, সেখানে কৃষকরা ছিল অন্যতম বড় শক্তি- কিন্তু এ ক্ষেত্রে কৃষকদের ভূমিকার কথা খুব একটা বলতে শোনা যায় না; সবাই বলে ঝাঁসির রানী, বাহাদুর শাহ জাফর ইত্যাদির কথা; অর্থাৎ অভিজাত শ্রেণির কথা। কিন্তু তারা তো কোনো ক্ষমতায় ছিল না! সিপাহিরা তো মূলত কৃষক শ্রেণি থেকে আসা মানুষ। সেই কৃষকদের কথা কেউ বলে না। খুব যত্নের সাথে আমরা সাধারণ মানুষের ভূমিকাকে এড়িয়ে যাই বা তাদের আলাদা করে রাখতে চাই। মধ্যবিত্ত এমনকি উচ্চবিত্তকেও আমরা সুযোগ দিতে রাজি আছি, কিন্তু নিম্ন শ্রেণি বা প্রান্তিক মানুষদের কোনোরকম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে আমরা রাজি থাকি না।
তবে ইংরেজরা কৃষকদের উন্নতির জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল; নানারকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল নিজেদের টিকে থাকার সুবিধার্থে। কারণ কৃষকদের নিয়ে ইংরেজদের দুশ্চিন্তা ছিল সব সময়ই। ইংরেজরা বলত, 'আমরা জমিদারদের অস্বীকার করতে পারব না, তারা তো আমাদের বন্ধু। কিন্তু এই কৃষকদের নিয়ে কী করি, এরা তো আমাদের সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দেয়।' কথাটা বলেছিল ইংরেজ স্যার চার্লস মেটকাফ। কিন্তু বাংলার কৃষকদের নিয়ে এই যে বাস্তবতাটা আমাদের দেশের ইতিহাস চর্চায় তেমন দেখা হয় না। আমাদের ইতিহাসের নির্মাণটা হয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ইতিহাসের ভাবনাধারায়। তাকে ধরেই আমরা এগোচ্ছি।
বঙ্গভঙ্গ হলো ১৯০৫ সালে। পূর্ববঙ্গের মানুষ এর পক্ষে ছিল। ইংরেজরা যেটা করেছে- প্রথমত কলকাতাভিত্তিক যে শ্রেণিটা ছিল, তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। দ্বিতীয়ত, এদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ঢাকাভিত্তিক একটি নতুন শ্রেণিকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এবং তৃতীয়ত, কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যেহেতু তারা জানত কৃষকরা একটি জঙ্গি শ্রেণি, যাদের মোকাবিলা করতে ইংরেজদের সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয়।
পূর্ববঙ্গের মানুষ বিশেষ করে কৃষক শ্রেণি একটি আগামী রাষ্ট্রের চেহারা প্রথম দেখতে পায় এই বঙ্গভঙ্গের সময়। মূলত ১৯০৫ সাল এ জন্যই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটাই বাংলাদেশের চেহারা। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রেও প্রথম দলিলটা কিন্তু পূর্ববঙ্গের, অর্থাৎ কীভাবে পূর্ববঙ্গ সৃষ্টি হলো, সেটি নিয়ে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রধান ইতিহাসবিদরাও তখন ঐতিহাসিকভাবে স্বীকার করছেন যে, এই দেশের সূত্র যদি ধরতে যাই, তাহলে পূর্ববঙ্গের সূত্রকে ধরতে হবে। ভৌগোলিকভাবে সেখানে দেখানো হচ্ছে যে, এই হচ্ছে তোমার দেশ। আর সেই চেহারাট মূলত ১৯০৫ সালে সৃষ্টি। তবে ইংরেজরা যে বিষয়টা ধরতে পারেনি তা হালো, কলকাতার মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে যাদের আমরা 'স্বদেশি' বলি তারা কতটা সবল ছিল? বাস্তবে তারা অত্যন্ত শক্তিসম্পন্নই ছিল; এবং ১৯১১ সালে তারা এই বঙ্গভঙ্গকে সত্যি ঘুরিয়ে দেয়। তারা বঙ্গভঙ্গ রদ করল, যথেষ্ট আনন্দও হলো; কিন্তু এরপরে কলকাতার প্রতিষ্ঠিত মধ্যবিত্ত আর ঢাকার উঠতি মধ্যবিত্তের মধ্যে কোনোদিন এক হওয়া হলো না; সে সম্ভাবনাও ছিল না। সম্ভাবনা যে ছিল না- এ ব্যাপারটা আগেই পরিস্কার হয়েছিল। ১৯১১ সালের পরেই সে সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ দুই মধ্যবিত্ত আর একসাথে হয়নি কখনও। ১৯২৩ সালে যখন বেঙ্গল প্যাক্টের মাধ্যমে মুসলমান বাঙালি মধ্যবিত্তদের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করলেন- হিন্দু বাঙালি মধ্যবিত্ত সেটিকে প্রতিরোধ করল এবং ভেঙে দিল। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৭ সালে প্রথম নির্বাচন হলো। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী তখন বাঙালি মুসলমানরাই। স্বাভাবিকভাবে তাদের দলই তো জিতবে। এই যে সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকার ও ক্ষমতা- এ ব্যাপারটি তখন প্রমাণিত হয়ে গেছে ১৯৩৭ সালের এই নির্বাচনে। এতদিন সংখ্যালঘুরা এ অধিকারকে নানাভাবে ঠেকাতে চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর আর সেটি সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা
পাকিস্তানের মধ্যেও সংখ্যাগরিষ্ঠকে অস্বীকার করার প্রবণতা ছিল প্রবল। কংগ্রেসের রাজনীতির মধ্যেও সেটি প্রবল ছিল। পরে ১৯৪৭ সালের পরে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের রাজনীতিতেও সেটিই প্রধান ছিল। অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের মানুষকে অস্বীকার করার রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক এই প্রবণতাটি কিন্তু ধারাবাহিকভাবেই চলে এসেছে। এভাবে দেখলেই বিষয়টা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে যায়।

১৯৪৯ সালের পরে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ একদিন আওয়ামী মুসলিম লীগ হয়ে গেল। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এটি পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর দল। অর্থাৎ সবাই গণহারে একই দলে যোগদান করল অথবা দলের সাইনবোর্ডটা শুধু পাল্টাল, মানুষ ও রাজনীতি একই রয়ে গেল। ধারাবাহিকতার ব্যাপারটা এখানেই।
আমাদের দেশের ইতিহাসবিদরা যেটা করেন, তা হলো- এটাকে পাকিস্তান করেন, এটাকে মুসলিম লীগ করেন, এটাকে আওয়ামী লীগ করেন। ধারাবাহিকতার দিক থেকে দেখতে গেলে পাকিস্তানও ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে, ভারতও ধারাবহিকভাবে চলে আসছে এবং আমরাও ধারাবাহিকভাবে চলে আসছি। আমরা এই দুটির অংশ নই এবং দুটির সাথেই বৈরী সম্পর্ক রয়েছে আমাদের। আমরা পাকিস্তানকে খারাপ বলতে গিয়ে ভারতের ভাবনাকে ভালো বলি অনেক সময়। পাকিস্তানকে গালি দিতে গেলে মনে করি ভারতীয়দের যে যুক্তিচর্চা আছে সেটিই ঠিক। আমরা পাকিস্তানকে সাম্প্রদায়িক বলি। কিন্তু কলকাতাও তো সমান সাম্প্রদায়িক। তারা যদি সাম্প্রদায়িক না হতো তাহলে দখল করল কেন বঙ্গকে? সাম্প্রদায়িক যদি না হতো, তাহলে কৃষক যেটা চেয়েছিল সেটাকে বন্ধ করল কেন কলকাতার মানুষ? সাম্প্রদায়িক যদি না হতো, তাহলে কেন ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্টকে অস্বীকার করল তারা? সাম্প্রদায়িক কে নয়। আসলে সাম্প্রদায়িকতার সূত্র হচ্ছে সুবিধা অর্জন বা রক্ষা করা। আমি মনে করি যেকোনো জনগোষ্ঠী নিজের সুবিধার জন্যই রাজনীতি করে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। আর যদি একজনকে অস্বীকার করে, আরেকজন বেশি সুবিধা নেয়, একসময় তার প্রতিবাদ হবেই। সেই প্রতিবাদ একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে তখন সংঘর্ষ হবে। আমাদেরও তাই হয়েছে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
এই তারিখগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পরেই ১৯৪০ সালে পাকিস্তান প্রস্তাব হলো। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের পরেই দুটি আলাদা পাকিস্তান ভেঙে একটি পাকিস্তান করার প্রস্তাব করা হলো। এবং ১৯৪৭ সালে যৌথ বাংলা আন্দোলন হয়েছিল। কংগ্রেস প্রথমে যাতে সমর্থন দিয়েছিল; এমনকি জিন্নাহ এটাকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস আবার এর বিরোধিতা করে এবং ভেঙে দেয়। বিষয়টা দেখা যাচ্ছে যে, জিন্নাহর পাকিস্তানের প্রতি এমন কোনো প্রীতি ছিল না; বরং নিজের জন্য সে মূলত একটা আলাদা জায়গা দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। তার যদি পাকিস্তানের প্রতি এত নীতিগত প্রীতিই থাকত এবং পাকিস্তান যদি একটা নৈতিক নির্মাণ হতো- তাহলে কেন সে রাজি হবে কংগ্রেসের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা দেশ হিসেবে দেখার প্রস্তাবে? এর কারণ হচ্ছে জিন্নাহর অসততা। জিন্নাহ একাধিকবারই এই অসততার প্রমাণ রেখেছেন। আর তাই তার পাকিস্তানকে অসৎ রাষ্ট্র বা বিভ্রান্ত রাষ্ট্র যেটাই বলি- এটা রাষ্ট্র হিসেবে টেকেনি।

১৯৪৭ সালে যখন যৌথ বাংলা আন্দোলন ভাঙল, সেই ভাঙনে সবচেয়ে বেশি চাপ এসেছিল নেহরুর কাছ থেকে। নেহরু চাননি এটা আলাদা হয়ে যাক। নেহরু চাননি বাঙালির আলাদা রাষ্ট্র হোক। কিন্তু এটা তো অস্বীকার করা যায় না যে, বাঙালির গোটা বাংলা রাষ্ট্রের উদ্যোগ একবারই নেওয়া হয়েছিল- বঙ্গীয় কংগ্রেসই প্রস্তাব করে সেটিকে ভাঙে। এবং তাদের ওপরে সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল নেহরুর।
ইনার গ্রুপ ও স্বাধীন বাংলাদেশ
যখন যৌথ বাংলা আন্দোলনটা ভেঙে গেল, তখন বঙ্গীয় মুসলিম লীগের তরুণ কর্মীরা আলাদা একটা দল করল। গোপন সেই দল 'ইনার গ্রুপ' নামে কাজ শুরু করে। তার প্রধান ছিলেন মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরী। এই মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি আমাকে একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'আমরা কোনোদিন এই পাকিস্তান-ইন্ডিয়া কোনোটার সঙ্গে থাকতে চাইনি।' তারা ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের অনেক আগেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তাহলে আপনারা কাকে নেতা হিসেবে ভেবেছিলেন? তখন তিনি বলেছিলেন- 'আমরা ভাবতাম, এরকম একটা রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারেন একজনমাত্র ব্যক্তি। যিনি হচ্ছেন গোপালগঞ্জের সেই লম্বা লোকটা।' অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমান। [ক্রমশ]

মন্তব্য করুন