মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যায়।
তার কেবিনের দরজার কপাটে লেখা। সে লেখেনি। তার আগে কেবিনে এক কবি লোক ছিল। সেই কবি লোকের লেখা হয়তো। জীবনানন্দ দাশের কবিতার পঙ্‌ক্তি। দরজার কপাট কাঠের। না রং করা, না বার্নিশ। তবে তাতে ভালো হয়েছে। ফুটে আছে কবি লোকের দারুণ হস্তাক্ষর। রেড মার্কার দিয়ে লিখেছে। কত বছর আগে? কাঠের রঙের সঙ্গে এতদিনে সিজনড হয়ে গেছে রংটা।
মুশকিল হলো এখন সেরকম ঘটছে না। মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যাচ্ছে না। এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপে পৃথিবীর মানবগণ মরে যাচ্ছেন এবং মানুষ থেকে যাচ্ছে। অগণন মানুষ। আপাতত থেকে যাচ্ছে বলে তারা মনে করছে তারা মরবে না, অমরত্ব পেয়ে গেছে। দমে দমে করি জিকির/রং তামাশার নিত্য ফিকির- এই হলো তাদের অবস্থা। সব মরবে।
তাতে তোর কী? সব মরলে তুইও মরবি। বিরক্ত হলো সে। প্যাঁচা হলো, চোখ মটকালো। হুত্‌-তুম! নিজের চরকায় তেল দে ভাইটি। চিন্তা করে আবার সংশোধনী আনল। চরকা সে জন্মে দেখেনি। ফুয়েল ট্যাংক দেখেছে। তার কিছু বন্ধুর মোটরবাইক আছে। ফুয়েল ট্যাংকে তেল দিতে হয়। অকটেন। হুত্‌-তুম! নিজের ফুয়েল ট্যাংকে অকটেন দে ভাইটি।
এখন দুপুর। আকাশ নীল এবং চনমনে রোদ। কটা বাজে সে বলতে পারবে না। জোহরের আজান হয়ে গেছে হয়তো। সদ্য সে দয়া করে ঘুম থেকে উঠেছে। তার হিসাবে পুনর্জন্ম নিয়েছে। এই জন্মে মনে করেছিল দাঁড়কাক হয়ে জন্মাবে। তা হয়নি। এর আগের জন্মে মনে করেছিল ঝিঁঝিঁ পোকা হয়ে জন্মাবে। তাও হয়নি। তবে কি এরকম হতে পারে যে এক জন্মেই সে বার বার ফিরছে?
হতে পারে।
তাতে কী?
সে কে?
সি. বি. আবদুল্লাহ?
জনৈক আইজউদ্দিন?
বা. বা. হরিদাস পাল?
না। তার এখন মনে হলো সে আলেক্সান্দার সেলকার্ক।
এরকম একেক সময় নিজেকে একেকজন মনে হয় তার। কখনো 'ফরেস্ট গাম্প' ছবির ফরেস্ট গাম্প মনে হয়, কখনো চটি বইয়ের লেখক মনে হয়। করোনাজনিত বিষাদের দিন তাতেও কাটে না। গণবিষাদ। সেই বিষাদে আলেক্সান্দার সেলকার্ক হলো সে?
আলেক্সান্দার সেলকার্ক একজন নাবিক। নির্জনের এক দ্বীপে আটকা পড়ে মানুষটা একা থেকেছিল বহুদিন। কবি আলেক্সান্দার পোপ তাকে নিয়ে 'দ্য সলিটিউড' কবিতা লিখেছিলেন।
ও সলিটিউড! হোয়ার আর দ্য চার্মস
দ্যাট গড সিন ইন দাই ফেইস-।
সলিটিউড। নির্জনতা। দরকার। নৈঃশব্দ্য। দরকার।
খ্যাতা পুড়ি এইসব দরকারের।
কোভিড-১৯ আমাদের দিন রাত্রিকে আধা-পরাবাস্তব বানিয়ে দিয়েছে। দুর!
সে কি ভ্যাকসিন নিয়েছে?
অবশ্যই। অনলাইনে নিবন্ধন করে নিয়েছে।
চমৎকার ব্যবস্থা। নিবন্ধন করে ফ্রিজার থেকে নিয়ে ঠান্ডা এক গ্লাস পানি খেতে খেতে দেখে মোবাইল ফোনে বার্তা এসে গেছে।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন
নিবন্ধন : আপনার OTP
কোড- এত এত এত, ধন্যবাদ।
দুই মিনিট পর দ্বিতীয় বার্তা :
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন : অমুক
প্রথম ডোজ গ্রহণের
তারিখ :১৭-০২-২০২১
কেন্দ্র : ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল (টিকা কার্ড ও ঘওউ অবশ্যই নিয়ে
আসতে হবে)।
অবশ্যই নিয়ে গিয়েছিল সে।
চমৎকার ব্যবস্থা। ইনজেকশন ভীতি নেই তার মোটে। ভয় পায়নি। তবে এও ভাবেনি যে টিকা নিতে এত কম সময় লাগবে। মাত্র আট-দশ মিনিট। ১৭ই ফেব্রুয়ারি একটা দারুণ দিন ছিল। কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন। ফিকশন রাইটার সুফি পান্থ আর সে ঘুরেছে সারাদিন। টিএসসির দেয়ালে বসে রিদয় মিয়ার দোকান থেকে তারা দুই কাপ করে গুড়ের চা খেয়েছে। শিবলি মামার সঙ্গে দেখা করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে গেছে এবং চিত্রকর্ম প্রদর্শনী দেখতে শিল্পকলা একাডেমিতে গেছে। ফিকশন রাইটার সুফি পান্থ রহস্যময় এবং চমৎকার সঙ্গী। লক ডাউনজনিত খানিক নৈঃশব্দ্যে তাকে এই রহস্যময় ব্যক্তিই নিয়ে গিয়েছিল একদিন। রূপ পাল্টে স-বু-জ গহিন উদ্যান। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভেতর এমন নৈঃশব্দ্য তারা আর কখনো পায়নি। না উত্তর, না দক্ষিণে। উদ্যানের ঘাস লতাপাতা গাছ এবং হ্রদের সবুজ নৈঃশব্দ্য। নির্জনতা না।
নির্জনতা এবং নৈঃশব্দ্য এক না। এরকম কিছু যখন সে ভাবে তার মনে পড়ে সেই দূরদর্শী কবি লোককে, দরজার কপাটে জীবনানন্দ দাশের কবিতার পঙ্‌ক্তি লিখে এই কেবিন ছেড়ে চলে গেছে যে। কবি লোকের পর সে মহা এক অ-কবি লোক। বর্তমান আলেক্সান্দার সেলকার্ক।
আট বছর ধরে সে আছে এই কেবিনে। কেবিন বলতে চিলেকোঠা। চারতলা, পুরোনো এবং হলুদ রং করা এক বিল্ডিংয়ের ছাদে। পুরান ঢাকার তনুগঞ্জ বাইলেনে অবস্থিত এই বিল্ডিং এক বই বাইন্ডিং কারখানার মালিকের। আলেক্সান্দার সেলকার্ক তাকে ডাকে মামা। তিন মাসের ভাড়া এক মাসে দেয়। রেকর্ড আট মাসের ভাড়া। মামা কটু কথা কখনো বলেননি। বলেন না। কেন সেটা আলেক্সান্দার সেলকার্কও বহুদিন বলতে পারত না। মহল্লার এর তার থেকে ক্রমে শুনেছে। মামার অকালমৃত ছেলে শাফাত। আলেক্সান্দার সেলকার্কের মতো ছিল সে দেখতে। হেরোইন ধরে মরেছে। মাত্র তেইশ বছর বয়সে। মরে পড়ে ছিল এক রাতের গলিতে। এসব কথা আলেক্সান্দার সেলকার্কের মাথায় মনে হয় পোস্ট করে দেয় সেই কবি লোকটা। না হলে কীভাবে? হে মহাত্মা আলেক্সান্দার দ্য গ্রেট সেলকার্ক? দ্য গ্রেট। এই পর্যায়ে আলেক্সান্দার সেলকার্ক থাকতে তার আর ভালো লাগল না। তবে কে সে? দূর মফস্বলের রবিশঙ্কর হলো। হরিশঙ্কর স্যারের ছেলে রবিশঙ্কর মাস্টার। স্বর্গীয় হরিশঙ্কর সরকারি হাইস্কুলের হেড পণ্ডিত ছিলেন। তার ছেলে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার হয়েছে। আদর্শবান সচ্চরিত্র ব্যক্তি। তবে কৃপণ। এত কৃপণ দেখা যায় না। তার স্কুল বন্ধ বছর হয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ যে এখনও দেশ থেকে যায়নি, তাতে সে বেজার না মোটে। সেটা কোভিড-১৯ এখনো আছে বলে না অবশ্যই, স্কুল বন্ধ হয়ে আছে বলে। বেতন-ভাতা সব ঠিকমতো হচ্ছে। নিশ্চিন্ত খাওয়া, নিশ্চিন্ত ঘুম। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে মুফতে। উপরি জমছে স্কুল যাতায়াতের খরচ।
কী করছে হেডমাস্টার এখন?
ছেলে-মেয়েকে তাদের পিসি নিয়ে গেছে। রবিশঙ্করের দিদি। টাউনেই বিয়ে হয়েছে। চাণক্যপাড়ায় থাকে। নিজের সন্তান-সন্ততি হয়নি, ভাইঝি ভাইপোকে দুই দিন পর পর নিয়ে যায়। চান্স। সুযোগ। রবিশঙ্কর শুয়ে আছে এবং তার বউ সুপ্তি আলনা গোছাচ্ছে। অল্প বৃষ্টি হয়ে গেছে দুপুরে। শীতকালের পর প্রথম বৃষ্টিপাত। আমের বোলের ঘ্রাণ ভিজেছে বৃষ্টিতে। তার রেশ আছে এখনো হাওয়ায়। ব্যাঙ ডাকছে। রবিশংকর বলল, 'শোনো-।'
সুপ্তি বলল, 'কী? কী ধান্দা? কিছু হবে না।'
'ধান্দা না, শোনো।'
'কী? বলো। আমার কাজ আছে।'
রবিশঙ্কর অত্যন্ত সিরিয়াস গলায় বলল, 'না, তোমার ছেলের কথা বলি। সে কি দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহার বংশধর নাকি?'
দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহার নামে হাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে চোখ বিভঙ্গ করে সুপ্তি বলল, 'না। আমার ছেলে কঞ্জুসবীর রবিশংকর চন্ডালের বংশধর। হিঃ হিঃ হিঃ! ক্যান? কী করছে আমার ছেলে? তোমারে আইসক্রিম কিনে দিতে বলছে? চকলেট কিনে দিতে বলছে?'
'না। ছেলে-মেয়েরে এইটা তুমি ভালো শিখাইছো। তারা অখাদ্য কুখাদ্য খায় না।'
সুপ্তি ঠোঁট টিপে হাসল। ছেলে-মেয়ে দুটোর কথা ভেবে। আইসক্রিম, চকলেট তারা খায় না আবার। তাদের নানান বায়না মেটাতে গিয়ে প্রাইভেট টিউটরগিরির রোজগার কিনা অর্ধেকই খরচ হয়ে যায় সুপ্তির। রবিশঙ্কর এই গুপ্ত সংবাদ শুনলে পাথরের মূর্তি হয়ে যেতে পারে। বোকা মাস্টার মশাই। এত সিরিয়াস। কী এমন কথা বলবে ছেলে সম্পর্কে?
রবিশঙ্কর বলল, 'হাসতেছো কেনো? আমি কি হাসির কথা বলছিনি? তোমার ছেলে দেখলাম ফকিররে পট ভর্তি করে চাউল দেয়।'
অ। সুপ্তি খিলখিল করে হাসল, 'ভালো করে, দেয়। ফকিরের পেট নাই? কঞ্জুসের কঞ্জুস। তুমি এই রকম কঞ্জুস ক্যান গো? পাখিরেও দুইটা দানা দেও না।'
'তোমারেও দেই না?'
বলে ঝাপটা দিল রবিশঙ্কর। অব্যর্থ ঝাপটা।
হয়তো কপট বাধা দিল সুপ্তি, 'এই! না! সন্ধ্যার সময়-!'
'সন্ধ্যার সময় কী?'
বলে সুপ্তির বাম কানের লতি কামড়ে দিল রবিশঙ্কর। সন্ধ্যাটা হিসহিসে একটা রহস্যময় সন্ধ্যা হয়ে গেল। প্রাইভেট টাইম। কোয়ালিটি টাইম। এই সময় রবিশঙ্কর হয়ে থাকার আর কোনো মানে হয় না। রবিশঙ্কর সুপ্তি উপভোগ করুক।
রবিশঙ্কর থাকল না আর ভূতপূর্ব আলেক্সান্দার সেলকার্ক। পুরান ঢাকার আকাশ থেকে দেখল সন্ধ্যার রং ঝুপঝুপ করে পড়ছে। ঘরদোরে অবস্থান নিচ্ছে, ঘাপটি মারছে রাত। লাইটের সুইচ অন করল আপাতত অনামা সে। টেলিভিশন খুলল। এই চ্যানেল ওই চ্যানেল করে বিশেষ একটা নিউজ চ্যানেলে আটকাল। মহা রূপবতী এক নিউজ প্রেজেন্টার করোনার আপডেট জানাচ্ছে। আশঙ্কার কথা। দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা আবার বাড়ছে। সতেরোশ জন আক্রান্ত ব্যক্তিকে আজ শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছে ছাব্বিশ জন। তাদের মধ্যে একজন মহিলা। কমরেড ইকোর জননী। কমরেড ইকো বিরল একজন মানুষ। সৎ। এজন্য একরোখা কিছু। ফেসবুকে নিশ্চয় অনেকে শোক প্রকাশ করছে তার জননীর মৃত্যু উপলক্ষ্যে। ক্লিশে মাতম। রোজ মানুষ মরছে। চেনাশোনা মানুষ। নাকি মানব?
মানব।
বেকার বেঁচে থেকে যাচ্ছে অগণন মানুষ কেবল।
'নিচ্ছি একটা ছোট্ট সংবাদ বিরতি। ততক্ষণ সঙ্গেই থাকুন।'
কার সঙ্গে থাকবে?
সংবাদ পাঠিকার? বিজ্ঞাপনের?
দুর!
পরের চ্যানেলেও করোনা বুলেটিন। দেশের মাত্র ছয় শতাংশ মানুষ এই ক'দিনে ভ্যাক্সিন নিয়েছে। পরের চ্যানেলে বেদম নৃত্যগীত হচ্ছে। কলকাতার চ্যানেল। বিনোদন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান লাইভ। টালিগঞ্জের নায়ক সোহম এবং নায়িকা নুসরত নাচছে। পরের চ্যানেল অ্যানিমেল প্ল্যানেট। ডলফিন দেখাচ্ছে। টেলিভিশনের সাউন্ড অফ করে আপাতত অনামা সে কিছুক্ষণ ডলফিন দেখল। মহাজ্ঞানী ফরিদুল বলেছে, ডলফিনরাও পূর্বপুরুষ হতে পারে মানুষের। মহাজ্ঞানী বিজ্ঞান পত্রিকায় পড়েছে। মানে কী? মানুষ কখনো ডলফিন ছিল তাহলে?
অকস্মাৎ লোডশেডিং হলো। তল্লাট অন্ধকার। মুহূর্তে অনামা সে কওসর জামিল হলো। সিক্কাটুলির রওশন আরা বোর্ডিংয়ের বাসিন্দা অস্ত্রীক গোস্ট রাইটার কওসর জামিল। ভূত লেখক। অন্যের নামে বই লিখে দেয়। এটা তার পেশা। বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে একটা নিজের লেখা বই প্রকাশ করবে সে, 'রৌদ্রকরোজ্জ্বল হে পিতার অধিক।' কিন্তু তার একি হালহকিকত। অর্ধশতাব্দী প্রাচীন রওশন আরা বোর্ডিংয়ের দুই তলায়, দুইশ এগারো নম্বর ঘরে এখন প্রায় নিথর শুয়ে আছে সে। ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছে কিংবা আছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। অন্ধকারের পিন্ড হয়ে আছে ঘর।
বয়স উনচল্লিশ, করোনার ভ্যাক্সিন প্রথম ডোজ তেইশ দিন আগে নিয়েছে, ভূত লেখক কওসর জামিল তাও আক্রান্ত হয়েছে করোনায়। বেগতিক অবস্থা। মরে যাচ্ছে নাকি? মরে যাচ্ছে। ত্বরা করে অন্য কেউ হয়ে যেতে হবে। অন্য আর কেউ, যার করোনা হয়নি। মৃত কোনো মানুষ কি হওয়া যায়? এর আগে হয়ে দেখেনি। মৃত মানুষ বলতে কে হতে চায় সে? উইলিস দাস হয়তো। উইনোনার জামাই কী-বোর্ডিস্ট ডেভিড উইলিস দাস। উইনোনা কে? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে?
এত কম সময়। উইলিস দাস হলো না সে। কওসর জামিল হয়েই থাকল। এবং মরল। মানব থাকল না।
কেবিনের দরজা আটকে মরেনি কওসর জামিল অথবা সে। সকাল এবং আরো অনেকদিন হয়তো লাল রঙের লেখাটা দেখা যাবে দরজার কপাটে। অল্প কুয়াশায় ভিজে আছে কিংবা উষ্ণ বা উষ্ণতর রোদে- মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যায়।

মন্তব্য করুন