অতীতে শত-সহস্র বছর ধরে স্থাপত্যের নানা রীতি বা স্টাইল আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যার একেকটি রীতি চলমান ছিল দীর্ঘ সময় ধরে। এসব রীতির কোনো নির্দিষ্ট প্রবর্তকের নাম বা তথ্য পাওয়া যায় না। হতে পারে এগুলো স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবেই নির্মাণকারী বা স্থপতিরা তাদের পূর্ববর্তী স্টাইল ভেঙে নতুন কোনো সৌন্দর্যের জন্ম দেওয়ার তাড়নায় একক বা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে পরবর্তী স্টাইল বা স্থাপত্যরীতির জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু মানবসভ্যতায় শিল্পবিপ্লব হঠাৎ করেই এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এলো। সামন্ত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে গড়ে উঠল পুঁজিনির্ভর সমাজব্যবস্থা। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পের সব ক্ষেত্রে এলো এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ব্যক্তিবিশেষের চিন্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে জনসাধারণের গণব্যবহারের জন্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ঘটল আমূল পরিবর্তন। মাস প্রডাকশন বা গণ-উৎপাদনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরি ও সংযোজনের মাধ্যমে পুরো বস্তুটির নির্মাণের যুগান্তকারী ধারণাটি প্রতিষ্ঠা পেতে লাগল। স্থাপত্যেও অতীতের সব ভাবনা থেকে বেরিয়ে পরিবেশ-আবহাওয়া, নতুন কাঠামো উপাদান যেমন- স্টিলের ব্যবহার, সিমেন্ট আবিস্কার, শিল্পকারখানা ও অফিস-আদালত ইত্যাদির গণব্যবহারের চাহিদা বেড়ে গেলে ব্যবহারকারীদের চাহিদার আমূল পরিবর্তন, সুউচ্চ ভবন নির্মাণের তাগিদ ইত্যাদি নানাবিধ কারণ সর্বত্র স্থাপত্যেও নতুন পরিবর্তনের দ্বারা দৃশ্যমান হতে থাকল। দীর্ঘদিনের চর্চিত পূর্বের স্থাপত্যের রীতি পরিবর্তিত হয়ে একেবারেই ভিন্ন রূপে স্থাপত্য আবির্ভূত হতে লাগল। কোনো ব্যক্তিবিশেষের নিজস্ব ভাবনা বা অভিব্যক্তি প্রচলিত রীতির সঙ্গে কোনো আপস বা সমন্বয় ছাড়াই যে স্থাপত্য নির্মাণ করা যায়, সেই বিশ্বাস থেকে জন্ম নিল নতুন এক ধারা যা আমরা মডার্নিজম বা আধুনিকতাবাদ বলে চিহ্নিত করি।

এই রীতির চর্চায় প্রবণতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরেই বেশ উল্লেখযোগ্যভাবেই দৃশ্যমান হতে থাকল। উদাহরণস্বরূপ এরিক মেন্ডেলসনের জার্মানিতে নির্মিত আইনস্টাইন টাওয়ার বা স্থপতি জন উটজনের সিডনি অপেরা হাউস। বিংশ শতাব্দীর বিশ শতকের গোড়ার দিকে এবং ত্রিশের প্রথম দিকে আমেরিকাতে সে সময় নতুন উপাদান ও সহজলভ্য নির্মাণসামগ্রী যেমন কংক্রিট, স্টিল, কাচের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। এ ধরনের ভবনে কাঠামোর যৌক্তিক প্রকাশ, কাচের ব্যবহারের ফলে কাঠামোটি দৃশ্যত হালকা ও আলোময়, অপ্রয়োজনীয় অলংকরণ বাদ দিয়ে এক নতুন ধরনের স্থাপত্যের সূচনা হয় যা আমরা আন্তর্জাতিক স্টাইল হিসেবে জানি। নির্মাণে সহজ, নির্মাণসামগ্রীর সহজলভ্যতা ও কাঠামোগত সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধারণা বা স্টাইলটি সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই আন্তর্জাতিক স্টাইল বা মডার্নিজম বিশ্বের নানা প্রান্তে স্থপতিরা চর্চা শুরু করলেও তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশে সেই চর্চা শুরু হতে বেশ অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রকৃত অর্থে আধুনিক স্থাপত্যের প্রকৃত ধারা এ দেশে শুরু হয় পঞ্চাশ দশকের শেষ ভাগে। এ লেখার মূল আলোচ্য বিষয় স্বাধীনতা-উত্তর পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে স্থাপত্য চর্চা হলেও আমাদের দেশে আধুনিক স্থাপত্য চর্চার শুরুটা জানা থাকলে পরবর্তীকালের ধারাবাহিকতা বুঝতে অনেকটা সহায়তা করতে পারে। এ দেশে আন্তর্জাতিক স্থাপত্য রীতির সূচনা পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে স্থপতি মাযহারুল ইসলামের হাত ধরেই। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি বর্তমান চারুকলা অনুষদ ভবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের স্থাপত্য নকশা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে এ দেশে আধুনিক ধারার প্রবর্তন তিনিই এককভাবে শুরু করেছিলেন। তিনি যথার্থভাবেই পশ্চিমা ধারণার আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে এ অঞ্চলেরর জনগণের আকাঙ্ক্ষা, এ দেশীয় নির্মাণ উপকরণ আমাদের অতি চেনা উঠান বারান্দা ইত্যাদির সঙ্গে যে সৃষ্টিশীল সমন্বয় করেছিলেন, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই চারুকলা ভবন।

এরপর ষাট দশকের দিকে বিদেশি স্থপতিদের নির্মিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ এ দেশে হয়েছিল। স্থপতি মাযহারুল ইসলামের মধ্যস্থতায় এ দেশে লুইকান (সংসদ ভবনের স্থপতি) পল রুডলফ, স্টানলি টাইগারম্যান এ দেশে তাদের স্থাপত্যকর্মের ছাপ রেখেছিলেন। তারাই প্রকৃতপক্ষে এখানকার স্থাপত্যের উন্নয়ন ও দিকেনির্দেশনামূলক স্থাপত্য উপহার দেন। যদিও এদের কেউ কেউ স্থানীয় প্রেক্ষিতকে উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক স্থাপত্যের কিছু চমৎকার উদাহরণ এ দেশের নব্য শিক্ষিত তরুণ স্থপতিদের জন্য উদারহণস্বরূপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭১-এ স্বাধীনতার লাভের পর এই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সত্তর দশকে তেমন নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পাদন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার মধ্যেই ধ্বংসপ্রাপ্ত শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ, জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ বেশকিছু কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আশির দশক থেকেই নতুন দেশটিতে উন্নয়নমূলক বেশকিছু উল্লেখযোগ্য কাজ শুরু করা হয়। এসব স্থাপত্য নির্মাণে এ দেশের নব্য শিক্ষিত স্থপতিরাই এগিয়ে এলেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই সেসব কাজের সূচনা হয়েছিল।

মনে রাখা দরকার যে, এ দেশে তখনও সীমিত নির্মাণসামগ্রী যেমন কংক্রিট, ব্রিক, কাচ, কাঠ ইত্যাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই স্থাপত্য চর্চা শুরু হয়েছিল। এ দেশে স্থাপত্যের পথপ্রদর্শক ছিলেন স্থপতি মাযহারুল ইসলাম। এ দেশে স্থাপত্যকর্মের গুণাগুণ বৃদ্ধি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং ধীশক্তি উন্মেষে স্থপতি মাযহারুল ইসলামের নেতৃত্বে তরুণ স্থপতি ও ছাত্রদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল 'চেতনা স্টাডি সার্কেল' নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তরুণ স্থপতিদের স্থানীয় পরিবেশ ও সাংস্কৃতিকে বুঝতে পারা, গবেষণায় আত্মনিয়োগ এবং আঞ্চলিকতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এর মা্যধমে শিক্ষামূলক কার্যক্রম, ওয়ার্কশপ, পুরস্কার প্রবর্তন, ম্যাগাজিন, বই প্রকাশসহ নানা কার্যক্রম গৃহীত হয়েছিল। এর একটি প্রভাব নবীন স্থপতিদের মধ্যে সঞ্চালিত হয়েছিল যার ফলে কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ পরিলক্ষিত হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এ সময়ে স্থানীয় লাল ইটের ব্যবহার এবং বহিঃদেয়ালে গ্লোসেম বা আবহাওয়া প্রতিরোধক আবরণ ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। নব্বই-পরবর্তী সময়ে জানালায় স্টিলের ফ্রেমের পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের ব্যবহার ও বড় বড় জানালা ও কাচের ব্যবহার বেড়ে যায়। ২০০০ সালের পরে উচ্চ ভবনগুলোতে বহিঃদেয়ালে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের বা আবরণের ব্যবহার ব্যাপক প্রসার লাভ করে।

এর পরেই বাংলাদেশে অনেক নতুন নির্মাণসামগ্রী সহজলভ্য হতে থাকে এবং নানামুখী ব্যবহার অব্যাহত থাকে। স্বাধীনতার পর আশির দশক থেকে নগরমুখী উন্নয়নের চাপ বাড়তে থাকায় প্রচুর পরিমাণে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে আবাসন, বহুতল ভবন, শপিংমল, পাবলিক ইমারত, স্কুল-কলেজসহ নানাবিধ ইমারত নির্মাণের জোয়ার তৈরি হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণও ব্যাপক বৃদ্ধি পেতে থাকে। আশির দশক থেকে ২০২০ সাল এবং অদ্যাবধি তা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। এখন দেখা যাক স্বাধীনতা প্রাপ্তির এই পঞ্চাশ বছরে আমাদের স্থাপত্যকর্মের ধারা বা রীতি কেমন ছিল সেটা দেখা যাক। সারাবিশ্বে '৭১-পরবর্তী এবং এ পর্যন্ত বিশ্বে যে স্থাপত্যরীতির চর্চা হয়েছে তার কতটা প্রভাব আমাদের স্থাপত্যে পড়েছে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। বিশেষ করে প্রথমেই যা দৃশ্যমান তা হলো আবাসন প্রক্রিয়ার ব্যাপক পরিবর্তন। ষাটের দশকে যে দু-তিনতলা বাড়িগুলো হতো তাতে বড় বড় করিডোর, বড় বড় কক্ষ এবং আলো-বাতাসের জন্য প্রতি রুমের সঙ্গে বারান্দার সংযোগ করা হতো তা কমে গিয়ে এখন জায়গার স্বল্পতা, জমির অভাব, জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সুউচ্চ ভবন, উচ্চতার জন্য আলো-বাতাসের প্রাপ্তি এবং ছোট বারান্দার সংযোজন লক্ষ্য করা যায়। ব্যবহার, নান্দনিকতায় ও রুচিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষণীয়। আশির দশকের শেষের দিক এবং নব্বই দশকের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আবাসন নির্মাণ করা হয় যা পরবর্তী সময়ে অন্যদের এমন আবাসন নির্মাণে উৎসাহিত করেছিল।

উদাহরণস্বরূপ ইস্টার্ন হাউজিং এবং পরিবাগে স্থপতি উত্তম সাহার প্রণয়নকৃত আবাসন। সেখান থেকে স্বাধীনতা-পরবর্তী আবাসনের যে ব্যাপক কর্মকাণ্ড শুরু হয় তাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বাপেক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছিল এবং প্লটে ছোট একক ভবন তৈরির পরিবর্তে ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং যৌক্তিক কারণেই জমির স্বল্পতার কারণেই ফ্ল্যাটের চাহিদা বেড়ে যায়। কার্যত ফ্ল্যাটের ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। আশির দশকের গোড়ায় এই কর্মযজ্ঞ শুরু হলেও এখন তার ব্যাপ্তি বিশাল। সরকারি আবাসনেও আমূল পরিবর্তন আসে। সেখানে অনেক বড় পরিসরে আধুনিক আবাসনসহ নানা সুবিধা যুক্ত হয়েছে এবং স্পেসের বিষয়টিও নকশায় বিবেচনায় আনা হয়েছে। সচিব, মন্ত্রী এবং বিচারকদের জন্য বেশ দৃষ্টিনন্দন ও কার্যকরী ২০১৯-২০ এর দিকে কিছু আবাসন তৈরি হয়েছে যা উল্লেখযোগ্য। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো, তাহলো তখন শহরের মধ্যে একক প্লটে আগে যে ভিলা বা ডুপ্লেক্স তৈরি হতো, তার প্রবণতা আশি বা নব্বইয়ের দশকে বেশ দেখা গেলেও এখন আর সেই প্রবণতা দেখা যায় না। জমির সংকট এবং অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি বিবেচনার ফলে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে নতুন করে একটি প্লটে একক বসতবাড়ি নির্মাণ ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে আর তেমন দেখা যায়নি। আবাসিক বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে একটি ভিন্নধর্মী ধারণার উন্মেষ ঘটে স্থপতি রফিক আযমের হাত ধরে। তা হলো আবাসিক ভবনগুলোতে সীমানাপ্রাচীরের পরিবর্তে সবুজায়ন বা অন্য কোনো উপায়ে তার বিকল্প প্লটের সীমানা নির্দেশকরণ, ভবনের বিভিন্ন লেভেলে বা ক্ষেত্রে সবুজায়ন বা বাগান এবং কখনও কখনও ভাসমান পুকুর তৈরি করে শহরের মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ তৈরি করিয়ে দেওয়াটা ছিল অনেকটা এ দেশে বৈপ্লবিক। এ ছাড়া রফিক ভবনগুলোতে নতুনভাবে এ দেশে ফেয়ার ফেস কংক্রিট ব্যবহারের প্রচলন করেন।

আবাসন ছাড়াও নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, বাণিজ্যিক ভবনগুলোতেও সমসাময়িক আধুনিক স্থাপত্যের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। বেশকিছু স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই আধুনিক স্থপত্যের সার্থক প্রয়োগ ও কার্যকরী ভবন হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে। ডায়াগ্রাম আর্কিটেক্টসসহ বেশকিছু বিদেশি ও স্থানীয় স্থপতি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। ঢাকার বাণিজ্যিক ভবন, হোটেল, করপোরেট ভবনগুলোতে যে আধুনিক স্থাপত্যের প্রভাব পড়েছে, তা উল্লেখ করার মতো। ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে অনেক তরুণ স্থপতি ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকার অবয়ব পরিবর্তনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
উল্লেখ্য যে, স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ এ ক্ষেত্রে এককভাবেই অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার প্রণয়নকৃত গ্রামীণফোনের সদর দপ্তর, বসুন্ধারা শপিং কমপ্লেক্স, চট্টগ্রামে র‌্যাডিসন হোটেলসহ ঢাকার বেশকিছু উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক ভবনের স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেছিলেন, যা নবীন স্থপতিদের কাছে আদর্শ বা অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালের পর বাংলাদেশের স্থাপত্যে যে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় তার পেছনে রয়েছে স্থাপত্যের স্কুলগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি, অনেক স্থপতির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক স্থপতির চাহিদা অনুযায়ী বেরিয়ে আসা এবং নগরায়ণের প্রসারের ফলে ইমারত নির্মাণ কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়া এবং সারাবিশ্বের সঙ্গে বর্তমানের স্থপতিদের যোগাযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি বাংলাদেশের স্থাপত্য চর্চার প্রসারে প্রভূত অবদান রেখেছে।

বিশ্বের নানা স্থানে যে স্থাপত্যবিষয়ক কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা স্থানীয় স্থপতিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের একটি বড় অবদান আছে বলে প্রতীয়মান হয়। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের স্থপতিদের বেশকিছু উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তি এই ধারণাকে অনেকখানি যৌক্তিকতা দেয় যে, বাংলাদেশের অনেক স্থপতিই আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্য এ দেশেই সৃষ্টি করেছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্থাপত্য চর্চা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে- স্বাধীনতা পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে আমাদের স্থাপত্যের যে অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি, তার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রসার বিশেষ করে বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নির্মাণ উপকরণ উৎপাদনের প্রসার লাভ এবং বিদেশি নানা নির্মাণ উপকরণের সহজলভ্যতা স্থাপত্যকে অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছে। গত ৩০ বছরের ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সরাসরি স্থাপত্যে প্রভাব ফেলেছে। স্বল্প উন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে বাংলাদেশ। এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও চলমান থাকলে নিঃসন্দেহে বলা যায় বাংলাদেশের স্থাপত্য বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে, তাতে সন্দেহ নেই।

মন্তব্য করুন