পর্ব-৫
[তৃতীয় প্রসঙ্গ শুরু]
১৯৮৪ সাল পর্যন্ত আমি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র' প্রকল্পে কাজ করেছিলাম। আমার পিএইচডির কাজও চলছিল সেই সময়েই। প্রকল্পের কাজটি ছেড়ে দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই পিএইচডি করার কাজটিও বন্ধ করে দিই। কারণ আমার তখন মনে হয়েছিল, দলিলভিত্তিক যে ইতিহাস রচিত হয়- তার একটা বিশাল সীমাবদ্ধতা আছে। প্রথমত দুটো সীমাবদ্ধতার কথা আমার মনে হয়েছিল। এক. দলিলভিত্তিক ইতিহাস রচনা করলে তাতে সাধারণ মানুষের ইতিহাসটা আসে না। প্রান্তিক মানুষের কথা আসে না। আসে না নারীর ইতিহাসও। তাছাড়া মনে হয়েছিল, যেহেতু আমার বিষয়টাই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ করা- এ যুদ্ধ কবে থেকে শুরু হলো, কীভাবে শুরু হলো; তাতে আমি বুঝতে পারছিলাম প্রচলিতের বাইরেও আরেকটা বড় বয়ান আছে। সাধারণত আমাদের শিক্ষিত মধ্যবিত্তের যে বয়ান, যেমন- একদিন আমরা পাকিস্তান হতে চাইলাম, তারপর ভাষা আন্দোলন হলো, সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু ইতিহাসের বইপত্র, দলিল দস্তাবেজ দেখে আমার মনে হয়নি যে, এই ইতিহাসটাই সঠিক কিংবা পর্যাপ্ত। সেই কারণেই আমার অনুসন্ধান শুরু হলো। এর মধ্যে আমার আরেকটা আগ্রহ জন্মাল যে, বামপন্থিরা এ ব্যাপারে কী ভাবে? সে জন্য আমি প্রথম যার কাছে যাই, আমাকে তার কাছে নিয়ে গিয়েছিল সাংবাদিক কুররাতুল আইন তাহমিনা মিতি। ওরই আত্মীয় হালিম সাহেব। তিনি অঙ্কের মাস্টার ছিলেন। শুনেছি তিনি বহু বামপন্থি তৈরি করেছিলেন। একদিন তার বাসায় যাই। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন অবস্থান সম্পর্কে বলতে গিয়ে হঠাৎ সেই মানুষটির কথা উচ্চারণ করলেন- মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরী। বললেন, এই মোয়াজ্জেম চৌধুরী সব সময় স্বাধীনতার কথা বলত। এমনকি সে ১৯৪০ সালেও স্বাধীনতার কথা বলেছে, সংগঠন করত। ভদ্রলোক সাতচল্লিশ-আটচল্লিশ সালের কথা বলছিলেন- আমি আগ্রহ নিয়ে শুনছি; এই নাম কখনোই তো এর আগে শুনিনি।
তার পরবর্তীতে আমি মোগলটুলিতে দুইজন মানুষের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম- একজন হচ্ছেন আসাদ্দার আলী, তিনি তোহা সাহেবের লোক ছিলেন। তিনি সে সময় অনেক কিছু বললেন। বললেন যে, মোয়াজ্জেম চৌধুরীকে সংগ্রহ করেন- এই লোকটি আমাদের দলের প্রতিটি লোকের কাছে এসে স্বাধীনতার কথা বলতেন; সম্ভবত শেখ সাহেবের সমসাময়িকই হবেন। শেখ সাহেব তো কলকাতায় ছিলেন, মোয়াজ্জেম চৌধুরীও কলকাতায় রাজনীতি করেছেন।
এই বিষয়টা আমার কাছে বেশ পরিস্কার লাগছিল যে, কলকাতার রাজনৈতিক একটা ধারা আছে, আর কলকাতার বাইরে আরেকটা রাজনৈতিক ধারা- যেটা আমাদের ঢাকাকেন্দ্রিক মানুষদের রাজনৈতিক ধারা। এ দুটো ধারা আলাদা। শেখ মুজিবুর রহমানের ধারাটা হচ্ছে কলকাতা থেকে বেরিয়ে আসা ধারা।
এই দু'জনের কাছে মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীর কথা শোনার পর আমি তৃতীয় আরেকজন ব্যক্তির কাছে যখন নামটি আবার শুনলাম- তখন আমি অনুসন্ধান করতে লাগলাম। একজন প্রবীণ সাংবাদিক আমাকে বললেন, মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীকে আপনি অমুক জায়গায় দেখতে পাবেন এবং তিনি সিলেটের একজন সল্ফ্ভ্রান্ত মানুষ। কাকতালীয়ভাবে আমার এক সিলেটি বন্ধু বললো, 'হ্যাঁ, উনি আছেন তো, তুমি আসলে ওনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবো। আমাদের বেশ পরিচিতই তিনি।' সেই বন্ধুর মাধ্যমে যোগাযোগ হলো এবং তিনি আমাকে দেখা করতে অনুমতি দিলেন।


প্রথম দিন তিনি খুব বিরক্ত ছিলেন। বয়স্ক মানুষ। ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন সম্ভবত। এইটুকু জানতাম যে, তিনি শেখ সাহেবেরও সিনিয়র। আমি বলছি মধ্য আশির দশকের কথা। প্রথম দিকে কথা বলতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু যেহেতু আমার অনেক আগ্রহ ছিল- আস্তে আস্তে আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। এরপর একাধিকবার আমি কথা বলেছি মোয়াজ্জেম চৌধুরীর সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত একুশে টেলিভিশনের জন্য আমি তার দুই ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম।
মোয়াজ্জেম চৌধুরীর পারিবারিক ইতিহাস যতদূর জেনেছি তাতে বোঝা যায় সিলেটের ওপরতলার মানুষের একটা অংশের তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে আমাদের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল- কিন্তু একুশে টেলিভিশনকে দেওয়া আগেকার দিনের টেপরেকর্ডারে ধারণকৃত আমার সেই ২৮টি ক্যাসেট রেকর্ড একসঙ্গে লেগে জমে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীর আড়ালে রয়ে যাওয়ার একটা কারণ হলো তিনিতো কোনো দিন সামনের রাজনীতি করেননি। সব সময় গোপন রাজনীতি করেছেন। এই গোপন রাজনীতির কথা আমরা খুব একটা জানতাম না। কিন্তু ঐতিহাসিক কারণেই মোয়াজ্জেম চৌধুরীর কথা আমাদের জানা দরকার।
তার রাজনীতিটা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের দিকে। তখন তিনি সিলেটে পড়তেন। সে সময় তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেশ যে পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি সে সময় এটা মেনে নিয়েছিল, কিন্তু দেশটা কী রকম হবে সেটা কমিউনিস্টরা ভাবেনি। পার্টির সদস্যদের সে সময় বলা হলো, তারা যাতে হয় মুসলিম লীগ না হয় কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দেয়। অর্থাৎ, মুসলমান সদস্যরা মুসলিম লীগে, হিন্দু সদস্যরা কংগ্রেসে। তখন মোয়াজ্জেম চৌধুরীরা মুসলিম লীগে যোগ দিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, লাহোর প্রস্তাব সম্পর্কে আপনাদের মত কী ছিল? বললেন, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের দাবি খুব বেশি জোরালো ছিল না। এই দাবি জোরালো হয় কলকাতায় দাঙ্গার পর। এই দাঙ্গার পর থেকেই পাকিস্তানের দাবি জোরালো হলো। তখনই বোঝা গেল ভারতকে আর এক রাখা যাবে না। এটাই ছিল মোয়াজ্জেম চৌধুরীর অবস্থান।
১৯৪১ থেকে '৪৬- এই সময় তিনি কীভাবে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন? তিনি সিলেট কলেজে ছিলেন ১৯৪১ থেকে '৪৩ সাল পর্যন্ত। সেখানকার ছাত্রদের যে রাজনৈতিক সংগঠন, তার প্রধান ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ১৯৪৪ সালে আমি আসি কলকাতায়। সিলেটে আমি যখন ছিলাম, তখন সিলেট ছিল একমাত্র জেলা যেখানে কংগ্রেস কমিউনিস্ট পার্টির কাছে হেরে গিয়েছিল।' কংগ্রেসের বিপরীতে সেখানে মূলধারার রাজনীতিতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আস্থা ছিল বেশি। অর্থাৎ মুসলিম লীগকে অ্যাকসেপ্ট করে নেওয়ার লাইনে এক ধাপ এগিয়েছিল। মোয়াজ্জেম চৌধুরী বললেন, 'সে সময় আমাদের বলা হলো জয়েন করো। আমি কলকাতায় এলাম, আবুল হাশিমের সঙ্গে দেখা করলাম। কলকাতা ছাত্রলীগ এবং কলকাতা বেঙ্গল মুসলিম লীগ তখন অ্যাগ্রেসিভ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছিল। মুসলিম লীগকে তখন নওয়াব এবং সর্দারদের হাত থেকে বের করে আনতে পেরেছিলেন আবুল হাশিম।' এই ব্যাপারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ- আমরা সাধারণত মুসলিম লীগ নামটা শুনেই ভাবতে শুরু করি যে, সকল মুসলিম লীগ এক ছিল। এটা খুব ভুল এবং ভ্রান্ত। যারা রাজনীতি পাঠ করেন, আমি মনে করি এই পাঠটি খুবই প্রয়োজন যে, বঙ্গীয় মুসলিম লীগের একাধিক ধারা ছিল। একটা ধারা ছিল এই নওয়াবদের ধারা, একটা ছিল আবুল হাশিমদের ধারা। তৃতীয় যে ধারাটি ছিল, সেটা হচ্ছে বামপন্থিদের ধারা। এবং এদের বলাও হতো বামপন্থি মুসলিম লীগ। সেই ধারার সঙ্গেই যুক্ত হলেন মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরী। শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে যে উল্লেখটা রয়েছে। যে, যারা আবুল হাশিমকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করতেন, সেই গ্রুপের সঙ্গে তিনিও জড়িত ছিলেন। এবং মোয়াজ্জেম চৌধুরীও সেখানে ছিলেন। মোয়াজ্জেম চৌধুরী এবং শেখ মুজিবুর রহমান ঘনিষ্ঠ বন্ধু হন। অন্য আরেকটি জায়গায় উল্লেখ পেয়েছি যে, ছেচল্লিশের দাঙ্গার সময় তাদের দু'জনকে বস্তি পাহারা দিতে হতো। সেসব বস্তি ছিল কলকাতায় থাকা পূর্ববঙ্গের মানুষের বস্তি। মোয়াজ্জেম চৌধুরী এবং শেখ সাহেবকে সেখানে বস্তি পাহারা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। কারণ এই দু'জন বন্দুক চালাতে জানতেন। ফলে দেখা যাচ্ছে যে, এই দু'জনের সম্পৃক্ততাটা কীভাবে হয়েছে।
তারপর ১৯৪৬ সালের রাজনীতি- পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান হবে এই কথা তখন প্রতিষ্ঠিত। মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকারেও এই বিষয়টি রয়েছে। তখন কিন্তু জিন্নাহর দিল্লি সম্মেলনে একক পাকিস্তান হয়ে গেল। এটাই ছেচল্লিশের একটা বড় ধাক্কা। তখন সেই ছেচল্লিশের ধাক্কা থেকে সরে এসে আবুল হাশিম ইউনাইটেড বেঙ্গল মুভমেন্টের প্রস্তাব করলেন। এই ইউনাইটেড বেঙ্গল মুভমেন্টে প্রথম দিকে যোগ দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু সাতচল্লিশে এসে এটা শেষ হয়ে যায়। এই শেষ হয়ে যাবার কারণ হচ্ছে, নেহরু চাইছিলেন না এরকম একটা ঘটনা ঘটুক। নেহরুর ধারণা ছিল এটা আরেকটা পাকিস্তানের মতো হবে। কিন্তু আসল ব্যাপার হলো, বঙ্গীয় কংগ্রেসের ওপর নেহরুর চাপ দেওয়াটা সম্ভব হয়েছিল। হারুনুর রশীদ সাহেবের বইতেও যেটা আছে। বঙ্গীয় কংগ্রেসের অবশ্য তাতে অনিচ্ছাও ছিল। কারণ, আগে যারা তাদের প্রজা ছিল, সেই প্রজাদের অধীনে তাদের থাকার ইচ্ছাটা না থাকারই কথা।



এই রকম অবস্থায় দেখা যাচ্ছে যে, কিছুটা অংশ, বিশেষ করে তরুণ যারা তারা অসন্তুষ্ট- সেই তরুণরা সরে আসছে। অর্থাৎ, দুটো ব্যাপার হলো- এক হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তান হলো না, যেটা একটা স্বাধীন দেশ হবার কথা ছিলো। দ্বিতীয়ত যৌথ বাংলা হলো না, যেটারও স্বাধীন দেশ হবার কথা ছিল। তাই শেষ পর্যায়ে এসে মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীরা একটা সংগঠন করলেন। যেটার নাম হচ্ছে, ইনার গ্রুপ। এই ইনার গ্রুপে যারা ছিলেন, তারা বেশিরভাগই ছিলেন আবুল হাশিমপন্থি। তারা সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিলেন বা ভাবলেন যে, তারা আলাদা একটা দেশ করবেন। তাদের প্রথম মিটিংটি হয় ১৯৪৬ সালেই। যৌথ বাংলা ভাঙতে ভাঙতে যখন একটা অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে- তখন তারা স্বাধীনতার কথা ভাবছেন।
সাক্ষাৎকারে মোয়াজ্জেম চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি তখন পাকিস্তানকে কীভাবে দেখলেন, একটা পাকিস্তান নাকি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটা পাকিস্তান যেটা আবুল হাশিম ভেবেছিলেন? তিনি তখন বলেছিলেন, না, আমরা ভাবতাম পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান। আমরা মাসুদ সাহেবের বাড়িতে যে মিটিং করেছিলাম, সেখানে বলেছিলাম ওয়েলকাম পাকিস্তান। আমি বললাম, মাসুদ সাহেবের বাড়িতে আপনাদের এ মিটিংটি কবে করলেন? উত্তর- ছেচল্লিশেই। দেশভাগ হলো সাতচল্লিশের শেষভাগে। তার মানে যৌথ বাংলা যখন হয়নি, তখনই তারা স্বাধীনতার কথা ভাবছেন। মোয়াজ্জেম চৌধুরীকে এ প্রসঙ্গে আমি প্রশ্ন করেছিলাম যে, আপনাদের সেই স্বাধীন দেশে প্রধান হিসেবে কাকে ভেবেছিলেন? তিনি বললেন, গোপালগঞ্জের সেই লম্বা লোকটা; শেখ মুজিবুর রহমান।
মাসুদ সাহেবের বাড়িতে যে মিটিংটি হয়েছিল, সেটা মূলত ছাত্রদের বৈঠক ছিল। এবং যাদের তিনি নাম নিয়েছেন, সকলেই প্রগ্রেসিভ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমর্থক ছিলেন। মাসুদ সাহেব মুসলিম লীগের লোক ছিলেন। তবে শেখ মুজিবুর রহমান এ মিটিংয়ে ছিলেন না।
সাক্ষাৎকারের এ পর্যায়ে মোয়াজ্জেম চৌধুরী শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বলছিলেন যে, শেখ সাহেব তখন খুবই কর্মঠ নিবেদিত কর্মী ছিলেন। নেতৃত্বের যে বৃহৎ পর্যায়, ঠিক সে স্তরে তখনও তিনি যেতে পারেননি, কিন্তু সর্বদাই খুব নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সরল কিন্তু সবল মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন, ছেচল্লিশ সালে বাংলাদেশকে মুসলিম লীগের অধীনে নিয়ে এলো এই হাশিম-সোহরাওয়ার্দী এবং তার ছাত্রলীগ কর্মীরা।
সোহরাওয়ার্দী আর আবুল হাশিম যুক্ত বাংলা করতে চেয়েছিলেন। সেটা সেই সময়ের আন্দোলন। কিন্তু যখন আবুল হাশিমরা দেখলেন যে, এটা পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে, তখন কী হলো? তিনি বলেন, মুসলিম লীগের যে সম্মেলন হয়েছিল দিল্লিতে, সেখানে বলা হয়েছিল, লাহোর প্রস্তাবের যে পাকিস্তান- সেটা এক পাকিস্তান নয়। আলাদা দুটি পাকিস্তান। কিন্তু জিন্নাহ সাহেব এটাকে মুদ্রণ বিভ্রাট বলে চালিয়ে দেন। আবুল হাশিম এর প্রতিবাদ করেছেন। তাহলে বোঝা যাচ্ছে দ্বন্দ্বটা কত পর্যায়ক্রমে চলে আসছে।
[ক্রমশ]

মন্তব্য করুন