আম্মা,
তোমাকে চিঠি শেষ কবে লিখেছিলাম, মনে পড়ে না। সম্ভবত কলেজ শেষে শহর ছেড়ে যাবার পর কোনোদিন হবে। আমাদের তো মোবাইল ফোন ছিল না। কার্ড ফোনে এনডব্লিউডি কল করার সুযোগও তেমন হতো না। এতদিন পর চিঠি লিখতে বসে মনে পড়ছে, তুমি যে আমাকে বর্ণমালা শেখানো শেষ করে রাপুনজেল আর স্নো হোয়াইটের গল্প শোনাতে; সিনডারেলার জুতা ফেলে যাওয়া আর হ্যানসেল গ্রেটেলকে বনে ফেলে দিয়ে আসার গল্প; লিটল রেড রাইডিং হুডের গল্প বলার সময় তুমি ঘুণাক্ষরেও বলোনি, নেকড়েটা আসলে পুরুষের রূপক আর স্লিপিং বিউটিকে চুমু খেয়ে জাগানোর ঘটনাকে তুমি সোনার কাঠি রুপার কাঠি নড়াচড়া করার ভার্সনে নিয়ে গিয়েছিলে। রাজপুত্রের ঠোঁটের স্পর্শ রাজকন্যার অভিশাপ কাটাতে পারে- সে কথা জানাতে চাওনি মনে হয়। নিজেকে রাজকন্যা ভেবে নিয়ে অদেখা রাজপুত্রের ঠোঁটের স্পর্শের জন্যে উন্মুখ হয়ে যেন না রই...
কিশোরী বয়সে, ক্লাস সেভেন বা এইটে ওঠার পর খুব করে বুঝিয়ে দিয়েছিলে- যেন কাউকে আমার শরীর ছুঁতে না দিই। পরপুরুষ ছুঁলে তা লজ্জার, গল্গানির। আমার খুব ইচ্ছা করেছিল বলি, তোমার চাচা আর বাবার যে কর্মচারীকে দিয়ে আমাকে মাঝেমধ্যে স্কুলে পাঠাতে; তারা নিয়মিত আমার বুকে পেটে আর ঊরুসন্ধিতে হাত দিয়ে স্পর্শ করত, আমার খুব ঘেন্না করত। আমি তাদের দেখলেই পালিয়ে বাঁচার পথ খুঁজতাম। যেহেতু ততদিনে অসংখ্যবার সেইসব থাবা আমাকে স্পর্শ করেছে; আমি তো অশুচি হয়েই গেছি- কী করে আর বলতাম তোমাকে সে কথা? লজ্জা হয়েছিল, আর খুব গ্লানি। মনে হয়েছিল, আমাকে ঘেন্না করবে সেসব জানলে।
তুমি আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছিলে- কীভাবে ডালের বড়ি ভেজে মাছের ঝোলে দিতে হয়; পুডিঙের ক্যারামেল ঠিক কতটা কালো হলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে; কাঁচাকলার চপে যে ছোলার ডাল সিদ্ধ করে দিতে হয়; তা না হলে ঠিক আকারে চপ ভাজা যায় না, নরম হয়ে যায়... এসব কিছু। হাতে ধরে শিখিয়েছিলে চেইন, ডাল, ক্রস স্টিচ, গিঁট ভরাট, দুই কাঁটার সোজা উল্টা, কুরুশের হাফ ডবল ছাড়া আর কোনো স্টিচ পারতাম না সুন্দর করে; তুমি পাফ স্টিচ পর্যন্ত করিয়ে ছেড়েছ। শুধু শেখাতে ভুলে গিয়েছিলে, কী করে অনভিপ্রেত স্পর্শের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।
আমি তোমার সব কথা মানার চেষ্টা করতাম; সব সময় লক্ষ্মী মেয়ের মতন পড়া করতাম; বাসার কাজ শিখেছিলাম; সেলাই-ফোঁড়াই শিখেছিলাম; যেভাবে কাপড় পরতে বলতে পারতাম, বান্ধবীদের দেখে হাল ফ্যাশানের কামিজের কাট কিংবা ঢোলা পায়জামা বা চুড়িদারের বায়না ধরতাম না। শুধু একটা কথাই মানতে পারিনি- রাজপুত্র এসে চুমু খেলে ঘুম থেকে ওঠা যাবে না; মটকা মেরে পড়ে থাকতে হবে; রূপনারাণের কূলে জেগে উঠে যেমন রবীন্দ্রনাথ জেনেছিলেন- এ জীবন স্বপ্ন নয়, আমিও বহুবছরের দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠে জেনেছিলাম, পৃথিবী দুঃস্বপ্নের চেয়ে সুন্দর।
অবশ্য রাজপুত্রের বেশে যে নেকড়ে আর রাক্ষস-খোক্কস আসতে পারে, সেটাও তোমার গল্প থেকেই শিখে নেওয়া দরকার ছিল আমার। বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট-এর গল্প তুমি বলেছিলে অন্যভাবে, দৈত্যের বাগান থেকে মেয়ের জন্যে বাবার ফুল চুরি করে আনার গল্পটা যে বইতে ছিল, আমার এখনো মনে আছে, সেই ফুলের একটা ছবি ছিল, উজ্জ্বল রঙের জবা ফুলের মতন। দেখে মোটেও মনে হয়নি কোনো বিরল ফুল, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যেটা জোগাড় করা যেতে পারে। আর সেই দুর্গটা, অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা আলিশান এক প্রাসাদ, এখনো চোখে ভাসে সেই নাম না জানা শিল্পীর হাতে আঁকা ছবিগুলো।
ফুল নিয়ে আরো গল্প বলতে তুমি, সাত ভাই চম্পার গল্প, ভাইদের চাঁপা ফুল বানিয়ে রাখে ডাইনি সৎমা। রাপুনজেলের বাবাও একটা নির্দিষ্ট ফুলের লতা জোগাড় করতে গিয়ে ডাইনির ফাঁদে পড়ে। কিন্তু রাজপুত্রটি সেখানে খুব চমৎকার, বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট-এর দৈত্যের মতন ভয়ংকর নয় মোটেই। সেই দৈত্য যে শেষ পর্যন্ত রাজপুত্র হয়ে গেল, তার কারণ আসলে সে রাজপুত্রই ছিল; ডাইনির অভিশাপে দৈত্য হয়ে ছিল। ভালোবাসা তাকে শাপমুক্ত করে। এতগুলো অপরূপকথা না বললেও পারতে। তাহলে আমি আর ভালোবাসার জন্যে কাঙাল হয়ে থাকতাম না।
আমি যেবার প্রথম কোনো পুরুষের ছোঁয়া পেলাম, যেখানে লোভ নেই, লালসা নেই; নোংরা কামনা নেই। আছে শুধু মুগ্ধতা আর আদর, প্রেম, মায়া; তখন আমার আশৈশব জমে থাকা গা-ঘিনঘিনে স্মৃতি এক নিমেষে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমার মনে হলো, বহুদিন গায়ে নোংরা কিছু লেগে ছিল, সেদিন যেন ধুয়েমুছে গেল। আমি ঝর্নার জলে অবগাহনের পবিত্রতা অনুভব করলাম।
কিন্তু পবিত্রতার ধারণা আপেক্ষিক। আমার প্রেমিকের দেওয়া সন্তান তোমার কাছে অপবিত্র ছিল। আমার গর্ভসঞ্চারের খবর শোনার পর থেকে তুমি একবারের জন্যেও আমাকে স্পর্শ করোনি। আমি ব্যাগে করে বইপত্র আর কয়েকটা জামাকাপড় নিয়ে আসার সময় তুমি ছিলেই না আশপাশে। নিজের ঘরের জায়নামাজে বসে নামাজ পড়ছিলে, হয়তো আমার কৃত পাপের জন্যে পরওয়ারদিগারের দরবারে ক্ষমা ভিক্ষা করছিলে। আমার প্রেমিক ভিন্ন ধর্মের ছিল। ইসলামী মতে এই পাপের স্খলন সম্ভব ছিল না।
তোমার করা দোয়ার জন্যে কিনা জানি না, আমি কোনো পাপবোধে আক্রান্ত হইনি। আমার মনে হয়নি, ভুল করছি; এর খেসারত দিতে হবে জীবন দিয়ে। আমার অমুসলিম প্রেমিককে ধর্মান্তরিত হবার প্রস্তাব আমি দিইনি। তার কাছে বিবাহের চেয়ে সহজ সমাধান ছিল গর্ভপাত। তার সেই প্র্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত, ভালোবাসাবাসির প্রমাণ লোপাট করার মতন অমানবিকতা আমাকে টলাতে পারেনি। মেডিকেল সায়েন্সের ছাত্র হিসেবে আমি জানি, একটা এমব্রিয়োর পিনহেডের মধ্যে সবকিছু থাকে- ব্রেইন, হার্ট, লাংস। অ্যাবরশন মানে হত্যা, যেভাবে মুচড়ে ছিঁড়ে নেওয়া কলির প্রাণ থাকে; গর্ভের ভ্রূণটিরও থাকে। তুমি তো আমাকে জান বাঁচানোর জন্যে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলে; জান নেওয়ার জন্যে নয়। কী করে মেরে ফেলতাম আমি আমার নিজের সন্তানকে? সে প্রেমের সন্তান হোক আর পাপের; সে তো আমার শরীরের অংশ, যেভাবে আমি ছিলাম তোমার শরীরের।
এখনো তোমার তোলা হাতটা মনে পড়ে। চড় দেওয়ার জন্যে হাত তুলেও গুটিয়ে নিয়েছিলে। ঘৃণা হয়েছিল হয়তো তোমার, হয়তো আমার পাপী শরীরের স্পর্শ তোমার এতদিনের তাহাজ্জুদের নামাজ, সালাতুল তসবির নামাজ, মিরাজের চাঁদ, শবেবরাতের চাঁদের নামাজ- এসব আমল একেবারে ধূলিসাৎ করে দিতে পারত। যে মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে ভেবেছিলে, সেই কিনা সকলের মুখে চুনকালি মেখে দিল! এত বড় হতাশা তোমার জীবনে আর একটিও নেই বোধ করি।
আমি আমার তথাকথিত জারজ সন্তান, তোমাদের ভাষায় হারামের বাচ্চা নিয়ে ভালোই বেঁচে-বর্তে আছি। আমাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে সমুদ্রসৈকত। হাসপাতালে যাওয়ার আগে রোজ ঘণ্টাখানেক দৌড়াই সেই সমুদ্রের ধার ঘেঁষে। আমার মেয়ে সাইকেল চালায় আমার পাশে পাশে। ছোটবেলা আমার কোনো সাইকেল ছিল না, চালাতে শিখিওনি; এখনো পারি না। কিন্তু বেশ দৌড়াতে পারি। এখানে সমুদ্র আছে আবার পাহাড়ও আছে। পাহাড়ের চূড়ায় বরফ জমে থাকে সারাবছর। ক্যালেন্ডারের ছবির মতন সুন্দর দৃশ্য। রোজ ভোরে পাহাড়ের পেছন থেকে সূর্য উঠতে দেখি আর সাগরের বুকে ডুবে যেতে দেখি সন্ধ্যায়। রোজ সমুদ্রের পানিতে একবার হলেও হাত দিই। মাঝেমধ্যে আবহাওয়া ভালো থাকলে সাঁতার কাটি। আমার মনে হয়, সমুদ্র তো একটাই। এই অবারিত জলধি পৃথিবীর সকল স্থলভাগকে স্পর্শ করে, তুমি যখন কীর্তনখোলায় পা ভেজাও, সেই জল তো বঙ্গোপসাগরে পড়েই; আর সেই জলের সঙ্গে এই সাগরের যোগ আছে বৈ কি।
কীর্তনখোলা না শুধু; আমি তোমাদের কুয়াকাটা আর কক্স'স বাজারের ছবিও দেখেছি, আসিফের ফেসবুকে ওর বউয়ের লাল টি-শার্ট আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরে নিসর্গ হোটেলের রুফটপ সুইমিং পুলের আইলে চিৎপটাং শুয়ে থাকার ছবি দেখেছি। জানি, ছেলের বউয়ের জামাকাপড় কিংবা ছোট চুল নিয়ে আপত্তি জানাবার মানুষ তুমি নও। সকলের ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি তোমার অগাধ শ্রদ্ধা। শুধু আমি, তোমার বড় মেয়ে, সব সময়ের লক্ষ্মী মেয়ে; কামিজের সঙ্গে ওড়না না পরে কটি পরতে চাইলে তোমার আপত্তি হতো, টু-পিসের সঙ্গে রং মিলিয়ে শিফনের ওড়না কিনে দিতে। আমি সে জন্যে এখানে এসে যত পশ্চিমা পোশাকই পরি না কেন, কোনোদিন সেসব হাঁটু বের করা কিংবা হাতকাটা পোশাকের ছবি ফেসবুকে দিই না। আমার মনে হয়, আমি যেমন লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার ফেসবুকে ফলি মাছের কোপতা আর বারান্দার গ্রিলে ফোটা অপরাজিতার ছবি দেখি; ইচ্ছে করে খুব, কিন্তু লাভ বাটনে চাপ দিই না, তুমিও হয়তো আমাকে একইভাবে স্টক করো।
প্রাণিজগতে সন্তানকে ত্যাগ করার উদাহরণ ভূরি ভূরি আছে। আমার নিজের সন্তানকে ত্যাগ করতে না পারার অপরাধে তুমি আমাকে ত্যাগ করেছিলে। হ্যানসেল আর গ্রেটেলের সৎমায়ের মতন করে নয়; গর্ভধারিণী মা হয়েই আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলে। আসলেই কি পেরেছ আমাকে ভুলে যেতে?
ভুলেও কি তোমার জানতে মন চায়নি, আমি কোথায় আছি, কেমন আছি? এই পাণ্ডববর্জিত দেশে বিদেশ-বিভূঁয়ে আমাকে আরো অনেক পুরুষ খুবলে খাচ্ছে কিনা; লিটল রেড রাইডিং হুডের বাচ্চা মেয়েটার মতন অন্য কোনো নেকড়ের পাল্লায় পড়লাম কিনা... তোমার কি জানতে মন চায় না?
ভ্যাংকুভার আসার আগে আমার এই নামটা শুনলেই মনে পড়ত জটায়ুর কথা। তার একটা রহস্য রোমাঞ্চউপন্যাসের নাম ছিল ভ্যাংকুভারের ভ্যাম্পায়ার। আসলে এই জায়গা মোটেও ভয়ংকর ভূতুড়ে কোনো জায়গা না। এক পাশে পাহাড় আর আরেক পাশে সমুদ্র নিয়ে খুব সুন্দর একটা জনপদ। আমেরিকা ইউরোপ কানাডা শুনলেই আগে ভাবতাম, কনকনে ঠান্ডার একটা দেশ, যেমন বরফ পড়া পরিবেশে স্নো হোয়াইটের মা সুই-সুতোর কাজ করার সময় আঙুলে সুই ফুটিয়ে ফেলেছিল, যেমন বরফ ঢাকা জঙ্গলে সাত বামনের কাঠের বাড়িতে বিষ মাখা আপেল গলায় আটকে তার পরান কণ্ঠাগত হয়ে গেছিল। আসলে সব জায়গা তেমন প্রচণ্ড ঠান্ডা নয়। তুমি তো জানোই, আমি শীতে কেমন কাবু হয়ে যেতাম। তত ঠান্ডা হলে কি আর এদেশে টিকতে পারতাম?
যত যাই হোক, টিকে গেছি আমি আম্মা। তোমার দোয়ার জোরেই হয়তো টিকে আছি, বেঁচে আছি। ভালোমতন কাজকর্ম করে খাচ্ছি, মেয়ে মানুষ করছি। শুধু একটাই অতৃপ্তি এই জীবনে- তোমার হাতটা মাথার উপরে আর নেই! পরীক্ষার আগে যে আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিয়ে দিতে; গায়ে-মাথায় হাত বোলাতে; তোমার শ্বাসের সঙ্গে হাকিমপুরী জর্দার গন্ধ আসত; বহু বহুদিন সেই গন্ধটা পাইনি। বহুদিন আমার মাথায় ডলে ডলে লালবাগের হাঁস মার্কা তেল মেখে দাওনি। বহুদিন জ্বরের ঘোরে ডেকেছি আম্মা, আম্মা। আমার মেয়ে পাশের ঘর থেকে উঠে এসে জিজ্ঞেস করেছে, কী হয়েছে। তোমাকে বলা হয়নি, আমার মেয়ের ডাকনাম আম্মা। দিনে যতবার তাকে ডাকি, তাকেই ডাকি; তোমাকে না। তবু শব্দটা তো তোমার সম্বোধনের। তোমার কাছে শিখেছিলাম আল্লাহর নাকি নিরানব্বুইটা নাম, যে কোনো নামে ডাকলেই হয়। প্রতিবার নামাজের পরে তুমি তসবি পড়তে, আল্লাহর অনেক নাম বলতে মুখে। তোমার বাপ-মায়ের দেওয়া নাম যা-ই হোক; আমার কাছে তো তোমার নাম আম্মাই। সে জন্যে আমি মেয়ের নাম রেখেছি আম্মা। যতবার তাকে ডাকি, তোমাকে ডাকা হয়ে যায়।
জানি না, আর কোনোদিন তোমাকে দেখব কিনা। কোনোদিন আমার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে গেলে, তোমার সামনে দাঁড়ালে তুমি মুখ তুলে চাইবে কিনা। নাকি বাংলা ছবির মতন মেলোড্রামাটিক স্টাইলে বের করে দেবে বাড়ি থেকে। আসিফ আর তার বউ আমাদের ঢুকতে দেবে কিনা; তোমার ঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে দেবে কিনা, সেইবা কে জানে! মনে আছে আম্মা, রবীন্দ্রনাথের সেই কবিতাটা আবৃত্তি করেছিলাম ক্লাস সিক্সে, 'আমার মা না হয়ে আর কারো মা হলে, ভাবছো তোমায় চিনতেম না? যেতেম না ওই কোলে?' তুমি এখন আসিফের মা; আমার মা হিসেবে নিজেকে ভাবো না হয়তো আর। আমিও জানি না, তোমার মঙ্গলময় স্পর্শের অপেক্ষায় আমার জীবন কেটে যাবে কিনা। আর কখনো তোমার কোলে মাথা রাখতে পারব? নাকি ইংলিশ বের সমুদ্রের জলে হাত দিয়ে তোমাকে কদমবুসি করা সেরে নিতে হবে প্রতিটা ঈদের দিনে।
আম্মা, আমি ভালোই জানি, তুমি আমাকে ত্যাগ করলেও কোনোদিন আমার জন্যে দোয়া করা থামাওনি। হাত দিয়ে না ছুঁয়ে থাকলেও তোমার হাতের ছায়াটা কীভাবে যেন আমার মাথার উপরে রয়ে গেছে। ভ্যাংকুভারের সব সৈকতে ঘুরে ঘুরে আমি প্রতিবার তোমার হাতের ছোঁয়া পেয়েছি। পৃথিবীর অন্য পাশ থেকে হলেও অবারিত সাগর তোমার স্পর্শ এনে দেয় আমার কাছে। চাইলেও সেটা থেকে আমাকে বঞ্চিত করতে পারবে না তুমি।
ইতি
তোমার মেয়ে
আম্মার মা

মন্তব্য করুন