জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় রূপসী বাংলার কবি, বলা হয় নির্জনতার কবি, বাংলা সাহিত্যের শুদ্ধতম কবিও বলা হয়। তবে রূপসী বাংলার কবি নামেই তিনি বেশি পরিচিত। 'রূপসী বাংলা' জীবনানন্দ দাশের সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ। কবি জীবদ্দশায় এ গ্রন্থটি বা এর অন্তর্ভুক্ত কোন কবিতা প্রকাশ করেননি। মৃত্যুর পর এর পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি আবিস্কৃত হয়। জীবনানন্দ দাশ, যিনি তার এই 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থে পঙ্‌ক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে উঠিয়ে এনেছেন বাংলার রূপকে। তিনি বলেছিলেন উপমাই কবিত্ব। বহুমুখী উপমায় বাংলার চিরায়ত রূপকে কে আঁকতে পেরেছে তারচেয়ে বেশি?
'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর। প্রকাশকাল ১৯৫৭-এর আগস্ট। কবিভ্রাতা অশোকানন্দ দাশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশক সিগনেট প্রেস, কলকাতা। প্রতিক্ষণ পাবলিকেশনস ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি সংস্করণ প্রকাশ করে। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো এই যে, জীবনানন্দ তার জীবদ্দশায় এ গ্রন্থটি বা এর অন্তর্ভুক্ত কোনো কবিতা প্রকাশ করেননি। মৃত্যুর পর এর পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপির খাতা আবিস্কৃত হয়। পাণ্ডুলিপিটি সম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে প্রথম মুদ্রণকালে খাতা থেকে প্রেসকপি তৈরি করে ছিলেন কবি ভূমেন্দ্র গুহ, তাকে সাহায্য করেছিলেন জীবনানন্দের ছোট বোন সুচরিতা দাশ।
কলকাতায় অবস্থিত ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারের রেয়ার বুক কালেকশনে জীবনানন্দের কবিতার ৪৮টি পাণ্ডুলিপির খাতা সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ছয় নম্বর খাতাটিতে 'রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো রয়েছে। এ খাতায় পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৫। কবির নিজ হাতে লেখা বর্ণনা অনুযায়ী কবিতাগুলো ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে (আনুমানিক ১৩৪০-৪১ বঙ্গাব্দ)। পাণ্ডুলিপির প্রথম ও দ্বিতীয় কবিতার পাতা দুটি কেটে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় কবিতাটি হলো 'যত দিন বেঁচে আছি...'।
রূপসী বাংলার কবিতাগুলোর অধিকাংশ কাঠামোগতভাবে সনেট। কবিতাগুলো লিখিত হয় মার্চ ১৯৩৪ চিহ্নিত একটি লেখার খাতায়। লেখার খাতা থেকে মুদ্রণযোগ্য পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন কবি ভূমেন্দ্র গুহ; সহায়তা করেন কবির বোন সুচরিতা দাশগুপ্ত। লেখার খাতায় কবিতাগুলোর শিরোনাম দেওয়া ছিল না। গ্রন্থে সনেটের প্রথম পঙ্‌ক্তি দিয়ে শিরোনাম করা হয়। রূপসী বাংলার কবিতাগুলো সনেট আকারে লিখিত হলেও জীবনানন্দ তার প্রিয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দই ব্যবহার করেছেন।
ঘুমায়ে পড়িব আমি একদিন তোমাদের নক্ষত্রের রাতে;
তখনো যৌবন প্রাণে লেগে আছে হয়তো বা- আমার তরুণ দিন
তখনো হয়নি শেষ- সেই ভালো- ঘুম আসে-বাংলার তৃণ
আমার বুকের নিচে চোখ বুজে- বাংলার আমের পাতাতে
কাঁচপোকা ঘুমায়েছে- আমিও ঘুমায়ে রবো তাহাদের সাথে,
ঘুমাব প্রাণের সাধে এই মাঠে- এই ঘাসে- কথাভাষাহীন

প্রশ্ন
১. জীবনানন্দ দাশ এ কাব্যগ্রন্থের নাম কী রেখেছিলেন?
২. কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কতটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
৩. ১৯৩৪ সালের কোন মাসে 'রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো রচিত হয়েছে বলে মনে করা হয়?
নিয়ম
পাঠক কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ৮ জুন মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।
কুইজ ১২-এর উত্তর
১. দ্বিতীয়।
২. 'লেটার পোয়েমস অব ইয়েট্‌স:দ্য ইনফ্লুয়েন্স অব উপনিষদ'।
৩. 'কোনো এক মাকে'

কুইজ-১২ এর জয়ী
মুয়ায আবদুলল্গাহ
মোহাম্মদী হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
লুৎফর কামারিয়া
চাড়িয়া বাজার, শ্যামগঞ্জ, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ।
মোহাম্মদ রোকন উদ্দীন
ঢাকা