পর্ব-১৩
[পূর্বে প্রকাশিতের পর]
'ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি' আর পাঁচটা রাজনৈতিক দলের মতো ততটা সংগঠিত ছিল না। অর্থাৎ, সাধারণভাবে রাজনৈতিক দলের যে কাঠামো থাকে সেটা এ দলের সবক্ষেত্রে ছিল না বা তখনও তৈরি হয়ে ওঠেনি। তারপরেও মোটামুটিভাবে একটা কেন্দ্র ছিল, যাকে ভিত্তি করে আরও বেশকিছু অঞ্চলে এর কমিটি গঠিত হয়েছিল। সব মিলিয়ে তেমন বড় কোনো পদক্ষেপ একে বলা না গেলেও এর গুরুত্ব হচ্ছে যে, স্বাধীনতার জন্য এটিই প্রথম সাংগঠনিক প্রচেষ্টা। প্রধান দুই সংগঠক আলী আসাদ এবং আব্দুর রহমান সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের নাম এই মুহূর্তে করতে পারি, যারা এই ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টিতে ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আর এ এম সাইদ, আক্তারুজ্জামান মতি মিয়া, আশরাফ হোসেন, এম এ খালেক, সুবোধ চন্দ্র দাস। আলী আসাদ ওরফে কালা খোকা ছিলেন জামালপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আব্দুর রহমান সিদ্দিক ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। আর এ এম সাইদ ন্যাপ করতেন। তিনি ছিলেন গফরগাঁও ভাসানী ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক। আক্তারুজ্জামান মতি মিয়া ছিলেন জামালপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আশরাফ হোসেন যিনি পরে জামালপুরের আওয়ামী লীগ সাংসদ (১৯৭০) এবং এমএ খালেক হয়েছিলেন নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ সাংসদ (১৯৭০)।
এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার কার্যক্রমের কয়েকটি পর্যায় হলো, তারা প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেয়- তারা জনমত সংগঠিত করবেন এবং ভারতে যাবেন। কেন তারা ভারতে যাবেন- তার একটি কারণ রয়েছে। কারণ তারা ভেবেছিলেন যে, ভারতের রাজনীতিকরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টিকে বুঝতে পারবেন এবং এ ব্যাপারে তারা সহায়তা করবেন। পরের বছর ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে ময়মনসিংহে আরেকটি শাখা কমিটি গঠন করা হয়। আর এ এম সাইদ তার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। এই নিয়ে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও পাঁচটি শাখা কমিটি ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি বহরমপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের মধ্যে একটি বড় নৌকায় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেখা যাচ্ছে, তখন তারা সাংগঠনিকভাবে প্রথম পর্যায়ের কাজগুলো করছেন।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এ সময় তারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ ক্ষেত্রে যেসব নাম পাওয়া যাচ্ছে, তার সবই যে নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য তা নয়। যেমন- শোনা যায় তারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মানিক মিয়া, আবুল মনসুর আহমদ, আতাউর রহমান খান, শেখ মুজিবুর রহমান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, হাতেম আলী তালুকদার, শামসুল হক, আলতাফ উদ্দিন তালুকদার- এমন আরও অনেকের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন; এবং মওলানা ভাসানীর সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ হবার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যটা অপেক্ষাকৃত কম পাওয়া গেলেও এটা পরিস্কার যে, ন্যাপ ভাসানী বা ন্যাপের লোকেরাও এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার মানে আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের কর্মীদের এটি একটি যৌথ প্রচেষ্টা। এসব বিষয় থেকে দেখা যাচ্ছে যে, তখন অন্য অনেক বিষয়ে মতদ্বন্দ্ব থাকলেও স্বাধীনতার প্রশ্নে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের মধ্যে ঐক্য বিরাজ করছিল।
আরও কিছু নাম শোনা যায়- কিন্তু তথ্যসূত্রের দিক থেকে অনেকটা গরমিল রয়েছে বলে খুব জোরালোভাবে বলা যাচ্ছে না। তবু ইতিহাসের খাতিরে নামগুলো উল্লেখ করছি। একটি নাম হলো সিরাজ সিকদার। বলা হচ্ছে যে, তিনি ঢাকা শাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু সেখানে সেই সিরাজ সিকদারের যে জন্ম তারিখটা আমরা পাই সেটা ১৯৪৪ সাল। সে অনুযায়ী ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে সে চৌদ্দ-পনেরো বছরের বালক। সুতরাং এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আরও একজনের কথা এসেছে, তিনি হচ্ছেন এম এ সাঈদ।
ভারতযাত্রা
ভারত অভিযানের সিদ্ধান্ত হলো। যেহেতু তাদের পক্ষে সে সময় পাসপোর্ট-ভিসার মাধ্যমে বৈধ পথে ভারত যাওয়াটা সম্ভব নয়, তাই সিদ্ধান্ত নেন যে, তারা গোপনে ভারতে যাবেন। তাদের সূত্রগুলো হচ্ছে ওপারের সেইসব রাজনীতিবিদরা যারা এক সময় এখানেও রাজনীতি করতেন।
আমার সাথে সাক্ষাৎকারে আব্দুর রহমান সিদ্দিক বলেছিলেন, পার্টির প্রথম সম্মেলনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার যে সিদ্ধান্ত হয়, সে উদ্দেশ্য নিয়ে তারা ১৯৫৯ সালের মার্চ মাসের দিকে ভারতের দিকে যাত্রা করেন। সেখানে আব্দুর রহমান সিদ্দিকের সহযাত্রী ছিলেন আলী আসাদ, আর এ এম সাইদ এবং খন্দকার ফাজলুর রাহমান। শেষোক্ত জন ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন, তার আদি নিবাস আসামের নওগাঁ। তাই সে হবেন এ অভিযানে তাদের পথঘাট চেনাবার সহায়ক।
প্রথমে মাইনকার চর হয়ে ধুবড়ি যান তারা। সেখানে তাদের স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলাপ হয়। তার মধ্যে সৈয়দ আহমেদ আলীই ছিলেন জেলা কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারি ছিলেন রিতেন দত্ত। সৈয়দ আহমেদ আলী পরে মন্ত্রী হয়েছিলেন।
অতঃপর যাত্রাপথে আব্দুর রহমান সিদ্দিকের দূরসম্পর্কীয় এক আত্মীয়র বাসায় কয়েকদিন অবস্থান করে কলকাতা যান তারা। সেখানে কলকাতা (অবিভক্ত) কমিউনিস্ট নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তারা। এদের মধ্যে ছিলেন মুক্তাগাছার রাজকুমার স্নেহাংশু আচার্য, তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেল। আর ছিলেন প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা মোজাফফর আহমেদ। এরা বলেন 'পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট নেতাদের সাথে কথা না বলে আমরা আপনাদের সমর্থন বা বিরোধিতা কোনোটাই করতে পারব না।'
তৎকালীন পশ্চিম বাংলা কংগ্রেস কমিটির সেক্রেটারির সাথেও আলাপ হয় তাদের। কংগ্রেস নেতা সুরেন ঘোষ বলেন, 'আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারি- তিনি রাজি হলে আপনাদের সাহায্য করতে পারেন।' পার্লামেন্ট অধিবেশন উপলক্ষে সুরেন ঘোষ তাদের দিল্লি নিয়ে গেলেন।
আব্দুর রহমান সিদ্দিকের ভাষ্যমতে, "তার (সুরেন ঘোষ) প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি পাকিস্তানের সাথে 'লিয়াকত-নেহরু প্যাক্ট'-এর কথা উলেল্গখ করে বললেন, 'যেহেতু এই চুক্তি আমি নিজেই স্বাক্ষর করেছি তাই আপনাদের (অস্ত্র) সাহায্যের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারব না- যতক্ষণ এটা বলবত আছে। আপনাদের কর্মসূচি আপনারা কার্যকর করার জন্য সর্বতোপায়ে চেষ্টা করতে পারেন। কারন সেটা আপনাদের নিজেদের রাজনৈতিক ব্যাপার।'
কিন্তু জহরলাল নেহরু সাহায্য দিতে অসমর্থ হলেও বাঙালি নেতাদের কাছ থেকে তারা উৎসাহ লাভ করেন। অতঃপর তারা দেশের উদ্দেশে দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরে আসেন। এর মধ্যে আলী আসাদ বিভিন্ন সূত্র থেকে ডিনামাইট ও বোমা তৈরির ফর্মুলা জেনে নেয়। স্নেহাংশু আচার্য ও অন্যান্য নেতারা নাকি কিছু অর্থ সাহায্যের সংস্থান করে দিয়েছিলেন। তা দিয়ে তারা কলকাতা প্রেস থেকে কিছু বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে নিয়ে দেশের পথে পা বাড়ান। উদয়নালার কাছে সহযাত্রী খন্দকার ফজলুর রাহমান হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যান। এক জায়গায় যাবার কথা বলে তিনি আর নেই। অতঃপর তারা তিনজনই রওনা হলেন। শিলিগুড়িতে আসার পর তাদের সাথে দেখা হলো চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের। চারু মজুমদার তখন চা বাগান শ্রমিক নেতা ছিলেন আর কানু সান্যাল শিলিগুড়ি কমিউনিস্ট সেক্রেটারি। তারা আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে সংগঠিত নতুন এই পার্টির নেতাদের। ভারত অভিযানে কমবেশি এই ছিল তাদের সফলতা। এরপর তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

দেশে ফেরা
দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তারা কোচবিহার থেকে ধুবড়ি হয়ে গারো পাহাড়ে আসেন। গারো পাহাড় হয়ে পথিমধ্যে মহেন্দ্রগঞ্জ থানার কাছে একটি বাড়িতে উঠেছিলেন তারা। সেখানে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের ধরে নিয়ে যায় মেঘালয়ের তুরায়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারে এক মাসের জেল হয়ে যায় তাদের। অপরাধ- বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত পারাপার। তবে তাদের সঙ্গে থাকা বিজ্ঞাপনগুলো দেখে গোয়েন্দা বিভাগে খবর দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা বিভাগের কর্তারা এসে গেলেন জেলখানায়। তারা এসে বিবৃতি নিলেন, বিজ্ঞাপন দেখলেন। সবকিছু দেখে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাদের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জেলে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেবার নির্দেশ দিয়ে যায়।
আবার দিন পনেরো পরে গোয়েন্দারা এসে হাজির, এবার তারা ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টির নেতাদের বললেন, 'ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আপনাদের সাহায্য করতে রাজি। আপনারা দেশে গিয়ে ভারতীয় হাই কমিশন অফিসে যোগাযোগ করবেন।'
এই গোয়েন্দারা আসলে আদিতে পূর্ববঙ্গের লোক ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা পূর্ববঙ্গের নেতাদের নৈতিক সমর্থন দেয়। এমনকি এক মাস পর জেল থেকে ছাড়া পেলে ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের সেই লোকজন তাদের বর্ডার পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। সময়টা ছিল গভীর রাত। তিন-চারটা হবে, যে পথে পাক সীমান্ত প্রহরী থাকবে না এমন নিরাপদ পথেই তারা তাদের দেশে ঢুকতে সহায়তা করে।
আব্দুর রহমান সিদ্দিক বলেন, 'আমরা তিনজনই প্রায় আধা মাইল বিলের গলা পানি ভেঙে বকশিগঞ্জ এলাম। সেখানে এসে আমার বন্ধু আশরাফ হোসেনের বাড়িতে উঠলাম। তিনি এখন (১৯৮৭) জামালপুর জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর। বন্ধুর বাড়িতে একদিন থেকে জামালপুরে ফিরেই শুনি আমাদের প্রত্যেকের নামে ওয়ারেন্ট। কেমন করে জানাজানি হয়েছিল জানিনা, সুতরাং আত্মগোপন করতে হলো। সাইদকে বাড়ি পাঠালাম। আলী আসাদ ও আমি ঢাকা চলে এলাম।'
ঢাকায় এসে আব্দুর রহমান সিদ্দিক গ্রেপ্তার হন, সাইদ গ্রেপ্তার হন গফরগাঁও থেকে এবং আলী আসাদ ভারতে আত্মগোপন করেন।
আলী আসাদের বোমা ও ডিনামাইট তৈরির কৌশল শেখার তথ্যটি থেকে এটা বোঝা যায়, ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি একটা সহিংস বা এক ধরনের গেরিলা আন্দোলনের কথাই ভাবছিল। তবে এসব প্রশিক্ষণ যতটুকুই নিয়ে আসুক না কেন, তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি তারা নিয়ে এসেছিলেন, তা হচ্ছে প্রচারপত্র। যে প্রচারপত্রগুলো পরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাকিস্তান সরকারকে এটা যথেষ্ট চমকে দেয়।
গ্রেপ্তার
এক মাস কারাবাসের পর ভারত থেকে ফেরত এসে তারা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বকশিগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের সরকার বাড়িতে মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের বাড়িতে ওঠেন। লক্ষণীয় যে, ততদিনে তাদের এই অভিযানের কথা আর গোপনীয় ছিল না। [উল্লেখ্য এই মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টির সাথে শুরু থেকেই সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি তখন জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। এর আগেও মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে এই ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্ট বা পার্টির অনেক সদস্য আত্মগোপনে থাকতেন। এই আশরাফ হোসেন ১৯৬৬ সালে ময়মনসিংহ জজকোর্টে আইন পেশা শুরু করেছিলেন। একই সাথে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত দেওয়ানগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জামালপুর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৭০ সনে আওয়াম লীগ থেকে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১ (বর্তমানে জামালপুর-১) থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। গত ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন।]
বিলের পানি দিয়ে তিনজন সীমান্ত পার হবার সময় ভারতে ছাপানো সেই প্রচারপত্রগুলো ভিজে গিয়েছিল। সেই ভেজা প্রচারপত্রগুলো আশরাফ হোসেনের বাড়িতে সেদিন রোদে শুকানো হয়। সেদিন সেখানেই অবস্থান করছিলেন তারা। কিন্তু রাতে হঠাৎ আশরাফ হোসেনের বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে পুলিশ। আলী আসাদ, আব্দুর রহমান সিদ্দিকদের ভিন্ন পথে বের করে দিতে পারলেও আশরাফ হোসেন গ্রেপ্তার হন। তবে বাড়ির নারীরা ভারতে ছাপানো অবশিষ্ট প্রচারপত্রগুলো সরিয়ে ফেলতে পেরেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর আশরাফ হোসেনেকে ময়মনসিংহে আনা হয়। তিন দিন তাকে ময়মনসিংহের গোয়েন্দা অফিসেই রাখা হয়েছিল। তবে প্রবল জেরার মুখেও তিনি অনড় ছিলেন। তিনদিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরেই আব্দুর রহমান সিদ্দিক ও এম এ সাইদ গ্রেপ্তার হন। তবে প্রচারপত্রগুলো জামালপুর, ময়মনসিং ও ঢাকায় বিতরণ করা হয়েছিল।
এ সবই আমি জানতে পারি ১৯৮০ সালে আব্দুর রহমান সিদ্দিকের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে। তবে এর অনেক তথ্যই যাচাইসাপেক্ষ হলেও অনেক ঘটনার বাস্তবতা নিঃসন্দেহে বিরাজ করছিল তখনকার পূর্ববাংলায়। পূর্বাপর বিবেচনায় এটা আমরা বুঝতে পারি যে, জহরলাল নেহরুর সাথে তাদের দেখা হয়ে থাকলে নেহরু তাদের সাহায্য না করলেও কিছু সাহায্য নিয়ে তারা দেশে ফিরেছিলেন। বলা যায় সেসব সাহায্যের সবই ছিল ক্ষুদ্র এবং ব্যক্তিপর্যায়ের বা অপ্রাতিষ্ঠানিক।
দেখা যাচ্ছে যে, জহরলাল নেহরু সর্বভারতীয় একটি পর্যায় থেকে রাজনীতির কথা ভাবছেন। তবে পশ্চিমবাংলার যে নেতারা ছিলেন তারা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে বা বাঙালি হিসেবে তাদের সাহায্যের কথাটি ভাবছিলেন।
[ক্রমশ]