- আত্মপ্রকাশলগ্নে কোনো প্রতিবন্ধকতার কথা মনে পড়ে?
-- না, লেখক হিসেবে আমার প্রবেশলগ্নেও কোনো প্রতিবন্ধকতা আমার পথ রুদ্ধ করেনি। শুরু থেকেই সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা ও প্রশ্রয় পেয়েছি। বিশেষ করে দৈনিক বাংলার ডাকসাইটে সাহিত্য সম্পাদক কবি আহসান হাবীবের প্রশ্রয় আমাকে আমার পরিচিতি অর্জনে সহায়তা করেছে। ১৯৮১-৮২ সালে তিনি আমাকে দিয়ে তাঁর পাতায় 'মধ্যদিনের জানালা' নামের একটি নিয়মিত কলামও লিখিয়েছেন।

-প্রথম বই প্রকাশের স্মৃতি?
-- একটি বিশেষ কারণে আমার প্রথম বই 'প্রতিবিম্বের মমি' বেরিয়েছে একটু দেরিতে। কবিতার বই প্রকাশ করতে পাণ্ডুলিপি নিয়ে গেলে প্রকাশকরা বলতেন- কবিতার বই চলে না; কবিতার বই তারা প্রকাশ করেন কবির টাকায়। আমি ভাবলাম নিজের টাকায় বই প্রকাশ করলে আত্মগ্লানিতে ভুগতে হবে যে, আমার লেখার কোনো মূল্য নেই! সুযোগ এলো ১৯৮৫ সালে। মডার্ন টাইপ ফাউন্ড্রির মালিক নাজমুল হক 'অনিন্দ্য প্রকাশন' নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা খুললেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন প্রথম বছর গল্প-উপন্যাসের সঙ্গে কবিতার বই বের করবেন মাত্র দুটি। ওদের পরামর্শক ছিলেন কবি আহসান হাবীব ও ড. হুমায়ুন আজাদ। ওদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশক সিদ্ধান্ত নিলেন তারা আমার এবং নাসির আহমেদের কবিতার বই বের করবেন। পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশক আমাকে ও নাসিরকে দুই হাজার টাকা দিলেন। খুশিমনে স্টেডিয়াম মার্কেটের ইসলামিয়া রেস্টুরেন্টে কাবাব-রুটি খেয়ে হাবীব ভাইয়ের জন্য এক প্যাকেট নিয়ে দৈনিক বাংলায় যাই।

-কোন বই বারবার পড়েন? কেন?
-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ। বিশ্বের কোনো কথাসাহিত্যিক তাঁর সমতুল্য নয়। তাঁর গল্পে আমি বাঙালির নয় শুধু, বিশ্বমানবের জীবনকে দেখি।

-এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
-- 'বাঙলা কবিতার আধুনিকায়ন' নামে আমার একটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে। রবীন্দ্র-উত্তর কবিদের হাত হয়ে ফরাসি কবি বোদলেয়ারের সূচিত আধুনিক কবিতার নির্মাণকলা কী প্রক্রিয়ায় আমাদের বাংলা কবিতায় এলো, তা বিশ্লেষিত হয়েছে বইটিতে। শওকত ওসমান তাঁর প্রকাশিত আলোচনায় বইটিকে বলেছেন 'একটি আবির্ভাব!'; শামসুর রাহমান লিখেছেন, 'কথায় কোনো ফাঁকি নেই, ভান নেই; স্পষ্ট তার উচ্চারণ অথচ ধৃষ্ট নয়'। হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন 'আবিদ আমাদের কবিতার বিয়য়গুলো চমৎকারভাবে বিশ্নেষণ করেছেন'; মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান লিখেছেন, 'বইটি যারা পড়েননি তারা বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত আছেন।' বইটির এখন তৃতীয় সংস্করণ চলছে। বর্তমানে আমি বইটির ইংরেজি ভার্সন তৈরির কাজে ব্যস্ত আছি। ইতোমধ্যে কিয়দংশ ডেইলি স্টার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়েছে। আশা করি বিদেশি পাঠকরা এই তথ্য জানতে মুখিয়ে আছেন। এছাড়া, আমার নির্বাচিত ১০০ কবিতার ইংরেজি অনুবাদেও হাত দিয়েছি।

-ব্যক্তিজীবনের এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি যা আপনাকে কষ্ট দেয়?

--গান লিখে সুনাম অর্জন করেছি; তবে নিজে তেমন গাইতে পারি না বলে কষ্ট পাই।

-আপনার চরিত্রের শক্তিশালী দিক কোনটি বলে আপনি মনে করেন?
 --যখন কোনো কাজ শুরু করি, শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে পারি না।

-নিজের সম্পর্কে বেশি শোনা অভিযোগ কোনটি?
-- বেশি বেশি কাজ করে শরীরের দিকে নজর দিই না।

- নিজের সম্পর্কে প্রিয়জনদের কাছ থেকে বেশি শোনা প্রশংসাবাক্য কোনটি?
-- অত্যন্ত ক্ষমাশীল
- কী হতে চেয়েছিলেন, কী হলেন?
-- হতে চেয়েছিলাম বিজ্ঞানী ও লেখক। মনে করি দুটিই হতে পেরেছি! বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম জীবনেই কৃষিজমির মাটি চেনার একটি সহজ কৌশল আবিস্কার করেছি এবং পুষ্টি ও কৃষিবিষয়ক জনহিতকর তথ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মতো স্বনির্ভর কার্যক্রম প্রণয়ন করেছি। এসবের জন্য ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতির পদকও পেয়েছি। আমার কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া, গান ও গল্প দুই বাংলার বিশিষ্টজনের নজর কেড়েছে। সাহিত্যিক শওকত ওসমান, সৈয়দ আলী আহসান, শামসুর রাহমান, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, ড. হুমায়ুন আজাদ, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, ড, মাহবুব সাদিক, অসীম সাহাসহ সব প্রজন্মের মেধাবী লেখক-আলোচক আমার রচনাকর্মের মূল্যায়ন করেছেন অকুণ্ঠচিত্তে।

-আপনার প্রিয় উদ্ৃব্দতি কোনটি?
--'নিজের ঢোল নিজে পিটাইবে, অন্যকে পিটাইতে দিলে কম-কম পিটাইবে কিংবা বেশি-বেশি পিটাইয়া ফাটাইয়া ফেলিবে'-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

-জীবনকে কেমন মনে হয়?
-- আমারই কবিতার ভাষায় বলি :'সুখেদুখে জীবন সুন্দর/কুষ্ঠরোগী হেসে ওঠে মিষ্টি কোনো স্মৃতির জোছনায়!'