পর্ব-১৫
১৯৫৮ সালের পরে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও তৎপরতা একটা সমন্বিত জোয়ারের দিকে এগোতে থাকে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা দেখা যেতে থাকে। এ ক্ষেত্রে অন্যতম যে বিষয়টির কথা স্মরণ করা দরকার তা হলো, এই তৎপরতায় মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে একেবারে ওপরের দিকের রাজনীতিকদের শামিল হতে দেখা যায়। তবে এখানে স্বাধীনতার জন্য এই তৎপরতায় দু'জন ব্যক্তির বিষয়ে তেমন কিছু শোনা যায় না- একজন হচ্ছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি স্পষ্টভাবেই পাকিস্তানপন্থি বা পাকিস্তানের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন; অন্যজন মওলানা ভাসানী। যদিও মওলানা ভাসানী কোনো স্বাধীনতা প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না, কিন্তু তার অনেক অনুসারী এই স্বাধীনতার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ 'ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি'র কথা বলা যায়।
এই সময় অর্থাৎ আইয়ুব খান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসা শুরু হয়। আইয়ুব খান দুটি রাজনীতির সঙ্গেই খেলা শুরু করেছিলেন। অর্থাৎ বাম ও মূল ধারার রাজনীতি। পাকিস্তানের সেই সময়কার রাজনীতিতে মার্কিন প্রভাব খুব প্রবল থাকায় এখানে বামপন্থি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর চাপটা ছিল বেশি। বামদের নানাভাবে অত্যাচার করা হতো। একই সঙ্গে মূল ধারার রাজনীতির নেতাদের বিরুদ্ধেও এটা চলেছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় দুর্নীতি আইনে। আইনটার নাম ছিল 'ইলেক্টিভ বডিস ডিসকোয়ালিফিকেশন অর্ডার' সংক্ষেপে এবডো। এই এবডোর মাধ্যমে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার একটা চেষ্টা শুরু হয়। সামরিক শাসকদের পক্ষ থেকে মূল ধারার রাজনীতির মধ্যে এই আওয়ামী লীগের ওপর যখন হাত দেয়া শুরু হলো, দেখা যাচ্ছে তখন স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনীতি সক্রিয় হচ্ছে। আওয়ামী লীগে তখন সোহরাওয়ার্দীর পরে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের মধ্যে সবচাইতে প্রাগ্রসরভাবে যিনি উঠে এসেছিলেন তার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ব্যাপার হলো যে, সোহরাওয়ার্দী এবং ভাসানী উভয়ের সঙ্গেই তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল। তবে রাজনৈতিক সুসম্পর্কটা সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যতটা ছিল, তার চাইতে বেশি ছিল মওলানা ভাসানীর সঙ্গে। যদিও তারা তখন আলাদা দলের সদস্য। মওলানা ভাসানী এবং শেখ মুজিব দু'জনই পূর্ববঙ্গের মানুষ। ভাসানী একেবারেই নিম্নবর্গের মানুষ হিসেবে উঠে এসেছেন- যদিও তার দেওবন্দে পড়ার মতো অবস্থা ছিল; আর শেখ মুজিব তো মধ্যবিত্তেরই মানুষ। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী কিন্তু ওপরতলার মানুষ ছিলেন। সোহরাওয়ার্দীর যে সংস্কৃতি- সেটা কিন্তু মওলানা ভাসানী বা শেখ মুজিব কারও সংস্কৃতির সঙ্গেই মেলে না। এটা মনে রাখা দরকার যে, এই তিনজনের যে রাজনীতি- তিনটা রাজনীতি কিন্তু এক ছিল না সেই সময়। তবে এর মধ্যে শেখ মুজিবের রাজনীতিকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি এ কারণে যে, ১৯৬২ সালের দিকে মওলানা ভাসানীকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা যাচ্ছে।

সেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে যারা ছিলেন, তাদের আমরা চিনি চীনা বাম হিসেবে; অর্থাৎ তৎকালীন চীনপন্থি বামেরা তার সঙ্গে ছিলেন। ১৯৬১ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাজতান্ত্রিক শিবিরে একটি ভাঙন শুরু হয়। চীনারা 'অ্যা প্রপোজাল কনসার্নিং দ্য জেনারেল লাইন অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিস্ট মুভমেন্ট' নামে যে বইটি লেখে, তাতে তারা সোভিয়েত রাশিয়াকে 'সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী' বলে আখ্যায়িত করে। এর মধ্য দিয়ে বামপন্থিদের মধ্যে বিভাজনটা শুরু হয়ে যায়। সেই বিভাজনের সময় মওলানা ভাসানীকে যারা অনেক বেশি সমর্থন করছিলেন তারা হচ্ছেন এই চীনপন্থি বামেরা। যদিও সোভিয়েতপন্থি-চীনপন্থি উভয় অর্থাৎ এক সময়ের অবিভাজিত বামপন্থিদের নিয়েই মওলানা ভাসানী রাজনীতি শুরু করেছিলেন ১৯৫৭ সালে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মওলানা ভাসানী নিজেই রাজনৈতিক কারণে চীনে গিয়েছেন, চৌ এন লাইয়ের সাথে সাক্ষাৎও হয়েছিল তার। সেই সাক্ষাৎকারটি পাওয়া যায়- সেখানে তিনি অনেক বেশি ভারতবিরোধিতার কথা বলছিলেন। মওলানা ভাসানীর এই ভারতবিরোধিতা কিন্তু কোনোদিন যায়নি। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ভারতবিরোধী ছিলেন। মওলানা ভাসানীর ভারত বিরোধিতা দেখতে হলে আমাদের মওলানা ভাষানীর রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। যেটি হচ্ছে আসামের বাঙাল খেদাও 'লাইন প্রথা' বা পূর্ববঙ্গের বিত্তহীন মানুষদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, আসামের একটি অংশ করিমগঞ্জকে পূর্ববঙ্গের সঙ্গে নিয়ে আসা- এই সমস্ত কিছু দেখলে বোঝা যায় যে, মওলানা ভাসানীর প্রধান যারা শত্রু ছিল, তাদের তিনি ভারতীয় বা কেন্দ্রীয় ভারতকে মনে করতেন।\হশেখ মুজিবুর রহমানেরও প্রধান শত্রু ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক এলিট শ্রেণি। কিন্তু সাতচল্লিশের পরে শেখ মুজিবের করাচিতে তার চেয়ে অনেক বেশি শত্রু তৈরি হয়ে যায়। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত মওলানা ভাসানী কিন্তু পাকিস্তান সরকারের বিরোধী ছিলেন এবং কাগমারীতে তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশে বলছিলেন যে, তোমরা যদি আমাদের কথা না শোনো তোমাদের আস্‌সালামুআলাইকুম করে দিবো। পূর্ববঙ্গের মানুষের পক্ষে প্রকাশ্যে এটাই পাকিস্তানকে প্রথম না-করে দেয়া। ভাসানী বলছেন যে, এরকম করলে তোমাদের সঙ্গে আমরা থাকব না। ১৯৫৮ থেকে '৬০ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের যত দলিল আমি দেখেছি, তাতে মওলানা ভাসানীকে বড় রকমের শত্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু '৬১ সালে যখন বামদের মধ্যে বিভাজনটা হচ্ছে- পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নত হতে শুরু করল। চীনারা সেসময় চরমভাবে ভারতবিরোধী। সেই সূত্রেও দু'দেশের মধ্যে মিলের একটা পরিসর ছিল, যা হচ্ছে ভারত বিরোধিতা। মওলানা ভাসানীও যেহেতু ভারতবিরোধী, তার সঙ্গে যে কমিউনিস্টরা রয়েছিল তারাও ভারতবিরোধী। এ সবকিছু মিলিয়ে চীনের প্রতি তার যে দুর্বলতা ছিল সেটা আরও প্রকাশিত হয় এবং স্বাধীনতার রাজনীতি থেকে কিছুদিন হলেও বিরত ছিলেন। বরং তার রাজনীতি তখন আরেকটু আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে ধাবিত হয়। এ রকম কয়েক বছর ছিল, যা পরে পাল্টে যায়। কিন্তু শেখ মুজিবের এ সমস্যা ছিল না। তিনি ভারত নিয়ে অত চিন্তা করছিলেন না। তার মনোযোগ ছিল পুরোপুরি পাকিস্তানের দিকেই। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উন্নত পাকিস্তানের চেষ্টা-চিন্তা করেছেন কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের তো উন্নত পাকিস্তানের জন্য চেষ্টা করার কিছু নাই, তিনি তো পাকিস্তানের সেই রাজনীতির অংশই না। তার রাজনীতি ভিন্ন। যে কারণে দেখা যায় ১৯৬২ সালে শেখ মুজিব তৎকালীন পরিস্থিতিতে রুশপন্থি কমিউনিস্ট পার্টির লোকদের সঙ্গে গিয়ে দেখা করছেন- স্বাধীনতার জন্য তাদের কাছে সহায়তা চাইছেন। এটা বড় কোনো প্রচেষ্টা না হলেও এর মৌলিকত্ব বা গুরুত্ব হচ্ছে যে, শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতার জন্য সাহায্য চাইছেন- তার মানে হচ্ছে মূল ধারার রাজনীতি তখন এটা চাইছে।

এই পরিস্থিতিতে 'ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন পার্টি' ছোট্ট একটা উদ্যোগ হলেও এ থেকে বোঝা যায় যে, তখন ফেনাটা উঠছে- স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দানা বাঁধছে। এবং শেখ মুজিবুর রহমান গিয়ে যখন এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তার মানে এটা তখন মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত। 'ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি' স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে ভারত গেল, শেখ মুজিবুর রহমান যাচ্ছেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে। তিনি সেখানে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে। খোকা রায়ের 'আমার দেখা রাজনীতির দুই দশক' বইটিতে এ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা অবশ্য শেখ মুজিবকে তখনও সোহরাওয়ার্দীর লোক ভাবছেন। কিন্তু শেখ মুজিব যে কখনোই সোহরাওয়ার্দীর লোক ছিলেন না, সেটা তার কার্যক্রম থেকেই বোঝা যায়। শেখ মুজিব নিজের লোক ছিলেন। এ বিষয়টা আমরা অনেক সময় ধারণা করতে পারি না। যেহেতু আমাদের ধারণা যে, আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতিটাই হচ্ছে অনেক বেশি মারফতি লাইনের, অর্থাৎ একজনের মারফতে আরেকজনের আসা। এখনও যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু শেখ মুজিব যে আলাদা একটা ভাবনা করে থাকতে পারেন, তা আমরা ভাবি না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এক জায়গায় বলেছিলেন- শেখ মুজিব আমার প্রধান শিষ্য; কিন্তু আমার প্রধান শিষ্য পাকিস্তানে বিশ্বাস করে না। আমি কথাগুলো এ কারণে বলছি যে, আমাদের পটভূমিটা পরিস্কারভাবে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। শেখ মুজিবের রাজনীতি যদি ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়, সেখানে দেখা যাবে এই রাজনীতিতে স্বাধীনতার বিষয়টিই প্রধান ছিল। মওলানা ভাসানীও এই রাজনীতির অংশ হিসেবে স্বাধীনতার কথাই তো ভেবেছেন। কারণ আমাদের তখনকার সমগ্র রাজনৈতিক বাস্তবতাই ছিল স্বাধীনতার জন্য।

কিন্তু সেই রাজনীতি যে স্বাধীনতার রাজনীতি ছিল- এটা আমরা মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। মানুষ এখনও মনে করেন যে, ১৯৪৭ সালে আমরা পাকিস্তানের অংশ হয়েছি, পরাধীন হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে এটা ছিল না, ১৯৪০ সালেরটাই ছিল প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা- যেখানে দুটি স্বাধীন দেশ হবার কথা ছিল। তখন মানুষ চায়নি যে, তারা পাকিস্তানের অধীনে থাকবে, তারা কেবল যৌথভাবে একটা আন্দোলন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাস্তবতাটা পাল্টে যায় ১৯৪৬ সালে। ছেচল্লিশে ১৯৪০ সালের দুটি স্বাধীন দেশের প্রস্তাবকে পাল্টে দিল্লিতে এক পাকিস্তানের যে প্রস্তাবটি, সেটি কিন্তু সোহরাওয়ার্দীই নিয়েছিলেন। তিনি বস্তুতপক্ষেই পাকিস্তানপন্থি মানুষ ছিলেন। কিন্তু শেখ মুজিব তা ছিলেন না, মওলানা ভাসানীও ছিলেন না। তখন দুটি স্বাধীন দেশের প্রস্তাব বদল করে ফেলার কারণে আমরা নিজেদের স্বাধীন দেশ পাইনি, কিন্তু স্বাধীনতার রাজনীতিও থেমে থাকেনি। স্বাধীনতার জন্য ধারাবহিকভাবেই রাজনীতি এগিয়ে গেছে একাত্তর পর্যন্ত।


মওলানা ভাসানী পাকিস্তানের চেয়ে মূলত চীনকেই বেশি সমর্থন করছিলেন। হয়তো-বা তিনি সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে রাজনীতি করতে চাইছিলেন না। ১৯৬১ সাল থেকে '৬৪ এই তিনটি বছর তিনি স্বাধীনতার রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। পরে আবার ফেরত এসেছিলেন সেই মূলধারার রাজনীতিতে।
বাষট্টিতে শেখ মুজিবুর রহমান কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করতে গেলেন, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি যেহেতু যথেষ্ট আন্তর্জাতিক কেন্দ্র নির্ভর দল। তাদের কেন্দ্রতো রাশিয়া। রাশিয়ার কাছে নেতারা পরামর্শ চাইলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তখন পাকিস্তানে এ রকম জঙ্গি রাজনীতির পক্ষে সমর্থন দিতে চাইলো না, তারা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি চালিয়ে যাবারই পক্ষপাতী ছিল। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাবার কথা বলল। অতএব শেখ মুজিবুর রহমান বামদের কাছ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পেলেন না। আছাদ্দার আলী- যিনি মোহাম্মদ তোহা সাহেবের পরে দল করতেন অর্থাৎ চীনা বাম ছিলেন, তিনি বলছেন যে, তিনি সেই বৈঠকে ছিলেন। তার ভাষায় শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন এ কথা বলেছিলেন যে, 'লিডারের [হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী] রাজনীতি লিডারের কাছে, আমার রাজনীতি আমার কাছে'। শেখ মুজিবের এ কথায় সেদিন তারা যথেষ্ট আশ্চর্যই হয়েছিলেন বলা যায়। অতএব সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে শেখ মুজিবের সম্পর্কটা যে রাজনৈতিক সুবিধার ব্যাপার ছিল, এটা খুব পরিস্কার। এবং শেখ মুজিব সব সময় সংগঠনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। সংগঠনের ভেতরে থেকেও যে আলাদা ভাবনা নিয়ে টিকে থাকা যায় সেটা শেখ মুজিব মনে করতেন। যেটা বামেরা মনে করতে পারেনি, মওলানা ভাসানীও পারেননি। আদর্শের কারণে সবসময় দল বা সাংগঠনিক কাঠামোকে ছেড়ে চলে যেতে হবে, এটা শেখ মুজিব কখনোই ভাবেননি। তিনি সংগঠনকে সব সময় ব্যবহার করেছেন এবং সফলভাবেই করেছেন। কারণ যখন রাজনীতিটা আবার ফেরত এলো, তখন তো ন্যাপের আর কোনো ভূমিকা নেই। তখন আওয়ামী লীগই প্রধান এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কোনো তুলনা হয় না, কখনো হয়ওনি। এইটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, সংগঠনের গুরুত্ব শেখ মুজিব যতটা বুঝতেন, অন্যরা ততটা বুঝতে পারেননি।

[ক্রমশ]